Connect with us
★ Grathor.com এ আপনিও ✍ লেখালেখি করে আয় করুন★Click Here★

গল্প

তবু আজ ভালোবাসা হোক

Muntasir Nahiyan

Published

on

ওই ওই মার হারামজাদাকে।ওই শালারপুতরে ধর।

বাসার দিকে যাচ্ছিলাম এমন সময় মাঝ রাস্তায় কিছু লোক একটা ছেলেকে দৌড়িয়ে দৌড়িয়ে মারছে।পুরো রাস্তায় জ্যাম লেগে গিয়েছে গন্ডগোলের কারনে।
আমি এসবের থেকে সবসমই দূরে থাকি। না না মারপিট করতে ভয় পাই এমনটা নয়! কেন যেন এসবে অনিহা চলে এসেছে। আহ! বিগত দিনগুলো মনে করলে খুব আরামবোধ হয় আবার বিরহে ভেসে যায় এ মন।উফ ছেলেগুলো এখনো মারছে লোকটিকে। না লোকটিকে ছুটিয়ে আনা প্রয়োজন।
ওদের কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই তাদের চিনতে পারলাম,ভার্সিটি থাকাবস্থায় আমার সাথেই রাজনীতি করেছিলো,জুনিয়র আমার। তাদের কাছে যেতেই মইনুর আমাকে চিনতে পেরে সালাম দিয়ে পাশে দাঁড়ালো। বাকিরাও খুব কষ্টে চিনতে পেরেছে,যাক তবু তো চিনেছে।আমার বেশভূষা দেখে মাঝে মধ্যে আমি নিজেই দ্বন্দ্বে পড়ে যাই। সে যাই হোক,
তাদেরকে প্রশ্ন করলাম,

– মইনুর এখানে কি সমস্যা? রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে হট্টগোল করছো কেন আর এই লোকটিকে মারছো কেন?

– ভাইয়া এ লোকটা বিপক্ষ পার্টির,সায়েদ ভাইকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেছে তার আইডি থেকে।

– ব্যাস হয়েছে।আর মারবে না,চলে যাও।সাইদের সাথে আমি কথা বলবো।

– জ্বী আচ্ছা ভাইয়া। ভাইয়া আপনি ভালো আছেন তো?

– হ্যা ভালোই আছি!

– আচ্ছা ভাইয়া আমরা আসি।ভালো থাকবেন।
তারা চলে যেতেই লোকটিকে নিয়ে রাস্তার পাশের একটি টঙে গিয়ে বসলাম।দু কাপ চা অর্ডার করলাম এমন সময়ই সায়েদের কল।
কল রিসিভ করতেই,

– কিরে নাহিয়ান,অনেক বড় নেতা হয়ে গেছোস তাই না!

– সায়েদ কি বলতে চাচ্ছিস সোজাভাবেই বল!

– আমার বিরুধী পক্ষের লোককে আমারি কর্মীদের হাত থেকে বাঁচালি।তুই কি সব ভুলে গেছোস?

– সায়েদ,আমি আগের মত ওসব করি না জানিস তুই তাই এসব বলা বাদ দে।আর ভুলে গিয়েছিস তুই,ভুলে যাইস না তোকে রাজনীতি আমি শিখিয়েছি।এটা মাথায় রাখবি আর আমি সাবেক হয়েছি মাত্র বছর দুয়েক হলো।
এখনো আমি শত শত ভাই তৈরি রেখেছি।এরা মানুষের উপকার করতে জানে, অপকার নয়।

– তোর ভুল নাহিয়ান। তোর দোষেই আজ তোর এ অবস্থা। কেন ওসব গড্ডালিকা প্রবাহে এগিয়ে গিয়েছিলি।নাহলে আজ আমার জায়গায় তুই থাকতি,আমরা সবাই তোকেই আশা করেছিলাম। কিন্তু তুই…

– সায়েদ আমি এসব নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না,আমি সব ভুলে একটু ভালো থাকতে চাচ্ছি।
আর তুই একটু আগেই বললি তোরা আমাকেই চেয়েছিলি তোর পদে তাহলে ভেবে আমার জায়গায় আমিই আছি,আমার আদর্শ অনুসরণ কর।এভাবে মাঝ রাস্তায় কোনো মানুষকে আঘাত করা আমার আদর্শে নেই।

– হ্যা ভুল হয়ে গিয়েছিলো। পরের থেকে আর এমন হবে না।

– হুম,ভালো থাকিস।
ফোন রেখে লোকটির দিকে তাকাতেই দেখি উনি আমার দিকে তাকিয়েই আছেন।
উনিও কি আমাকে কোনো বনমানুষ ভাবছেন কিনা তা নিয়ে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই।
উনাকে প্রশ্ন করলাম,
– ভাই কি দেখছেন এমন ভাবে!

– ভাই আপনিই কি নাহিয়ান,মুনতাসির নাহিয়ান।যার দাপটে পুরো চট্টগ্রাম কেঁপে উঠতো।যার বজ্রকণ্ঠে শুধু মানবসেবার বুলি বের হতো!

– নাম তা ছাড়া বাকি সবই অতীত ভাই।
সমাজ কাউকেই স্থায়ী দেখতে চায় না,এ এক কঠিন নিয়মতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা। আপনি কারো ভালো চাইলে আপনার আপনজনই আপনাকে তা করতে বাঁধা দেবে।

– দাদা আপনার সম্পর্কে আমি অনেক শুনেছি। আসলে আমি সুদূর হতে শুধু আপনার কাছেই এসেছি।কিন্তু এখানে আসার পর সায়েদ আহমেদকে নিয়ে অনেক কটু মন্তব্য শুনে তার নামে কথা বলেছিলাম। তাই সে আমাকে মারার জন্যে লোক লাগিয়েছিলো তবে যত মারই খেয়ে থাকি না কেন আপনার দেখা পাওয়াতে আমি অনেক আনন্দিত।

– আপনি যেসব বলছেন তা সত্যই আমায় লজ্জায় ফেলে দিচ্ছে!

– দাদা আপনি আমাকে সাহায্য করুন। কোনো নেতা,কোনো পুলিশ কি প্রশাসন আমাকে সাহায্য করতে পারবে না আপনি ছাড়া!
দয়া করে সাহায্য করুন।

– আমি এক নগণ্য আদিমী। আমি কিভাবেই বা সাহায্য করতে পারি বলুন।

– আপনার থেকে এ আশা করিনি দাদা,যে মানুষের জন্য রাতের পর রাত খেটেছে,নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে শুধুই মানুষের উপকার করেছে আজ সেই ব্যক্তিই তা অতীত বলে নিজের কর্তব্য থেকে সরে যাচ্ছে।

লোকটিকে আসলে কে? আমার সম্পর্কে এত কিছু কিভাবে জানলো আর কিইবা সাহায্যের জন্য আমাকে তার প্রয়োজন!আচ্ছা শুনেই দেখা যাক। আমি উনাকে নিয়ে ভার্সিটি চলে এলাম। আমাকে অনেকদিন পর দেখে আমার প্রিয় অনুজরা দৌড়ে এলো স্বাগত জানাতে।দূর হতে লক্ষ্য করলাম কিছু পুরোনো আমার বিরুধী রক্তবর্ণ চোখে তাকিয়ে আছে,হয়তো সংশয়ে আছে আমার আসার উদ্দেশ্যে।
এসব পাত্তা না দিয়ে আমি লোকটিকে নিয়ে সোজা বিশাল মাঠের এক কোণে গিয়ে বসলাম। চায়ের ব্যবস্থা করে নিয়েছি প্রিয় অনুজকে দিয়ে কারন চা ছাড়া আমার কোনো কিছুতেই ভালো লাগে না,আর কথোপকথনে চা একটি বিশেষ ভূমিকা রাখে বলে আমার ধারণা। ফ্লাক্স থেকে চা ঢেলে আয়েশ করে একটা সিগারেট ধরালাম। দু টান দেয়ার পর উনাকে সাহায্যের কথা বিস্তারিতভাবে বলতে বললাম।
– জ্বী আচ্ছা,আমার পরিচয় থেকেই নাহয় শুরু করা যাক। আমার নাম গোপাল রায়,বাড়ি যশোর।ওখানে একটি ফার্মেসি আছে আমার।
বাড়িতে একটিই মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে ছোট সংসার।সবই ভালো চলছিলো।মেয়ের ছোট থেকেই চট্টগ্রামে পড়াশুনার ইচ্ছে,বুঝেনই তো একমাত্র মেয়ে হলে যা হয় তাই মেয়েকে ইন্টারেই এখানকার একটি ভালো কলেজে ভর্তি করিয়ে দেই,হ্যা মেয়ের পয়েন্ট ভালো থাকার কারনে কোনো সমস্যা হয়নি। ইন্টারে খুব ভালো ফলাফলের কারনে এখানেই ভর্তি হতে পেরেছিলো। পড়াশুনায় ভালো তাই অধ্যাপকদেরও প্রিয় হতে লাগলো সে। এখানে ভর্তি হয়ার দ্বিতীয় বছরেই এখানের একটা ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছিলো। জানেন আমার মেয়ে ছোট থেকেই আমাকে মিথ্যে বলেনি তাই তার সম্পর্কের কথাও লুকিয়ে রাখেনি,ঠিকই বলে দিয়েছিলো আমাকে। ছেলেটির চট্টগ্রামে অনেক দাপট ছিলো,রাজনৈতিক কারনে তাকে সবাই ওস্তাদ মানতো। ভালো ছেলে ছিলো সে,অন্যায়ের প্রতিবাদে কখনোই পিছপা হতো না।
সময় পেড়োতে লাগলো আর তাদের সম্পর্ক আরো গভীর হতে লাগলো। একে অপরকে খুবই ভালোবাসতো তারা। গ্রাজুয়েশনের শেষ সময়ে এসে মেয়ে বললো ছেলেটিকে নিয়ে বাড়িতে আসবে। আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে। আমার মেয়ের হাসি মুখ দেখার বাসনায় তাকে বলে দেই এই ছেলের সাথেই তার বিয়ে দেবো। আমার মেয়ে খুশিতে আটখানা। ছোট ছোট কারনেই খুশি হয়ে যেত।জানেন তার হাসি ছিলো অতুলনীয়, এমন হাসি দেখার জন্য দুইজন মানুষ দিন রাত এক করে ফেলতে পারতো। এক আমি তার বাবা আর অপরজন ছিলো সেই ছেলেটি।
কিন্তু জানেন সুখ হয়তো সবার ভাগ্যে জোটে না। আমার মেয়ের কপালেও ছিলো না। আর তার সাথে জড়িয়ে যাওয়া আরো তিনজনেরও না। তার মা,আমি আর সে ছেলেটি।
একটি সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিতে পারে শুধুই তৃতীয় কোনো ব্যক্তি। শেষ বর্ষে গিয়ে আমার মেয়ের একটা বেস্ট ফ্রেন্ড হয় না ছিলো অনিক। আমার মেয়ের সাথেই একই ডিপার্টমেন্টে পড়তো। তার সাথে সখ্যতা গড়ে উঠেছিলো আমার মেয়ের আর তাই কাল হয়ে দাঁড়ালো। একদিন আমার মেয়ের প্রেমিক ক্যাম্পাসে আসতে দেরি করছিলো আর এমন সময় তার বেস্ট ফ্রেন্ড অর্থাৎ অনিকের সাথে দেখা। অনিক তাকে হাত ধরে ক্যাম্পাসের ভেতরে নিয়ে গিয়ে বেঞ্চে বসিয়ে এক হাত ধরে গল্প করছিলো। জানেন আমার মেয়েটা না অনেক বোকা ছিলো যার কারনে ওর এই হাত ধরা অবস্থায় তার প্রেমিক এসে দেখে ফেলে।
প্রেমিকের অনেক রাগ উঠে যায়, তার ব্যক্তব্য ছিলো যাকে এতোটা ভালোবেসেছিলাম সেই প্রতারণা করলো। প্রেমিক তা সহ্য করতে না পেরে মেয়েকে কষে এক থাপ্পড় মেরে দিলো, তা দেখে যখন অনিক বাঁধা দিতে এলো তখন অনিককেও বেধড়ক মারধর করলো।
আপনি কিছু বলছেন না যে!

– আমার চোখে তখন নোনাজলের বৃষ্টি হচ্ছে আর অবাক হচ্ছি এসব শুনে।উনার প্রশ্নের জবাবে শুধু বললাম আপনি বলুন আমি শুনছি।

– আচ্ছা বেশ বেশ। প্রেমিকের শেষ কথা ছিলো, তুমি আমার সাথে এমনটা কেন করলা আমি জানি না আর তোমাকে এই নিয়ে প্রশ্নই করবো না। দয়া করে আমার সামনে আর কখনো আসবে না। কত বোকা মেয়ে,একবারো বলেনি যে সে ভুল করেনি,যা দেখেছো সব ভুল। যদি ওইদিন এমনটা বলতো তাহলে আজ হয়তো সবই সুখের হতো।
জানেন এখান থেকে বাড়ি যাওয়ার আগে পর্যন্ত একবারো থেমে যায়নি তার কান্না। না সে কান্না ছিলো না,তা ছিলো প্রবল অভিমান ও বুকের ভেতরের চাপা কষ্ট যা নোনাজল হয়ে ঝড়ছিলো। বাড়িতে এসে দুইদিন কাউকেই কিছু বলে নি তবে মশাই জানেন তো মেয়েরা বাবাদের কাছে কিছুই গোপন করে না। য়হিকই আমাকে বলেছিলো। এরপর থেকে আমার মেয়ে একদম চুপ,আমার সেই পুরোনো মেয়েটা সে হাস্যজ্বল বাচ্চাটি বুকের ভেতরে তার প্রেমিকের দেয়া কষ্ট গুলো লালন করতে লাগলো। আমাদের বাড়ির পেছনে ছোট একটা নদী আছে,প্রতিদিন বিকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত যে গালে তার প্রেমিক থাপ্পড় মেরেছিলো ওই গালটি চেপে বসে থাকে। একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম কেন এভাবে বসে থাকে? সে বলেছিলো এ গালে আমার ভালোবাসার মানুষের ছোয়া আছে। আমি অনেকবার তাকে বলেছিলাম চল তোর প্রেমিকের সাথে কথা বলে আসি, তুই না হলেও ওকে আমি বুঝিয়ে নিয়ে আসি।কিন্তু প্রতিবারই তার জবাব না বোধক ছিলো। সে বলছিলো তার প্রেমিক তার কাছে আসবেই, সে জানে তাকে ছাড়া আমি যেমন প্রতি মুহূর্তে বিরহের আগুনে জ্বলছি ঠিক তেমনি সেও আমাকে ছাড়া থাকতে পারছে না।

তাকে প্রশ্ন করেছিলাম তাহলে সে যদি তোকে ছাড়া থাকতে না পারে তাহলে আসছে না কেন তোর জন্যে? সে বলেছিলো,বাবা মেনে নিলাম ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে তবে আমরা তো মিটমাট করার অবকাশটুকুও পাইনি তাই আমি যেমন অভিমান করে আছি ঠিক তেমনি সেও আমার উপর অভিমান করে আছে। বুঝেন মশাই আমার মেয়ের তার প্রেমিকের জন্য রয়েছে অগাদ বিশ্বাস,ভালোবাসা,শ্রদ্ধা। আমার মেয়েটা যেন কেমন হয়ে গিয়েছে, তাকে এমন কষ্টে আর দেখতে পারছি না আমি তাই ছুটে এলাম আপনার কাছে। আমি জানি এ আপনি ছাড়া কেউই পারবে না বলেই ডুকরে কেঁদে উঠলেন। এতক্ষণে এই প্রথমবারের মত উনি কেঁদে উঠলেন। এরপর ছুটে এসে আমার হাত দুটি ধরে বললেন, দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন। এক অসহায় বাপ আপনার কাছে সাহায্য প্রার্থী, আমাকে ফিরিয়ে দিবেন না।

– আপনি সব কিছুই বললেন কিন্তু সেই অধমের নামটা বললেন না,জানি হয়তো বলে দেয়ার প্রয়োজন নেই। কারন সে অধম যে আপনার সামনেই বসে আছে বাবা।
উনি আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন আমি জানি সেই ছেলেটি তুমিই তাই তোমার ঘটনার সত্যতা তোমার ভুল গুলো সোজা তোমার কাছেই বলেছি। দয়া করে আমাকে ফিরিয়ে দিও না,অনেক আশা নিয়ে এসেছি।

– বাবা, কেমন আছে অদ্রিতা?

– ভালো নেই বাবা,সে ভালো নেই। দুই দুটো বছর কেটে গেলো কিন্তু সে একদম আগের মতই তোমাকে ভালোবাসে,তোমাকে অনুভব করে। সে তার মনে বদ্ধকল্প যে তুমি আসবেই। কিন্তু সে ভেবে দেখেনি যদিনা তুমি না জেনে থাকো তোমার ভুল গুলো কোথায় তুমি কখনোই আসবে না তাই আমি এসেছি।

– আমরা কালই বাড়িতে যাবো।ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে আমার।চলুন আমার সাথে আমার বাসাতেই আজ রাত অয়াড় করে দেবো।

– তোমার বাবা-মা কোথায়?

– আজ রাতেই হয়তো দেখাতে পারবো।আমার বারান্দা থেকে খুব সুন্দর ভাবেই তাদের দেখা যায়। আমি প্রতিদিনই তাদের সাথে কথা বলি।
অদ্রিতার বাবার বুঝতে বাকি রইলো না আমার বাবা-মা গত হয়েছেন।

– এসব কবে ঘটেছে?

– বছরখানেক হলো বাবা-মা তারার দেশে গিয়েছেন বলে আকাশের দিকে তাকালাম।

– চলো চলো,খুব ভোরে আমার গাড়ি ধরতে হবে।

– জ্বী চলুন।

ভোরে ভোরে সোজা যশরের বাসে উঠেছি কারন রাস্তা ভেঙে ভেঙে যাওয়ার মত হাতে সময় নেই। বাস যতই এগিয়ে যাচ্ছিলো আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছিলো। সন্ধ্যার আগে আগেই পৌছে গেলাম উনার বাড়িতে।অদ্রিতার মায়ের সাথে শুধু দেখা করেই তাকে খুজতে লেগে গেলাম। হুট করেই মনে পড়লো এ সময় তো সে নদীর পাশে বসে থাকে। ব্যাগ থেকে সুন্দর করে বায়ুনিরোধক একটা ছোট্ট ব্যাগ বের করলাম তাতে অদ্রিতার প্রিয় বেলি ও কাঁশফুল নিয়ে এসেছি। চট জলদি নিজের জামা বদলে তার দেয়া নীল পাঞ্জাবিটি পড়ে নিলাম।
অদ্রিতার বাবা থেকে নদীটি কোথায় জেনে নিয়ে দৌড়ে ছুটে গেলাম। আমি যেন আর পারছিলাম না তাকে না দেখে।নদীর পাড়ে এসে দেখি পাড় লাগোয়া কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে বাম গালে হাত দিয়ে নদীর ঢেউয়ের দিকে উদাশ নয়নে তাকিয়ে আছে আমার প্রেয়সী অদ্রিতা। হ্যা প্রশ্ন জাগতেই পারে সে হিন্দু আর আমি মুসলিম তবে কিভাবে সম্ভব আমাদের মিলন। তবে আমি বলবো ভালোবাসতে ধর্মের প্রয়োজন নেই। না আর কথা বলে সময় নষ্ট নয়,তার পেছন করে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। আমি যে তার পিছনে প্রথমে সে আঁচ করতে পারেনি তবে পরমুহূর্তেই হুট করে দাঁড়িয়ে পেছনে ফিরে তাকালো। আমাকে দেখে একদৃষ্টিতে তাকিয়েই থাকলো।আমিও তাকিয়েই ছিলাম। যেন আমরা আবার নতুন করে একে অপরকে দেখছি, চিনছি।
কত সময় পাড় হলো জানিনে তবে তার কথায় হুশ হলো,
– আমার বেলী আর কাঁশ ফুল কই?
এত আনন্দিত আমি অনেকদিন পর হলাম,যেন এখনো আমরা দেখা করতে এসেছি আর রোজকার মত তার বায়না ধরছে সে।

– আমি পিছনের থেকে তার প্রিয় ফুল গুলো নিয়ে তার দিকে এগিয়ে আবার সরিয়ে দিলাম।
অদ্রিতা আমার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো, এদিকে এসো,আমি ফুল গুলো তোমার খোপায় বেঁধে দেই।
সে আমার দিকে এগিয়ে এলো আর আমিও তার খোপায় বেলীফুল গুঁজে দিলাম আর কাঁশফুল তার কানের উপরে বসিয়ে দিয়ে বললাম, অদ্রি কিভাবে বুঝলে আমি এসেছি?

– এ যে খুব সহজ আমার জন্যে। একই সাথে দুই মাতাল করা ঘ্রাণ। এক নাহির আর এক বেলীফুলের। তোমার উপস্থিতি যে আমার চিরচেনা।

– ওইদিন যদি একবার চেষ্টা করতে বুঝাতে তবে কি এত কষ্টের গ্লানি বইতে হতো?

– না তবে তুমিও যে ভুলে গিয়েছিলে নিজে থেকে কিছু বলার অভ্যেস আমার নেই।

– হুম ঘাট মানছি। তবে কি এভাবেই দূরে সরে থাকবে। আমার বাহুবন্ধনের পেষ্টনে নিজেকে প্রকৃত শ্বাশত নারী রূপে কি দেখতে চাও না!

এ বলার দেরি আর অদ্রিতা ছুটে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে উঠলো।
তার ঘনকালো কেশের ঘ্রাণে আমি ডুবে যাচ্ছিলাম অজানায়,তার কান্নার শব্দে তাকে সামনে ধরে তার রক্তি চন্দ্রিমার ন্যায় ওষ্ঠ্যযুগলকে আপন করে নিলাম।

গোধূলি বেলায় দুই ছায়া মানব-মানবীর একান্ত দৃশ্য দর্শকবৃন্দের কাছে তুলে ধরার শক্তি এ লেখকের নেই। তবে শত ভুল বুঝাবুঝিই হোক না কেন,যতই দূরে থাকুক না কেন ভালোবাসার মানুষটি,শুধু ভালোবেসে,শ্রদ্ধায় ও বিশ্বাসই পারে এর এক সুখকর সমাপি দিতে।
পরিশেষে বলবো,তবু আজ ভালোবাসা হোক।

গল্প

রোমান্টিক গল্প। রোদের ছায়া। আজফার মুস্তাফিজ

Azfar Mustafiz

Published

on

গল্প: রোদের ছায়া
লেখক: আজফার মুস্তাফিজ

অনেকদিন পর মায়ার দেখা পেলাম। তাকে ঠিক আগের মতোই মনে হলো। একটা ছোট্ট মেয়ে তার আঙুল ধরে দাঁড়িয়ে। প্রচণ্ড রোদ। মাথার ওপর ছাতা ধরে রেখেছে সে। তবুও একদম ঘেমে নেয়ে উঠেছে। মুখে বিরক্তির ছাপ। “উফ”, কপালের ঘাম ঝেড়ে ফেলল সে। তার মেয়েটি উত্তপ্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে বারবার বলছে, ” আম্মু! কোলে নাও না।” সেও পরিশ্রান্ত। একটু ছায়াময় স্থান খুঁজে বেড়ায় মায়ার চঞ্চল চোখ দুটো। কিন্তু পায় না। মানুষের ভীড়ে বিশ্রামের অবকাশ নেই।
আমি যে এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছি, সেটা সে বুঝতে পেরেছে। তাতে তার বিরক্তি ভাব কিছুটা বর্ধিত হয়েছে। সে কি আমাকে চিনতে পেরেছে? চেনার কথা কি! নাহ, অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। সময়ের অগোছালো ঝড় ঝাপটাই কয়েকটা বছরের কিছু বেশি! হয়তো অনেক বেশি। অদল বদলও তো কম হয়নি। নিজের বাহ্যিক বদল তো অনেক বেশিই হয়েছে।
অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায়। কত স্মৃতির পাখি উড়ে যায় মাথার ওপর দিয়ে। কিচিরমিচির শব্দে যন্ত্রণা হয় আমার। কঠিন যন্ত্রণা। সেই যন্ত্রণার অনুভূতি বেশিক্ষণ বয়ে বেড়ালে নিশ্চিত জ্ঞান হারাবো না হয় প্রাণ!

তার দিকে এগিয়ে গেলাম আমি। সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কয়েক মুহুর্ত। মস্তিষ্কের ধুলো ময় জঞ্জাল খানা থেকে পরিচয় মিলিয়ে দেখতে হয়তো কিছু সময় লাগবে তার।
অবশেষে সে চিনেছে আমাকে।
“তুমি?”
আমার হাঁসি চওড়া হলো, “হ্যাঁ, আমিই। চিনতে পারলে তাহলে! আমি তো ভেবেছিলাম আমাকেই পরিচয় দিতে হবে। ”
“না চেনার কী আছে!” বলল সে।
“অনেক কিছুই তো থাকার কথা। এই যেমন আমি অনেকটা বদলে গেছি।”
সে ভদ্রতা সূচক হাঁসি দেয়। সম্পূর্ণ মিথ্যা হাঁসি। “তোমার আশ্চর্য ধাঁচের কথা বলার স্বভাব আজীবন রয়ে গেল।”
“যে সব কথাকে আশ্চর্যজনক ভেবেছিলে তুমি, তা সবই নিছক ফাজলামি। আমাকে ফাজিল হিসেবেও আখ্যায়িত করা উচিত ছিল তোমার।”
তার মাথাটা নিচ হয়ে গেল। চোখে চোখে কীসের লুকোচুরি করছে সে?
“কেমন আছো তুমি?” চোখে চোখ রেখে বললাম আমি।
সে চোখ সরিয়ে নিয়ে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, “ভালোই, আলহামদুলিল্লাহ।”
তার মেয়ের দিকে তাকালাম আমি। দেখতে তার মতো না। শুধু চোখ দুটো তারই! একদম মিলে যায়।

মায়া বলল, “তুমি তো অনেক ভালো আছো নিশ্চয়। যে গাড়ী থেকে নামলে সেটা তো অনেক দামী মনে হয়। হাত ঘড়ি টা দেখি রোলেক্সের। গলায় মোটা সোনার চেইন পরাটা একটু বেশিই বড়োলোকি হয়ে গেছে। তোমার পোশাক, পায়ের জুতো জোড়াও দেখছি বিলাশ বহুল ব্রান্ডের। অনেক বড় হয়ে গেছ নিশ্চয়! তোমার সাথে দেখা হওয়ায় আজ আমি খুব খুশি।”
সে যে আমাকে এতো খুঁটিয়ে দেখেছে! তার মানে নিশ্চয় মায়া আমাকে আগেই চিনতে পেরেছিল। রাস্তার পাশে গাড়ির সামনের অংশের ওপর বসে থাকাটা চোখে পড়ার মতোই। সে কি দেখেও না দেখার ভান করে ছিল?

আমি তার দীর্ঘ বক্তব্যের উত্তর দেওয়ার কথা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তার কাছে ভালো থাকার সমীকরণ খুব অদ্ভুত। যদিও আমি তার সমীকরণ অনুযায়ী রেখা টানার প্রচেষ্টাতে রয়েছি।
তারপর আমি বললাম, “আচ্ছা এখানে, এতো রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছো কেন?”
“একটু কাজ ছিল আর কি!”
“একাই এসেছ?”
“না, স্বামির সাথে। আসলে পাশেই তার অফিস।আজকে ছুটি নিয়েছিল। এখানেই আসার কথা তার। একটু বাইরে বেড়ানোর প্ল্যান রয়েছে। ফোন দিয়েছি, পাঁচ মিনিটেই চলে আসবে বলেছে। আর তুমি এখানে?”
“আমার কোনো ঠিক নেই। এমনিতেই গাড়িতে করে ঘুরাঘুরি করি। আজ এখানে তো কাল ওখানে।” আমি হাসার চেষ্টা করলাম। তবে কথাটা নিজের কাছেই খুব খাপছাড়া শোনাল। তাই হাঁসি ফোটাতে কষ্টই হলো।
“বাহ, বিখ্যাত লেখকেরা কী এমনই হয়?”
“লেখক আবার কীভাবে হলাম!”
“কেন আগে তো খুব গল্প টল্প লিখে পড়তে দিতে। বাদ দিলে নাকি।?”
“আসলে আগ্রহ পেলাম না আর।”
“ও আচ্ছা।”
আমি সাথে সাথেই বললাম, ” মিথ্যা বললাম। আগ্রহের ব্যাপার না। নিজের বলার মতো কোনো গল্পই নেই। কী লিখব! নিজে খুবই অপ্রতিভাবান। কল্পনা শক্তিও অকল্পনীয় দুর্বল। যে দুই একটা লেখার চেষ্টা করেছি, তা কখনোই ছাপার মতো নয়।”
“তাহলে আজকাল কী করা হচ্ছে?” বলল সে।
“আসলে সাহিত্যের মাঝেই আছি। তবে ভিন্ন ভাবে। বইয়ের ব্যবসার সাথে আছি। বর্তমানে ভালো বিজনেস।”
“বইয়ের দোকান থেকে এতো টাকা পেয়ে গেছ!” তার চোখে বিস্ময়।
“রকমারি.কম’ এর নাম শুনেছ নিশ্চয়। আমি বর্তমানে সেটার সেয়ার হোল্ডার। ভালোই ব্যাবসা জমিয়েছে তারা। মার্কেটে তাদের সেয়ার থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঠিকই পেয়ে যাচ্ছি। আচ্ছা এতো রোদে না দাঁড়িয়ে গাড়িতে বসলে হয় না? এসি আছে, চলো।”
“আরে না। সমস্যা নেই। ও তো এখনই চলে আসবে।”
তার ছোট মেয়েটা নতুন ফোটা বুলিতে বলল, “চলো না আম্মু। খুব গরম। আর দাঁড়াতে পারছি না।”
মায়া কঠিন চোখে তার দিকে তাকাতেই সে চুপ করে গেল।
তার মোবাইলটা বেজে উঠল। ফোন রিসিভ করে সে চুপ ছিল। শেষে ‘হুম’ বলেই কেঁটে দিল।
“আসলে ওর অফিসে বড় একটা কাজ পড়ে গেছে। তাই নাকি আসতে পারবে না।” এই বলে সে রিকশার উদ্দেশ্যে হাত নাড়ালো।
আমি বললাম, “কোথায় যাবে? চলো আমি নামিয়ে দিচ্ছি।”
“বাসায় চলে যেতে বলল ও।” “ধন্যবাদ। তবে তোমার সাথে আমার সেখানে যাওয়া ঠিক হবে না। লোকে কী বলবে?” সে অনেকটা লজ্জিত হলো। হয়তো সরাসরি কথাটা বলতে চায়নি।
“ওহ আচ্ছা।” আমি হাত বাড়িয়ে জোরে ডাক দিতেই একটা রিকশা চলে এলো।
রিকশায় মেয়েকে উঠিয়ে দিয়ে সে বলল, “একদিন বাসায় চলে এসো। বিয়ে করেছ নিশ্চয়। ভাবিকেও নিয়ে আসবে কিন্তু। জমিয়ে আড্ডা হবে সবাই মিলে। আজ তাহলে আসি!”
আমি সম্মতি জানিয়ে ঘাড় নাড়লাম। বাকি উত্তরের জন্য আর অপেক্ষা করল না সে। রিকশায় উঠে বসল।
“চাচা সাবধানে চালাবেন।” আমি হুডটা উঠিয়ে দিয়ে বললাম। প্রচণ্ড রোদের মাঝে রিকশা চলতে শুরু করল। দূরের রাস্তা মরুভূমির মরীচিকার ন্যায় মনে হচ্ছে।
রিকশা চলে যাচ্ছিল। আমিও পেছন ফিরে হাঁটা শুরু করি। একবার মনে হলো সে পেছনে তাকিয়ে আছে। আমি ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখলাম। রিকশাটা আর নেই। হয়তো কোনো গলিতে ঢুকে গেছে। গাড়ির ভেতর বসেই মিউজিক প্লেয়ার চালিয়ে দিলাম। হঠাৎ মনে হলো ঠিকানা টা তো নেওয়া হলো না।
অনুপম রয়ের কণ্ঠে গান বেজে উঠেছে, “লক্ষ্মীটি একবার ঘাড় নেড়ে, সম্মতি দাও আমি যাই ছেড়ে।”
©আজফার মুস্তাফিজ

Continue Reading

গল্প

অভিশপ্ত লাশ – শিমুলের এম্বুলেন্স পর্ব : ১

Naeem Hassan

Published

on

১৯ জুন,২০০৭ সাল।রাত ১১ টা।শিমুল একজন এম্বুলেন্স ড্রাইভার একটা মেডিকেলের।প্রায় ৭/৮ বছর ধরে সে এম্বুলেন্স চালিয়ে আসছে। যাই হোক। সে খবর পেলো একটা এক্সিডেন্ট কেস আছে,তাকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার যেতে হবে লাশ রিসিভ করতে,আর নিয়ে আসতে হবে হাসপাতালে।তো সে বললো স্যার আজ আমি বাসায় ১২ টার মধ্যে যেতে চাই,আমার এই শিফট টা ক্যান্সেল হলে খুব ভালো হয়,কিন্তু কাজ হলো না,শিমুল ছাড়া সবাই যে যার নিজের নিজের কাজে বেরিয়ে পড়েছে,তো শিমুলকেই বের হতে হবে এম্বুলেন্স নিয়ে।তো আর কি করতো সে রওনা হলো লাশের উদ্দেশ্যে।সব কিছুই বরাবরের মতই নরমাল।

সে গাড়িতে জোরে গান ছাড়লো,আর সিগারেট জালিয়ে ড্রাইভ করতে লাগলো।প্রায় ৫০ কিলোমিটার চলার পর দেখলো রাস্তার পাশে থেকে ৩জন লোক লিফটের জন্য হাত তুলেছে,একটু কাছে যেতেই হেডলাইটের আলোই দেখে যে লোকগুলার সাথে একটা কফিনে মোড়ানো লাশ।সে স্বাভাবিক ভাবেই ব্রেক করে দাড়ালো আর লোক গুলো বললো ভাই আমরা বিপদে পড়েছি,লাশ টা নাকি একটা মেয়ের ২ ঘন্টা হয়েছে সে মেয়ে মারা গেছে আত্নহত্যা করে।

এখন পোষ্টমাডামের জন্য হাসপাতালে নিতে হবে।তো শিমুল বললো আচ্ছা ভাই আমি তো একটা লাশ নিতে যাচ্ছি “অমুক গ্রামে” আপনারা যদি হাসপাতালে নিতে চান তবে আমার এম্বুলেন্স এ অই লাশ রিসিভ করে একসাথে নিয়ে যেতে পারি,এক্ষেত্রে আমার সাথে যেতে হবে।তো ৩ ভদ্রলোক বললো আচ্ছা ঠিক আছে ভাই ধন্যবাদ!!শিমুল যখন লাশটা তুলতে হাত লাগালো তার শরীর ছিমছিম করে উঠে।তবে সেটাকে মাথায় না নিয়েই ড্রাইভিং এ বসে পড়ে।আর বাকি ৩জন লাশের পাশে বসলো পেছনে।

যা হোক।সে সময় দেখলো ১.২০ বেজে গেছে।গান ছেড়ে আরেকটা সিগারেট জালালো।প্রায় ১০ মিনিট গাড়ি চালানোর পরে সে দেখলো এম্বুলেন্স যেন ভারী হয়ে যাচ্ছে,যেমন ঃ- যদি এম্বুলেন্স লোড থাকলে যেমন হয় সেরকম।সে অবাক হলো,ভাবলো ইঞ্জিনের সমস্যা এটা।গিয়ার বাড়িয়ে চালাতে শুরু করলো।পেছনে একবার তাকালো দেখলো ৩ ভদ্রলোক ঝিমাচ্ছে।মুচকি হেসে আবার চলতে শুরু করলো শিমুল।আর বাকি ২০ কিলো মতো তবে সে পৌছাবে।

ঠিক ১৫ মিনিট পর এবার এম্বুলেন্স এর পেছনে থেকে একটা ঝাকি খেলো গাড়িটা।শিমুল ভাবলো ব্যাপার কি আজ!!তো সে পিছনে ফিরতেই দেখলো সব কিছুই নরমাল।বলে রাখা ভালো শিমুল অনেক অনেক সাহসী।সামান্য কিছু নিয়ে সে কিছুই ভাবেনা।বা তার কোন ধারনায় নেই যে কি হতে চলেছে।এবার সে এম্বুলেন্স দাড় করিয়ে ইঞ্জিন চেক করতে বের হয়।দেখলো সব ঠিকঠাক।তবে হচ্ছে টা কি!!এবার সে ভাবলো লাশটা তুলতে গিয়েও তার ক্যামন যেন মনে হয়েছিলো।তারপর ভাবলো কি এমন ইমার্জেন্সি ছিলো যে আজ রাতেই পোষ্টমাডাম করতে হচ্ছে।একটু অদ্ভুতই লাগলো শিমূলের।

সে আবার এসে গাড়িতে বসলো।সে পিছনে তাকিয়ে দেখলো ৩ ভদ্রলোক ঘুমাচ্ছে।লাশটাও ঠিক আছে।সে গানটা বন্ধ করলো।আর চলতে শুরু করলো।রাত ২.৪৯ বাজে,সব অন্ধকার,ঝিমঝিমে পরিবেশ কোন শব্দ নেই কোথাও পাখির কান্নার মত ডাক ছাড়া।শিমুলের ভিতরে ভিতরে ভালো লাগছে না।ক্যামনই যেন লাগছে।সে তাও কান না করে চলতে থাকলো।ঠিক ৫ কিলো মত বাকি রাস্তা।আর এই ৫ কিলো জুড়ে শসান।সেটা পার হতে হবে তবেই সে পৌছাবে।এবার হটাত আবারো এম্বুলেন্সের পেছনে অনেক জোরে কেপে উঠলো এমন অনুভব করলো।

সাথে সাথে ব্রেক করে।আর পেছনে তাকায় আবারো,কিন্তু এবার যা দেখলো তা দেখার জন্য সামান্যও প্রস্তুত ছিলোনা শিমুল। সেই ৩ ভদ্রলোক পেছনে ছিলোনা। আর সেই মেয়ের লাশটা উঠে সিটে বসে আছে আর তার দিকে ভয়ানক লাল-লাল দুটি চোখ দিয়ে তাকিয়ে আছে যেন রেগে আছে শিমুলের ওপর,লাশটার গলায় কালো স্পট ফাসি দেয়ার দাগ বোঝায় যাচ্ছে।কি এক ভয়ানক দৃশ্য।শিমুল দেখে এতই ভয় পায় যে তার গলা থেকে একটা আওয়াজ ও বের হচ্ছে না।

সে চেষ্টা করছে কিন্তু কিছুতেই আওয়াজ বের করতে পারছেনা।সে বের হতে গিয়ে দেখে এম্বলেন্সের দরজা লক।খুলতে না পেরে সে অই দৃশ্য দেখে গিয়ার দিয়ে এবার ফুল স্পিডে গাড়ি চালাতে লাগলো।২ মিনিট পরেই সে অনুভব করতে পারছিলো অনেক ঠান্ডা,ভয়ে যদিও সে ঘেমে চুপসে গেছে।সে চোখ একটু পেছোনের দিকে ঘোরাতেই দেখে লাশটি তার সামনের পাশের সিটে বসা আর অই সেই ভয়ানক চোখ।এই দৃশ্য দেখে সে আর সহ্য করতে না পেরে জোরে ব্রেক কসে আর জ্ঞান হারায় ওখানেই।

Continue Reading

গল্প

ভৌতিক ঘটনা ; সত্য ঘটনা অবলম্বনে

Naeem Hassan

Published

on

তখন রাত ১১ টা মত বাজতে চলেছে,বাসটি দ্রুত গতিতে চলছে।বাসটি রাজশাহী পৌঁছাতে আর আধা ঘন্টা মত লাগবে।শিহাব ঘুমিয়ে আছে,তবে সামনের সিটের রবিন জেগে রয়েছে।সে শিহাব কে জাগিয়ে দিলো এবং বলল আর ঘুমিও না,এইতো চলে এসেছি!শিহাব গা-মোড়া দিয়ে চোখ খুললো,তার খুব ঠান্ডা লাগতে শুরু করলো।তো সে ব্যাগ থেকে ফুলহাতা একটি টি-শার্ট বের করে পরে নিলো।পরবর্তীতে রাজশাহী বাস স্ট্যান্ডে এসে বাস থামলো,তখন আনুমানিক রাত ১১.৪৫ মিনিট!!

রবিনের থেকে শিহাব বিদায় নিলো,কারন রবিন নবাবগঞ্জ যাবে।তো রাতে সে বাস স্ট্যান্ড থেকে রওনা হলো রাজশাহী রেলগেটের দিকে এবং পৌঁছাতে পৌঁছাতে ১২ টা বেজে গেলো সে তো শিহাব তার গ্রামের উদ্দেশ্যে যাওয়ার মত অটো খুঁজতে লাগলো কিন্তু পাচ্ছিলো না।অবশেষে পেয়ে গেলো,এবং রেলগেট থেকে তার গ্রামে যেতে আরো ২ ঘন্টা মত লাগবে।প্রথম অটো তাকে কাশিয়াডাংগা পর্যন্ত নিয়ে গেলো,এরপর সে রিক্সা খুজতে লাগলো কিন্তু সে পাচ্ছিলো না কোনভাবেই তো যাই হোক এরকম অনেক সময় কেটে যাবার পর একটা রিক্সার দেখা পেলো।তবে বলে রাখা ভালো সময়টি ছিলো নভেম্বর ২০১৭,সুতরাং মোটামোটি শীত কাজ করছে।

রিক্সাওয়ালা টা মুখে গামছা দিয়ে ছিলো,আর আলো বলতে রিক্সায় নিচে হারকিন যা নিভু নিভু জলছিলো।শিহাব কে দেখে রিক্সাওয়ালা জিজ্ঞেসা করলো,মামা কোথায় যাবেন?শিহাব আনন্দের সাথে বলে উঠলো মামা আমি ——- যাবো বলেই রিক্সায় উঠে পড়লো।কিন্তু রিক্সাওয়ালা আর একটি শব্দও করলোনা।সে চলতে শুরু করলো।প্রায় ১০ মিনিট মতো চলার পর শিহাব অনুভব করলো যে কি যেন একটা গন্ধ পাচ্ছে,গন্ধ টা তার পরিচিয় তবে সে কিছুতেই মনে করতে পারলোনা।

মিনিট পার করলো শিহাব।তারপর ফোনটা পকেটে রেখে দিলো।তবে সে একটি অবাক হলো কারন সে যেখানে যাবে সেখানের পথ ১৫ মিনিটের বেশি না।তবে ইতিমধ্যে ৩০ মিনিট হয়ে গেছে।সে রাস্তা ঠিকমত দেখতে পাচ্ছিলোনা।সব অন্ধকার।হারিকেনের আলোয় খুব অল্প ঝাপসা দেখা যায় সব।সে এবার বললো মামা এইটা কোন রাস্তা??আবারো সাইলেন্ট!! কোন জবাব নেই।এবার একটু রাগ নিয়ে শিহাব ঃ- আরে মামা সমস্যা কি কথা বলেন না ক্যা?? কোথাই যাচ্ছি এই রাস্তা দিয়ে?? জাবাব এলো মামা এই অন্য রাস্তা,অই রাস্তার কাজ চলে।

তবে শিহাব খুব ভালোভাবে জানে যে তার বাসার রাস্তা একটাই।আবার ভাবলো অনেক বছর পর আসছে হয়তো রাস্তা হয়ছে।টেনশন না নিয়ে ফোনটা আবার বের করলো।কিন্তু যা দেখলো সে কোনভাবেই প্রস্তুত ছিলোনা।দেখলো তার ফোনে ৩.১৫ বাজে।এবার তার টনক নড়লো।তার বুঝতে বাকি রইলো না সে যে বাজেভাবে বিপদে।এইটা স্বাভাবিক হতে পারেনা।ফোন করার জন্য রবিনের নাম্বার ডায়াল করতে গিয়ে দেখে কোন প্রকার নেটওয়ার্ক নেই।

কোন ভাবেই যা সম্ভব নাহ।তার এলাকায় কোন নেট প্রব্লেম নেই,তবে নেটওয়ার্ক কেউ নাই।সে ভালো মতই ভয় পেয়ে গেলো।রাস্তার দিকে তাকালো,চোখ মুছে ভালোভাবে।সে দেখলো আশেপাশে শুধুই বাশঝাড় আর কবর।সে ভয়ে শিউরে উঠলো,মুখ থেকে আওয়াজও বের করতে পারছে না সে।শরীর যেন অবস হয়ে আসছে।হটাত তার মাথায় আসলো সে একটা মরা বাসায় গেছিলো রবিনের সাথে।সেখানে যেই গন্ধ পেয়েছিলো এই গন্ধটাও সেটাই।এবার সে ভয়ের ছোটে চলন্ত রিক্সা থেকে লাফ দিলো আর বিপরীত দিকে জানপ্রান ছেড়ে দৌড় শুরু করলো।

এমতা অবস্থায় সে একটা গাছের ধাক্কা খেয়ে পড়লো।উঠে বসতেই দেখলো,সেই গাছের ডালের সাথে অই রিক্সাওলাটা ফাঁস দিয়ে ঝুলে রয়েছে মুখে অই গামছা,আর তার লাল দুটো চোখ তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।সে চিতকার করতেই সেই ঝুলন্ত শরীরটা রশি ছিটে পড়লো তার সামনে।এবার সে আর নিতে পারলোনা।সে অজ্ঞান হয়ে গেলো।সকালে সে দেখলো সে এক অজানা বাশের ঝাড়ে শুয়ে রয়েছে।রোদ মুখে এসে পড়ছে তার।লাফ দিয়ে উঠে।রাস্তায় এসে দেখে সে তার বাসা থেকে প্রায় ২০ কিলো মতো দুরের এই বাশ ঝাড়ে।পরে রবিনের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারে।

যে সে রবিনের সাথে যেই মরা বাসায় গেছিলো সেটি ছিলো এক রিক্সাওয়ালার সুইসাইড কেস।সেই রিক্সাওয়ালা এক বড় আম গাছের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে আত্নহত্যা করেছিলো।আর তার মুখেও গামছা জড়ানো ছিলো। শিহাব আল্লাহ আল্লাহ করে।এবং বুঝতে পারে তার সাথে আরো কত খারাপ কিছু হতে পারতো।এই যাত্রায় সে বেচে যায়।

 

 

Continue Reading






গ্রাথোর ফোরাম পোস্ট