জিবনে সফল হতে চাইলে পোস্টটি পড়ুন,আশা করি ভালো লাগবে

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

আপনি কি জীবনে সফল ব্যক্তি হতে চান? তাহলে মনে রাখুন এই কয়েকটি টিপস !

কেমন আছেন সবাই , আশা করি সবাই ভালো আছেন 

আবারো আপনাদের মাঝে ফিরে এলাম আরেকটি অন্যরকম একটি পোষ্ট নিয়ে , এই কথাগুলো আপনাকে জীবন চলার পথে অনুপ্রেরণা যুগাবে । আপনাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে, আপনাকে সফল করবে । 

 

<

প্রথমেই বলে নিচ্ছি , কথাগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগ্রিহিত তাই আপনি অন্য কোন বল্গের সাথে এর মিল থাকতে পারে ।

সফল হতে কে না চায়? আর সফল হওয়ার জন্য আমরা কত কিছুই না করি। সাফল্য যেন সোনার হরিণ  সবাই ছুটছে তার দিকে । সবার মনে প্রশ্ন, হরিণের দেখা মিলবে কবে ?

তবে ভুলে যাবেন না, সফল হতে হলে সর্ব-প্রথম মানসিকভাবে আপনাকে শক্ত হতে হবে। পরিস্থিতি সব সময় আপনার অনুকূল থাকবে, তা ভাববেন না। পরিস্থিতি কিন্তু প্রতিকূলও হতে পারে। আর সেই কথা মাথায় রেখেই যে কোন কাজ করা উচিত।

আসুন দেখে নেই মার্কিন লেখক, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা জেমস অ্যালটুচ্যার কোরা ডাইজেস্টে তাঁর পোস্টে সফল হওয়ার কিছু উপায় নিয়ে বলেছেন।

স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবেঃ
শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যের সঙ্গে কিন্তু আমাদের অভ্যাসগুলো জড়িত। খুব সহজে বদভ্যাসে জড়িয়ে পড়া যায়, সুঅভ্যাসের জন্য সময় দিতে হয়। সাফল্যের জন্য শরীরের যত্ন নিতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে জোর আনতে হবে। সৃজনশীলতার বিকাশে নজর দিতে হবে। নেতিবাচক মানুষ ও পরিবেশ এড়িয়ে চলতে হবে।

সবকিছুই আজকের বিষয়ঃ
ভবিষ্যৎ কিংবা অতীত বলে তেমন কিছু নেই, বিষয়টি আপেক্ষিক। সাফল্যের জন্য আপনাকে আজ কাজ করতে হবে। আজ যদি কাজ ভালো করেন তাহলে কিন্তু দারুণ একটি ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। আর যদি আজকের দিনটিতে আপনি কোনো কাজই না করেন, তাহলে কিন্তু আগামীকাল বলবেন আমার অতীতটা তেমন ভালো কাটেনি। চেষ্টা করুন প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্ত নিজের জন্য কাজ করতে। কাজের সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও নিজের উন্নতির জন্য ঘড়িতে সময় রাখার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিদিন ১ শতাংশ হলেও নিজেকে বদলে ফেলার চেষ্টা করতে পারেন।

হ্যাঁ-না বলুন ভেবেচিন্তেঃ
সফল ব্যক্তিরা হ্যাঁ-না বলেন ভেবেচিন্তে। বুদ্ধিবৃত্তিক কিংবা সৃজনশীল যেকোনো সুযোগ মিললে হ্যাঁ বলুন। আনন্দ কিংবা মনন বিকাশ হতে পারে এমন কাজকে সব সময়ই হ্যাঁ বলা শিখুন।

সরলভাবে ভাবুন, শিখুনঃ
সবকিছুকে সাধারণভাবে ভাবতে শিখুন। শিশুরা সবকিছু সরলভাবে ভাবার চেষ্টা করে বলে তারা জীবনের সরলতা খুঁজে পায়। তাদের মতো ভাবার চর্চা করুন। নিয়মিত ধ্যান করার অভ্যাস করলে আপনার ভাবনাশক্তি ও সৃজনশীল মনের জোর বাড়বে।

পড়তে হবে অনেকঃ
মানুষ হিসেবে আমরা সবাই সবকিছু জানি না। জানার জন্য বই পড়তে হবে। ফিকশন, নন-ফিকশন সব ধরনের বই পড়তে হবে।

বহুমাত্রিক সাফল্যের জন্য চেষ্টা করুনঃ
মার্কিন ধনকুবের ওয়ারেন বাফেট তরুণদের এক জায়গায় বিনিয়োগ করতে পরামর্শ দেন না। তিনি অনেক জায়গায় বিনিয়োগের পরামর্শ দেন, যেন একটি বিনিয়োগে ব্যর্থ হলেও অন্য জায়গায় সামনে এগোনোর সুযোগ থাকে। একটি বিষয়ে সাফল্য এলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অন্য বিষয়ে মনঃসংযোগ করুন। আমেরিকায় মিলিয়নিয়ররা কমপক্ষে পাঁচটি ভিন্ন রকমের সূত্র থেকে অর্থ আয় করেন। আপনি কর্মজীবনে সাফল্যের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অথচ উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকলেও পড়ছেন না, কিংবা আপনার লেখালেখির শখকে মাটি চাপা দিয়ে রেখেছেন। সফল যাঁদের আমরা উদাহরণ হিসেবে দেখি তাঁরা কিন্তু কখনোই একটি বিষয়ে আটকে থাকেননি।

ভয় বনাম জড়তাঃ
আপনি সবার সামনে কথা বলতে ভয় পান। আবার যা বলতে চান তা ঠিকমতো বলতে পারেন না। সফল ব্যক্তিরা নিজের ভয়কে জয় করতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আপনি যে বিষয়ে ভয় পান, সে বিষয়টিকে ভয় হিসেবে মনে করলে আজীবনই তা আপনার জন্য জড়তা। ভয় কাটিয়ে জড়তা এড়িয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

 

তবে মানসিক ভাবে শক্ত হওয়ার জন্য নিজের মনকেই সবার আগে স্থির করতে হবে। কিন্তু অনেকেই মনের জোড় না বাড়িয়ে নিজের ভাগ্যকেই দোষারোপ করতে থাকেন। তবে ভাগ্যকে দোষারোপ না করে নিজের মনের জোড় বাড়াতে চেষ্টা করুন।

তাহলে মনের জোর বাড়াবেন কিভাবে? আসুন তবে জেনে নিই কিভাবে বাড়ানো যায় মনের জোর। 

১। নিজের প্রতি দুঃখিত না হওয়াঃ নিজের প্রতি কখনওই দুঃখিত বোধ করবেন না। নিজেকে আহারে বলার কোনও দরকার নেই এতে আপনার সময়ই নষ্ট হবে। আখেরে আপনার কোনও লাভ হবে না। সেখান থেকে উঠে দাঁড়ান। কাজে দেবে।

২। লক্ষ্যে স্থির হওয়াঃ আপনার পাশে যদি কেউ না দাঁড়ায় তাহলে ভয় পাবেন না। নিজেই নিজের সব থেকে বড় লাঠি হয়ে দাঁড়ান। যদি কেু আপনার সঙ্গে চলতে না চায় তাহলে একলাই চলুন। সাফল্য পাওয়ার পর কারোর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে হবে না।

৩। পরিবর্তনকে ভয় না পাওয়াঃ আপনার রোজকার জীবনে যদি কোনও পরিবর্তন ঘটে তাহলে ভয় পাবেন না। জানবেন সব পরিবর্তন আপনার প্রতি এক একটা চ্যালেঞ্জ। তাই ভয় না পেয়ে পরিবর্তনকে আপন করে নিন।

৪। তাদের না পারা কাজ না করাঃ ধরুন এমন কাজ যা আপনার ঠিক পছন্দ নয়। তাই আপনি ঠিক পারবেন না। এমনকি আপনার মনে কাজের প্রতি অতটা কনফিডেন্ট নেই। তখন সেই কাজ না করাই ভালো। যে কাজ আপনি মন থেকে ভালবাসেন সেই কাজ করুন।

৫। অন্যের কথার গুরুত্ব না দেওয়াঃ কে কি বলল তাতে আপনার কি! কারোর কথায় গুরুত্ব দেওয়া ছেড়ে দিন। নিজের জীবন কীভাবে কাটাবেন, কী কাজ করে ভালো থাকবেন তা একান্ত আপনার সিদ্ধান্ত। আপনার জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব অন্য কারোর হাতে কখনওই দেবেন না।

৬। ভাগ্যকে দোষারোপ না করাঃ কি হয়নি তা নিয়ে বেশি ভাবনা চিন্তা করার দরকার নেই। কি হতে পারে সেই নিয়ে ভাবনা চিন্তা করুন। তাতে আপনার সময়ও বাঁচবে এবং নিজের মনোবলও বাড়বে।

৭। একই ভুল বার বার না করাঃ একই ভুল বার বার করার কোনও মানেই হয়না। বার বার একই ভুল করতে থাকলে আস্তে আস্তে নিজের মনোবল ভেঙে যাবে। তাই একই ভুল বারবার না করে ধীরে সুস্থে কাজ করুন।

৮। অন্যের খুশিতে খুশি না হওয়াঃ অন্যের খুশিতে খুশি হওয়ার চেষ্টা করুন। মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখুন। দেখবেন আপনার সাফল্যতে এবং খারাপ সময় অনেকের সঙ্গ পাবেন। তবে যদি অন্যের খুশিতে খুশি না হন তাহলে আপনি ভেঙে পড়বেন।

৯। প্রথমবার সফল হতে না পেরে ভেঙে পড়াঃ যদি প্রথময়ার সফল হতে না পারেন, তাহলে আবার চেষ্টা করুন। দেখুন চেষ্টা না করলে কেউই কখনও সফল হতে পারে না। তাই প্রথমবার যদি কোনও ভাবে সফল হতে না পারেন তাহলে ভেঙে না পড়ে শক্ত হয়ে উঠে দাঁড়ান।

১০। একাকীত্বকে ভয় না পাওয়াঃ আপনার সঙ্গে কেউ না থাকলেও একাকীত্বকে ভয় পাবেন না। যদি খারাপ সময় কেউ আপনার পাশে দাঁড়াতে না চায় তাহলে ক্ষতি কি। একাই পরিস্থিতির মোকাবিলা করুন। দেখবেন এতে আপনার মন যেভাবে শক্ত হবে তা কখনওই ভাঙা যাবে না।

১১। ধীর স্থিরভাবে কাজ করাঃ যখন পরিস্থিতি আপনার অনুকূল না হবে, তখন ধীর স্থিরভাবে কাজ করুন। তাড়াহুড়ো করে কাজ করলে কিছুই হবে না। অনেক ভুল হয়ে যাবে। তাই পরিস্থিতি আপনার প্রতিকূল হলে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করুন।

১২। কাজের পর নিজেকে জাহির না করাঃ আপনি আপনার লক্ষ্যে স্থির থাকুন। যাতে কেউ না আপনাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে পারে। সফল হওয়ার পর নিজেকে জাহির করবেন না। কারণ নিজের ঢাক নিজে না পেটানোই ভালো। এতটা আপনার নিজের পক্ষেও খুব একটা ভালো হবে না।

 

আশা করি উপরক্ত কথাগুলো আপনাকে সফল করতে সাহায্য করবে আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে 

অনেক কথা বলেছি , আর বেশী কিছু বলব না ; পোষ্টটা পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ।

আবারো ধন্যবাদ সবাইকে ,

Related Posts

9 Comments

মন্তব্য করুন