Connect with us
★ Grathor.com এ আপনিও ✍ লেখালেখি করে আয় করুন★Click Here★

মুক্ত মতামত

বাংলাদেশের সংশোধিত সংবিধান  ১৯৭২ থেকে ২০১৯ ।

Published

on

 

সময়ের চাহিদা ও প্রয়োজনে জনগণের কল্যাণার্থে সংবিধানের সংশোধন, পরিবর্তন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়ে থাকে । বাংলাদেশ সংবিধানের দশম ভাগে ১৪২ নং অনুচ্ছেদে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ঠ নিয়ম ও পদ্ধতির কথা উল্লেখ রয়েছে । বাংলাদেশের সংবিধান এ পর্যন্ত জুলাই ২০১৭ – ১৬ বার সংশোধিত হয়েছে । নিম্নে বাংলাদেশের সংবিধানের সংশোধনীসমূহ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হল –

১। প্রথম সংশোধনীঃ প্রথম সংশোধনীর শিরোনাম হচ্ছে সংবিধান (প্রথম সংশোধন) আইন, ১৯৭৩ । বিলটি সংসদে পাশ হয় ১৫ জুলাই, ১৯৭৩ । প্রথম সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু ছিল ‘গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনে অন্যান্য অপরাধ’ এর বিচার ও শাস্তি অনুমোদন ।

২। দ্বিতীয় সংশোধনীঃ দ্বিতীয় সংশোধনীর শিরোনাম হচ্ছে সংবিধান (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন ১৯৭৩ । সংসদে বিলটি পাশের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩ । দ্বিতীয় সংশোধনীর দ্বারা জরুরি অবস্থানকালীন সময়ে নাগরিকদেরও কতিপয় মৌলিক অধিকার স্থগিত করা হয় ।

৩। তৃতীয় সংশোধনীঃ তৃতীয় সংশোধনীর শিরোনাম সংবিধান (তৃতীয় সংশোধন) আইন, ১৯৭৪। সংসদে  বিলটি পাশের তারিখ ২৮ নভেম্বর, ১৯৭৪ । তৃতীয় সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় ও সীমান্ত রেখা সংক্রান্ত একটি চুক্তি কার্যকর করা ।

৪। চতুর্থ সংশোধনীঃ চতুর্থ সংশোধনীর শিরোনাম সংবিধান (চতুর্থ সংশোধন) আইন ১৯৭৫ । সংসদে পাশের তারিখ ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫ । চতুর্থ সংশোধনীর দ্বারা সংসদীয় শাসন পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসন পদ্ধতি এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতি প্রবর্তন করা হয় ।

৫। পঞ্চম সংশোধনীঃ পঞ্চম সংশোধনীর শিরোনাম সংবিধান (পঞ্চম সংশোধন) আইন ১৯৭৯ । বিলটি সংসদে পাশের তারিখ ৬ এপ্রিল, ১৯৭৯ । পঞ্চম সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা থেকে শুরু করে ৫ এপ্রিল, ১৯৭৯ সালে সামরিক সরকারের যাবতীয় কর্মকান্ডের বৈধতা দান ।

৬। ষষ্ঠ সংশোধনীঃ ষষ্ঠ সংশোধনীর শিরোনাম ছিল সংবিধান (ষষ্ঠ সংশোধন) আইন ১৯৮১ । বিলটি সংসদে পাশের তারিখ জুলাই, ১৯৮১ । ষষ্ঠ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল উপ-রাষ্ট্রপতির পদ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের বিধান নিশ্চিত করা ।

৭। সপ্তম সংশোধনীঃ সপ্তম সংশোধনীর শিরোনাম হচ্ছে সংবিধা (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ । বিলটি সংসদে পাশ হয় ১১ নভেম্বর, ১৯৮৬ । সপ্তম সংশোধনীর বিষয়বস্তু ২৪ মার্চ, ১৯৮২ থেকে ১১ নভেম্বর, ১৯৮৬ পর্যন্ত সামরিক শাসকের অধীনে যে সকল আদেশ জারি হয় তা বৈধতা দান ।

৮। অষ্টম সংশোধনীঃ অষ্টম সংশোধনীর শিরোনাম ছিল সংবিধান(অষ্টম সংশোধন) আইন, ১৯৮৮ । বিলটি সংসদে পাশ হয় ৭৮ জুন, ১৯৮৮ । অষ্ঠম সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা । এছাড়া ঢাকার ইংরেজি বানান Dacca  থেকে Dhaka এবং Bengali এর নাম Bangla করা হয় ।

৯। নবম সংশোধনীঃ নবম সংশোধণীর শিরোনাম ছিল সংবিধা (নবম সংশোধন) আইন, ১৯৮৯ । এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি পদেও মেয়াদ এক ব্যাক্তির জন্য সর্বোচ্চ পরপর দুই মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় । এছাড়াও প্রয়োজন হলে জাতীয় সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগের বিধান করা হয় ।

১০। দশম সংশোধনীঃ দশম সংশোধনীর শিরোনাম সংবিধান(দশন সংশোধন) আইন, ১৯৯০ । বিলটি সংসদে পাশ হয় ১২ জুন, ১৯৯০ । দশম সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল- সংসদে নারীদের জন্য পরবর্তী ১০ বছরের জন্য ৩০ টি আসন সংরক্ষণ করা ।

১১। একাদশ সংশোধনীঃ একাদশ সংশোধনীর শিরোনাম সংবিধা (একাসশ সংশোধন) আইন, ১৯৯১ । বিলটি সংসদে পাশ হয় ৬ আগস্ট, ১৯৯১ । একাদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদের পূর্ববর্তী পদে ফিরে যাবার বিধান ।

১২। দ্বাদশ সংশোধনীঃ দ্বাদশ সংশোধনীর শিরোনাম সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯১ । বিলটি সংসদে পাশ হয় ৬ আগস্ট, ১৯৯১ । দ্বাদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় শাশন ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন ।

১৩। ত্রয়োদশ সংশোধনীঃ ত্রয়োদশ সংশোধনীর শিরোনাম সংবিধান ৯ এয়োদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯৬ । সংসদে বিলটি পাশ হয় ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ । ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন ।

১৪। চতুর্দশ সংশোধনীঃ এ সংশোধনীর শিরোনাম (চতুর্দশ সংশোধন) আইন ২০০৪ । বিলটি সংসদে পাশ হয় ১৬ মে , ২০০৪ । চতুর্দশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল পরবর্তী ১০ বছরের জন্য ৪৫ টি নারী আসন সংরক্ষণ । এছাড়াও এই সংশোধনীটি রাষ্ট্রপতি  ও প্রধানমন্ত্রী প্রতিকৃতি সরকারি আফিস সমূহ সহ অন্যান্য নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের বিধান করা হয় ।

১৫ । পঞ্চদশ সংশোধনীঃ পঞ্চদশ সংশোধনীর শিরোনাম ছিল সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন ২০১১ । বিলটি সংসদে পাশ হয় ৩০ জুন, ২০১১ । পঞ্চদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল ।

১৬। ষোড়শ সংশোধনীঃ ষোড়শ সংশোধনীর শিরোনাম সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) আইন, ২০১৪। বিলটিই সংসদে পাশ হয় ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ । ষোড়শ সংশোধনীর বিষোয়বস্তু ছিল বিচারপতিদের অভিশংসন বা অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেয়া ।

বাংলাদেশের সংবিধান জাতীয় এবং জনগণের স্বার্থে এখন পর্যন্ত ১৬ বার সংশোধিত হয়েছে । ভবিষ্যতে হয়তো সংবিধানের আরো সশোধনী হতে পারে । তবে তা অবশ্যই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধন সম্পন্ন হতে হবে ।

লিখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করে পরিচিতজনদের জানতে সাহায্য করুন । আর এমন আরো লিখা পেতে আমাদের সাথেই থাকুন ধন্যবাদ ।

Advertisement
Click to comment

You must be logged in to post a comment Login

Leave a Reply

মুক্ত মতামত

কলঙ্কময় পৃথিবী

Published

on

সভ্যতার আধুনিক তম সংস্করণে বাস করছি আমরা । আর এই সংস্করণে বা অত্যাধুনিক পৃথিবীতে এসে আমরা অনেক গুলো বিষয় শুরু করেছি ।  আমরা এখন সচেতন, প্রাচীন কুসংস্কার থেকে । আর এসব সচেতনতা আমাদের কে অনেক অংশে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে । শুনতে অবাক লাগলে ও , এটাই নির্মম বাস্তবতা । অত্যাধুনিক এই পৃথিবীতে আমরা আজ ধর্ম কর্ম সব ছেড়ে দিয়ে রোবটিক হয়ে পড়েছি । সব জায়গায় যন্ত্র নির্ভরতা আমাদের কে দুর্বল করে তুলছে । আমরা ধর্ম কে ভাবি কুসংস্কার তূল্য । অথচ ধর্ম ই সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানময় । ধর্ম থেকেই বিজ্ঞান এর উৎপত্তি । বিজ্ঞান ক্রমবর্ধমান  ও পরিবর্তন শীল । অপর দিকে ধর্ম হচ্ছে অপরিবর্তনীয় । ধর্ম ই বিজ্ঞান এর মূল । ‌বিজ্ঞান হচ্ছে একটা গাছ । যে গাছ এর শিকড় বা মূল হচ্ছে আল কুরআন । আর তার ডাল পালা হচ্ছে বিজ্ঞান । মূল অর্থাৎ আল কুরআন হতে বিজ্ঞান অর্থাৎ ডাল পালার উৎপত্তি । অথচ সামান্য তম বিজ্ঞান আল কুরআন এর অনেক বিধান কে হেয় করে যা অত্যন্ত নিন্দনীয় । অবশ্যই বিজ্ঞান কারা নিয়ন্ত্রণ করছে তা দেখা মুখ্য বিষয় ।

অত্যাধুনিক এই সভ্যতায় বিজ্ঞান আমাদের উপহার দিয়েছে মরনাস্ত্রময় সভ্যতা , যার ফলে এই সুন্দর সভ্যতা হয়ে উঠেছে নরকতুল্য । অত্যাধুনিক এই সভ্যতায় যারা গনহত্যা চালায় তারা ই আবার শান্তির বাণী শোনায় ।  যার পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ কে হত্যা করে তারাই আবার শান্তির জন্য জাতিসংঘ গঠন করে। যারা একের পর এক পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় তারা ই আবার শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যরা যাতে পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে না পারে তার জন্য অর্থনৈতিক, কুটনৈতিক, বানিজ্যিক নানা নিষেধাজ্ঞা ছুটে দেয় । অথচ ২০০ বছর আগে যারা ছিল অন্যদের দাস । আসলে শান্তি প্রতিষ্ঠা তাদের উদ্দেশ্য নয় , তাদের উদ্দেশ্য আধিপত্য বিস্তার করা । এই পৃথিবীতে এক শ্রেণী নিজেদের আধিপত্য এর জন্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য সভ্যতা ধ্বংস কারী সব মরনাস্ত্র তৈরি যাচ্ছে । পৃথিবী আজ ধ্বংসের ধারে প্রান্তে উপনীত হয়েছে ‌ । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‌সময় দেখিয়ে ছিল ধ্বংস লীলা কতটা ভয়াবহ । যার ফলাফল অভিশপ্ত হিরোশিমা ও নাগাসাকি । হয়ে গেছিল সেদিন মৃত্যুর মিছিল আর একপক্ষ করেছিল জয়ের উল্লাস । সে উল্লাস এ মদ, হিরোইন , ফেনসিডিল কিসের ই বা কমতি ছিল ? এ তো তাদের মহা বিজয় । আধিপত্য ও সাম্রাজ্যের কাছেই তো তাদের জীবন পণ ‌।
তারাই প্রতিষ্ঠা করেছে সাধুবেশী ভন্ডসংঘ ওরফে জাতিসংঘ । পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য এক নির্লজ্জ ঘোষণা যে নিজেদের ভূমির অর্ধেক, জনসংখ্যায় নিজেদের ৪ ভাগের এক ভাগ জনসংখ্যার উদ্ভাস্তূ , আশ্রিতদের বিনা শর্তে স্বাধীনভাবে দিয়ে দিতে হবে । সাবাস জাতিসংঘ ! সাবাস ! এক কলঙ্কময় অধ্যায় রচনার জন্য । এভাবে ই মানবের সুখ দুঃখে স্বার্থ রচিয়া যাও !

Continue Reading

মুক্ত মতামত

তবে এবার বই এর জয় হোক!

Published

on

বই পড়ার কথা বললে অনেক এর শরীরে ১০৪° জ্বর উঠে যায় । বই পড়ার কথা বললে মনে হয় যুদ্ধের ঘোষণা করা হয়েছে আর প্রতিপক্ষ হচ্ছে বই । এর অবশ্যই কারন আছে আর তা হলো বই এর প্রতি আমাদের অনীহা । কেউ আমাদের কে বই পড়ার পরামর্শ দিলে তাকে আমরা অকর্মার দলে ফেলে দিই । আমরা যদি একবার বই এর প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করতে পারি তবে বই এর প্রতি আমাদের আগ্রহ ক্রমান্বয়ে জন্মাবে । একটা বই একটা ভালো বন্ধুর থেকে কোন অংশে কিছু তেই কম নয় । একজন ভালো বন্ধু যেমন , আমরা যখন খারাপ কাজ করি বা ভূল কাজ করতে যাই তখন আমাদের বাঁধা দেয় , তেমনি একটি ভালো বই আমাদের মধ্যে বিবেক বোধ তৈরি করে । আর এই বিবেক বোধ আমাদের কে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে ।

বই পড়া কোন আধুনিক শখ নয় । বই পড়া কিংবা বই এর চর্চা সেই প্রাচীন কাল থেকেই । প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ জ্ঞান বিজ্ঞান এর প্রসার এ বই লেখা ও চর্চা করতো । বই পড়া কে কেন্দ্র করে নানা সভ্যতাই গড়ে উড়েছিল অসংখ্য গ্রন্থাগার । সভ্যতার ধ্বংস স্তুপ থেকে আজ ও নানা ধরনের গ্রন্থে , গ্রন্থের পান্ডুলিপি উদ্ধার করা হচ্ছে । বই কে কেন্দ্র করে জ্ঞান বিজ্ঞান এর বিশাল সাম্রাজ্য তৈরি হয়েছে । অথচ আমরা সেই জ্ঞান বিজ্ঞান এর প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়েছি । অবশ্যই তার ও একটি পরিচিত কারন আছে । আর তা হলো অনীহা , বই পড়ার প্রতি অনীহা । যা আমাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর । জ্ঞান বিজ্ঞান এর সাম্রাজ্যে বিচরণ করতে হলে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই ।

সদ্য প্রয়াত পলান সরকার, যিনি আমাদের জন্য রেখে গেছেন তার নিঃস্বার্থ আদর্শ । যিনি কিনা মানুষ কে বই পড়ার জন্য উৎসাহিত এবং আগ্রহী করার জন্য নিজের টাকা দিয়ে বই কিনে গ্রামে গ্রামে মানুষ এর ঘরে গিয়ে বই দিয়ে আসতেন কোন স্বার্থ ছাড়া । আসলেই তিনি বই নিয়ে ঘুরতেন না, ঘুরতেন এক ঝুলি আলো/জ্যোতি নিয়ে । যে আলো মানুষ কে পশুত্ব থেকে মনুষ্যত্বে বদলে দিতে পারেন । তার এই জ্যোতি শক্তি এতো টাই শক্তিশালী ছিল যে তার প্রৌঢ়ত্ব কে হার মানিয়েছে । সেই পলান সরকার আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন । আসলে আমরা হারিয়ে ফেলেছি একজন আলোর ফেরিওয়ালা কে । যিনি গ্রামের পর গ্রাম হেঁটে হেঁটে আলো ফেরি করতেন বিনামূল্যে , নিঃস্বার্থে । হয়তো বা আমরা আর কোনো আলোর ফেরিওয়ালা কে পাব না , কিন্তু জ্ঞান ফেরি করার আদর্শ টা আমাদের কাছে চির টা কাল রয়ে যাবে, এই প্রত্যাশা রাখি । আজ বই এর জয় গান গাই ।
সবাই কে ধন্যবাদ এতোক্ষণ সময় নিয়ে পুরো আর্টিকেল টি পড়ার জন্য ।

 

আরো পড়ুন

ফিরে দেখা কিছু মুহূর্ত

Continue Reading

মুক্ত মতামত

চাকরি পাওয়া কি আসলেই সোনার হরিণ

Published

on

By

বর্তমান সময়ে চাকরির বাজারে হাহাকার কথাটি সকলের মুখে প্রায় শুনা যায়। চাকরি পাওয়া বর্তমানে সোনার হরিণ হয়ে দাড়িয়েছে। চাকরি পাওয়া যেকোনো যুদ্ধ জয় করার থেকে কোন অংশে কম নয়।

প্রতি বছর লাখো লাখো তরুণ প্রজন্ম শুধুমাত্র একটি চাকরি পাওয়ার জন্য হাহাকার করে। কত তরুন যে শুধুমাত্র একটি চাকরি পাওয়ার জন্য আত্নহত্যার পথ বেছে নিয়েছে তার কোন ইওত্তা নেই। প্রতি বছর শুধুমাত্র একটি চাকরির অভাবে অনেক তরুন হতাশায়  ভুগে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছে তার হিসাব জানা  নাই।

বাবা মা অনেক আশা করে তার সন্তানকে সুশিক্ষা দান করেন এই ভেবে এই সন্তান তার খেয়াল রাখবে।পরবর্তীতে এই সন্তান তার লাঠি হয়ে দাড়াবে। শুধুমাত্র একটি চাকরি পাওয়ার অভাবে সকল স্বপ্নের ইতি ঘটে।

আমাদের দেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এই দেশে তাই চাকরির বাজার খুবই সীমিত। প্রতি বছর লাখো লাখো তরুন পড়ালেখা শেষ করে চাকরির বাজারে নেমে পড়ে শুধু এই ভেবে যদি চাকরিটা পেয়ে যায়।

কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি আসলে সমস্যাটা কোথায়? কেনইবা আমরা চাকরি পাচ্ছিনা? ভালো গ্রেড থাকার পরও কেন চাকরি পাচ্ছিনা আমরা?কথাটি খুবই সহজ।সঠিক যোগ্যতার অভাব।

আমরা আসলেই চাকরি না পেয়ে নিজেদের শিক্ষা ব্যাবস্থা,চাকরি বাজার সবশেষে সরকারকে দোষারোপ করি।কখনো কি ভেবে দেখেছি আসলে দায়টা কার?শুধু বাকিদের উপর দোষ দেয়ার মাঝে নিজেদের সফলতা ভাবি।

আসলে আমরা নিজেদের অযোগ্যতা দেখিনা। শুধুমাত্র ভাল সিজিপিএ পেলে হবে না। বরং একটা চাকরি পাওয়ার জন্য নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।যোগ্যতা ছাড়া কখনোই কোন ভাল চাকরি পাওয়া যায়না।প্রতিবছর হাজার হাজার সিভি রিজেক্ট করা হয় শুধুমাত্র যোগ্যতার অভাবে।

যুগে যুগে কালে কালে গুনিদের কদর সকল জায়গায় সমাদৃত। মনে রাখবেন আপনি যদি যোগ্য এবং পরিশ্রমী হন কেউ আপনার চাকরি পাওয়া আটকানোর সাধ্য কারোর নেই।    তাই চাকরি পাবার আগে অবশ্যই নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলুন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ টি বছর গতানুগতিক শিক্ষার পাশাপাশি নিজের মধ্যে কিছু স্কিল অর্জন করার চেষ্টা করুন।দেখবেন পড়াশোনা শেষ করার পর আপনাকে চাকরির পিছনে ঘুরতে হবেনা।চাকরি আপনাকে ঠিক খুজে নিবে।

Continue Reading