নতুন বছর উদযাপনে আনন্দের বন্যা

শেষ হয়ে গেলো আরেকটি বছর। অবশেষে বিদায় নিলো ২০২০। অনেকে একে অঘটনের বছরও বলছেন। সে যাই হোক, নতুন বছর চলে এসেছে। প্রতিবারের মতো এবারও আনন্দের ছাপ ছিলো চারদিকে। যদিও সীমিত পর্যায়ে সব আয়োজন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
 
বলা হয়ে থাকে, নতুন মঙ্গলের বার্তা বয়ে আনে। সেই সুন্দর দিনের আশাতেই সবাই মিলে বরণ করে নিয়েছে ইংরেজি নতুন বছর ২০২১কে। সময়টা কেমন যাবে, ভালো কি মন্দ, সেই হিসেব আপাতত তোলা থাক। তবে জনসমাগম নিষিদ্ধ করাসহ ইংরেজি নববর্ষ পালনে বেশ কিছু নিয়ম জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। তা সত্ত্বেও আনন্দ করতে তো আর বাঁধা নেই! ফানুস, আতশবাজি, পটকাসহ আলোর ঝলকানিতে সারা আকাশ ঝলমল করছিলো!
 
বিভিন্ন পাবলিক এরিয়া বা জায়গাগুলোতে জনসমাগম আর উৎসব, অনুষ্ঠান পালনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাড়ির ছাদ তো রয়েছে। সেখানে থেকেই রাজধানী শহরের বেশিরভাগ বাসিন্দাদের আনন্দ করতে দেখা গেছে। তবে তাদের বক্তব্য ছিলো- এবার অন্যবারের তুলনায় কম শোরগোল ছিলো। বিগত বছরগুলোতে নাকি আরও বেশি মজা হতো। সেটা হতেই পারে কারণ মহামারির আতঙ্ক এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তাছাড়া সাবধানতা অবলম্বনের কোনো বিকল্প হতে পারে না।
 
সীমিত পর্যায়ে হলেও একটা খুব বাজে সময় পার করার পর সবার মনই যেন একটুখানি আনন্দ করতে চাইছিলো। খুশি হতে চাইছিলো। তাই এবারে যে যার যার মতো করে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে।এছাড়া বারবিকিউ পার্টি, নাচ, আড্ডা, চড়ুইভাতি, বনভোজন আর বছর শেষে ঘুরতে যাওয়া তো আছেই। বড় বড় হোটেল, রেষ্টুরেন্ট, কফিশপ আর ফুডকোর্টগুলোতে আজকে লোকসমাগম ছিলো। তারাও বলছেন- বিগত বছরগুলোতে আরও বড় করে আয়োজন করা হতো। এবারে স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে স্বল্প পরিসরে আয়োজন করা হয়েছে। এমনকি বছর শেষে বিক্রি নিয়ে খুব বেশি সন্তুষ্ট নয় বিক্রেতারা। যদিও গত বছর অনেকটা সময় ছুটি বা বন্ধের মধ্য দিয়ে কেটেছে। তাই নতুন করে শীতের ছুটির আমেজ এবার আর পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাতে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হবার পর ছুটির মজা, গ্রামে যাওয়া, নতুন ক্লাস, নতুন বই এসবের আনন্দ কিছুটা মলিন হয়ে গেছে। তবুও স্বস্তি পেতে চাইছে যেন সবার মন।
 
কথায় আছে- সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। অনেকগুলো দুঃসংবাদ আর অনেক খারাপ সময় পেরোনোর পর অবশেষে নতুন বছর এসেছে। এই বছরে যাতে মহামারির প্রকোপ থেকে পৃথিবী মুক্তি পেতে পারে এটাই সবার চাওয়া। অনেকে বলছে- মানুষ সামাজিক জীব। সেই হিসেবে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাটা কারোর জন্যেই সহজ নয়। এমনকি স্বাভাবিক জীবনের ধারাটাও বদলে গেছে এই চলমান মহামারির কারণে। পুরো বছর জুড়েই চাকরি হারানো, লোকসান আর মৃত্যুর খবরে সয়লাব ছিলো পত্রিকার পৃষ্ঠাগুলো!
 
সবশেষে এতকিছুর পরেও সবার চাওয়া এটাই যে, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক পৃথিবী আর আমরা সবাই যেন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারি!
 
সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা।



Eshrad Ahmed
আমি লেখালেখি করতে খুব ভালোবাসি। এটা আমার কাছে নেশার মতো।