★ Grathor.com এ আপনিও ✍ লেখালেখি করে ভূমিকা রাখতে পারেন এবং পাশাপাশি অর্থ আয় করতে পারেন★এখানে ক্লিক করে বিস্তারিত জানুন★

গল্পঃ এ শহরে আমি একা

গভীর রাত নিস্তব্ধ চারিদিকে।পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষ এখন নিদ্রায় নিমজ্জিত।কিন্তু আব্বাসের চোখে ঘুৃম নেই।বিছানায় এপাশ ওপাশ করছে।চাকুরিটা চলে গেছে কয়েকদিন আগে।কি করবে এখন কিভাবে চলবে সামনের দিনগুলো।গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা মা।তাদের কিভাবে টাকা পয়সা পাঠাবে।আর এই শহরে নিজেই বা চলবে কিভাবে।এসব ভাবতে ভাবতে মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনি কানে আসলো আব্বাসের।আর শুয়ে থাকা যায় না।নামাজ পার জন্য আব্বাস মসজিদে চলে গেল।

কথায় আছে অভাগা যেদিকে যায় সাগর সেদিকে শুকায়।আব্বাসের অবস্থা হয়েছে সে রকম।সে যে বাসায় থাকে তারাও আগামী মাস থেকে ভাড়া বাড়িয়েছে।একে তো চাকুরি নাই তার ওপর ভাড়া বেড়েছে।কি যে করবে কিছুই মাথায় ডুকছে না আব্বাসের।প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় চাকুরির বিজ্ঞাপন দেখে দেখে সময় পার হয় আব্বাসের।অবশ্য বেশ কয়েকটা ইন্টারভিউ ও দিয়েছে এর মধ্যে কিন্তু কোন কাজ হয়নি।শহরে তার তেমন একটা বন্ধু বান্ধব নেই। একজন ছিল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু সে বিদেশে গেছে লেখাপড়া করার জন্য প্রায় ৮/১০আগে।তারপর আর যোগা্যোগ হয়নি।এভাবে সাত পাঁচ ভেবে মগবাজারের গলি দিয়ে হাটতে লাগল আব্বাস।হঠাত তার সামনে একটা গাড়ি এসে থামল।ভিতর থেকে রায়হান বের হয়ে বলল আব্বাস কেমন আছিস।আব্বাসে বন্ধু রায়হান।অনেকদিন পর দেখা। 

রায়হান আমেরিকার একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে।ওখানেই সেই বিয়ে শাদী করে সেটেলড।অনেক বছর পর মা বাবার সাথে দেখা করতে এসেছে।আব্বাসের যে চাকরি নাই এ কথা শুনে সে খুবই মর্মাহত হল।পরে বলল,আমার ফুফাত বোনের একটা টেক্সাইল কোম্পানী আছে দেখি তোকে ওখানে কোন ব্যবস্থা করে দিতে পারি কিনা।আব্বাস রায়হানের কথা শুনে কিছুটা ভরসা পেল।


আবিদ টেক্সাইল কোম্পানীর মালিক ছিলেন রায়হানের ফুফাত বোনের স্বামী। উনি মারা গেছে কয়েক বছর হল।তিন বছরের একটা ছেলে আছে ওনার। আবিদ সাহেবের স্ত্রী রায়হানের ফুফাত বোন মিশৌরি ই কোম্পানী দেখা শুনা করেন। উনি রায়হানের দুই বছরের বড়।স্লিম ফিগার।গায়ের রং উজ্জল শ্যামলা। তবে ওনার চোখ দুটি অসম্ভব সুন্দর। দেখলেই মায়া লাগে। রায়হান বলল,আপু আমার এই বন্ধুকে তোমার একটা চাকরি দিতে হবে তোমার এখানে।অর্থনীতিতে এম,এ।ছেলেও খুব ভাল।আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু।উত্তরে মিশৌরি বলল,আচ্ছা দেখি কি করা যায়।আগামী কাল দশটায় দেখা করতে বলে উনি কি যেন একটা মিটিং আছে বলে চলে গেল।রায়হান আব্বাসকে বলল,আশাকরি কিছু একটা হয়ে যাবে বলল আব্বাসকে।

মিশৌরি জান্নাতের ব্যক্তিগত সহকারি হিসেবে কাজ পেল আব্বাস।বেতন মোটাামুটি ভালই।এভাবে কয়েক মাস কেটে যাওয়ার পর একদিন ম্যাডাম আব্বাসকে বাসায় যেতে বলল, কি যেন একটা কাজ আছে।আব্বাস বাসায় গেল।নিচে অনেকখন অপেক্ষা করার পর একজন মহিলা তাকে উপরে নিয়ে গেল।সামনা সামনি মিশৌরি বসে আব্বাসকে বলল,আমি আপনাকে একটা কথা বলতে চাই।আব্বাস বলল,জি বলুন।মিশৌরি বলল,আমি একা এ কোম্পানী সামাল দিতে নানান রকম টেনশনে আছি। আর পারছি না।তাছাড়া আমি মহিলা মানুষ সব ব্যাপার সামাল দিতে পারছি না।আমি আপনাকে আমার পাশে চাই।মানে চিরদিনের জন্য।আব্বাস ব্যাপারটা বুঝতে পারলো মিশৌরি ম্যাডাম আব্বাসকে বিয়ে করতে চায়।তাছাড়া আব্বাসের বস আবার বয়সেও একটু বড়।বিপদের দিনে আমাকে আমাকে চাকুরি দিয়ে সাহায্য করেছে।আব্বাস বলল আমি ভেবে আপনাকে জানাচ্ছি।উওরে মিশৌরি বলল,না আপনি এখনি আমাকে সিদ্ধান্ত দিন।আব্বাস কি করবে কি বলবে তা বুঝে উঠতে পারছে না।অগত্যা মনের অজান্তেই মিশৌরির দায়িত্ব  নিটে রাজি হয়ে গেল আব্বাস। এ শহরে সে একা ছিল এখন তার একটা অবলম্বন হয়েছে।