★ Grathor.com এ আপনিও ✍ লেখালেখি করে ভূমিকা রাখতে পারেন এবং পাশাপাশি অর্থ আয় করতে পারেন★এখানে ক্লিক করে বিস্তারিত জানুন★

আপনার ব্যবহৃত কম্পিউটারকে ভাইরাস মুক্ত রাখতে চান? তাহলে এই লেখাটি পড়া আপনার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূ্র্ণ।

বর্তমান সময় কম্পিউটার আমাদের জীবনের সাথে বিশেষ ভাবে জড়িত। প্রযুক্তির বিশেষ অবদানে কম্পিউটার ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে। তবে প্রযুক্তির বিশেষ আবিস্কার হচ্ছে কম্পিউটার, যা আমাদের জীবনকে বদলিয়ে দিয়েছে। বর্তমান বেশি ভাগ মানুষই কম্পিউটারের কাজ গ্রহন করে থাকে, কম্পিউটার থেকে সাধারনত আমরা নির্ভুল কাজ পেয়ে থাকি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহার বিশেষ গুুরুত্বপুর্ণ। আমরা আমাদের নানা কাজ কম্পিউটারের মাধ্যমে করে থাকি। বর্তমান বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ কাজ কম্পিউটারে মাধ্যমে হয়ে থাকে। বর্তমান এই যুগে কম্পিউটারকে ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। বর্তমান সময় অফিস, আদালত, স্কুল, কলেজ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এখন কম্পিউটারের মাধ্যমে নানা কাজ হচ্ছে। কম্পিউটার ব্যবহার না জানলে চাকরি ক্ষেত্রে বিশেষ ঝামেলায় পড়তে হয়। কম্পিউটার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ না থাকলে আমদের সরকারি বেসরকারি নানা চাকরি থেকে আমাদের বঞ্চিত হতে হয়ে। সারাবিশ্ব এখন বদলে গেছে কম্পিউটার ও মোবাইলে অনলাইন ব্যবহারের মাধ্যমে। কম্পিউটার ও অনলাইন ব্যবহারে মানুষ এখন ঘড়ে বসে অর্থ উপার্জন করে চলছে। তাই এর ব্যবহার জানা আমাদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আর এই কম্পিউটার ব্যবহার করে আমাদেরকে পড়তে হয় এর নানা সমস্যায়। তার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হচ্ছে কম্পিউটারে যখন ভাইরাস আক্রন্ত হয়। তখন নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয় আমাদের ব্যবহৃত কম্পিউটারে। আমারা যদি আমাদের ব্যবহৃত কম্পিউটাকে ভাইরাস মুক্ত রাখতে চাই, তাহলে আমাদেরকে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিতে হয়। কম্পিউটার ভাইরাস জিনিস টা কি? যারা জানে না তারা হয়তোবা ভাবছে, জীব ও মানুষের মধ্যে ভাইরাস প্রবেশ করে থাকে তাহলে কম্পিউটারেও কি? ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়!

হ্যাঁ কম্পিউটার ও ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে। ভাইরাস এমন একটা জিনিস যা প্রত্যেক শ্রেনী থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের জন্য অনেক বড় ক্ষতিকর। সাধারনত কম্পিউটারে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে কম্পিউটারে বিশেষ ক্ষতি হয়ে থাকে। যখন কম্পিউটার কোন ফাংশন কাজ করে না বা স্লো হয়ে যায়, System error দেখালে, বেশি বেশি অ্যাড দেখালে, হটাৎ করে ফাইল ডিলিট হয়ে গেলে,বার বার কম্পিউটার রিস্টার্ট হলে বা বিভিন্ন সমস্যা দেখালে তখন বুঝতে পারি কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করেছে। তারপরে আমরা কম্পিউটারকে ভাইরাস মুক্ত করার উপায় খুঁজে থাকি, আমরা অনেকেই তখন গুগোল বা ইউটিউবে সার্চ করে এর উপায় পাওয়ার আশা করে থাকি, কিন্তু যখন উপায় খুঁজে পাই না তখন হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ি। জনভন নিউম্যান হল একজন মার্কিন ‍যুক্তরাষ্ট্রের বিঙ্গানি। তিনি সর্বপ্রথম ১৯৪৯ সালে কম্পিউটার ভাইরাসের কথা বলেন। ভাইরাস আবিস্কারের পূর্বে বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইরাস আবিস্কার করার জন্য গবেষণা করা হয়ে থাকে। এলক ক্লোনার তার নিজের চেষ্ঠায় গবেষণাগারের বাহিরে কম্পিউটারে জন্য ভাইরাস তৈরী করেন। পরবর্তীতে ভাইরাসটি বিভিন্ন  কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসটির জন্য প্রোগামিং করেন সেই সময় রিচার্ড স্কেন্টা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল শিক্ষার্থী। তৈরী হওয়া এই ভাইরাসটি ছরাত ফ্লপি ডিক্সের মাধ্যমে। ১৯৯০ সালে শুরুতে ভাইরাস ছরাত কিন্তু তেমন কোন ইস্টং ছিল না, পরবর্তীতে সবচেয়ে বেশি বিপদজনক ভাইরাস আক্রমণ শুরু হয় ১৯৯৯ সালের দিকে এবং এই ভাইরাসটি তৈরী করেছে ডেভিড এল স্মিথ। সে একজন আমেরিকার নাগরিক। এই ভাইরাসটিকে সবচেয়ে বড় বলার কারণ এই ভাইরাসটি ই-মেইলের মাধ্যমে ছড়ায়।

কিভাবে কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করে:

১. ইন্টারনেট ব্যবহার করার মাধ্যমে: আপনি জানলে অবাক হবেন আপনি যদি কম্পিউটারে নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আপনার কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। সত্যি হলেও দুঃখ জনক ব্যাপার হল শতকরা কম্পিউটার ইউজারদের ইন্টারনেটের মাধ্যমে ৭৫% লোকের কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে থাকে। এই ভাইরাসগুলো হল যেমন: এডওয়ার, মালওয়ার, স্পাইওয়ার ভাইরাস ইন্টারনেটের মাধ্যমে কম্পিউটারে আাসে।


২. ইউএসবির মাধ্যমে: আমরা অনেক সময় মোবাইল, পেন ড্রাইভ, বিভিন্ন ডিস্ক ব্যবহার করে ফাইল কাপি করে কম্পিউটারে সংরক্ষিত করার সময় ভাইরাস কম্পিউটারে প্রবেশ করে থাকে।

৩. ই-মেইলের মাধ্যমে: আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেকের কম্পিউটারে তথ্য আদান-প্রদান করতে ই-মেইলের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সাধারনত ই-মেইলে ফাইল সেন্ট করার সময় এট্যাচমেন্টের মাধ্যমে ভাইরাস কম্পিউটারে প্রবেশে করে থাকে।

আমাদের মানব দেহের মতন অনেকটা কম্পিউটার ভাইরাস। ভাইরাস যেমন আমাদের এক জনের শরীর থেকে অন্য জনের শরীরে প্রবেশ করে তেমন কম্পিউটারের ভাইরাস একটি কম্পিউটার থেকে একটি কম্পিউটারে বা অধিক কম্পিউটারে প্রবেশ করে থাকে। মানব দেহের মতন কম্পিউটার ভাইরাস আকারে ছোট হয়ে থাকে। সময়ের সাথে সাথে কম্পিউটারের টেকনোলজি উন্নত হয়ে বিভিন্ন কম্পিউটারে আবিস্কার হচ্ছে, তেমনি ক্ষতির উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ভাইরাস তৈরী হয়েছে। যেমন: রেসিডেন্ট ভাইরাস, ফাইল বা প্রোগ্রাম ভাইরাস, ফ্যাট ভাইরাস, ম্যাক্রো ভাইরাস, বুট ভাইরাস ইত্যাদি। তাছাড়া ধরন অনুযায়ী কিছু ভাইরাসের নাম হল: Trojans-Trojans, Browser Hijackers, Overwrite virus, etc.


কম্পিউটারে ভাইরাস প্রতিকারে উপায়:

কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করলে, ভাইরাস মুক্ত করার জন্য কম্পিউটারে ভাইরাস স্ক্যান করলে বুঝতে পারবেন কিভাবে ভাইরাস প্রবেশ করেছে। তার জন্য আপনাকে ভালো মানের এন্টিভাইরাস ব্যবহার করতে হবে। কিছু এন্টিভাইরাস ফ্রীতে পাওয়া যায় যেগুলো ব্যবহার করলে হিতে বীপরীত হতে পারে। তাই সব সময় টাকা দিয়ে কিনে ভালো মানের এন্টিভাইরাস ব্যবহার করবেন। এগুলো আপনার কম্পিউটারকে বিশেষ সুরক্ষা ‍দিবে বিভিন্ন ভাইরাস থেকে। কিছু এন্টিভাইরাসের নাম হল: Quick Heal, Kaspersky internet security, Bit Defender, Norton, McAfee, Avast, Guardian Total security, Avg antivirus, K7 antivirus, Avira antivirus.

কম্পিউটারকে ভাইরাস মুক্ত রাখার উপায়:

বর্তমান সময় আমাদের কম্পিউটার ব্যবহার বিশেষ ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেকোন অফিস আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাজ এখন কম্পিউটার দ্বারা হয়ে থাকে। কম্পিউটারের দিকে তাকান যে কম্পিউটার আমাদের কতই না উপকার করছে। তবে সব কিছুর যেমন লাভ আছে তেমনি লোকসান ও আছে। যেমন: কম্পিউটার ভাইরাস যা আপনার কম্পিউটারে কন্ট্রোলে না রেখে অন্যজনের কন্ট্রোলে চলে যায়।

তাই আপনার কম্পিউটারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য যে কাজ গুলো আপনার করা উচিত তা নিচে আলোচনা করা হল:

* আপনি যদি অফিসের জন্য বা পার্সোনাল ভাবে কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন তহলে আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে একিট প্রিমিয়াম এন্টিভাইরস ব্যবহার কর।

* আপনার কম্পিউটারে নরমাল এন্টিভাইরাস ইনেস্টল করা থাকলে এন্টি ভাইরাস কাজ নাও করতে পারে, তাই সবচেয়ে ভালো হবে সিকউরিটি এন্টিভাইরাস ব্যবহার করা।

* আমরা বিভিন্ন সময় কম্পিউটারে মেমরি কার্ড ও পেন ড্রাইভ বিভিন্ন ফাইল যদি আদান প্রদান করে থাকি তাহলে সবসময় চেষ্ঠা করবেন ভাইরাস মুক্ত পেন ড্রাইভ ও মেমোরি কার্ড কম্পিউটারে প্রবেশ করানে। আর যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে এসব প্রবেশ করিয়ে স্ক্যান করে নিবেন।

* কম্পিউটার অন করার সময় run এ গিয়ে %temp%, temp, prefetch, tree লিখে সার্চ করুন যেগুলো দেখবেন সেগুলো ডিলিট করুন। tree বাটুন দ্বারা রিফ্রেস করুন।

* তাছাড়া কম্পিউটারে ব্যবহরের পর ভালোভাবে রিফ্রেস করুন। এবং ডিক্স ক্লিনাপ করুন ও ডিক্স ডিফারমেটার করুন যা আপনার কম্পিউটারকে ভালো রাখবে।

* এন্টি ভাইরাস দ্বারা কম্পিউটার ভালোভাবে স্ক্যান করুন। এবং উঠে আসা ভাইরাস সমূহকে ডিলিট করুন। আশাকরি আপনার কম্পিউটার ভালো থাকবে।

2 Comments

মন্তব্য করুন