নতুন কলিগদের কাছে আস্থাভাজন হওয়ার উপায়

নতুন কলিগদের কাছে আস্থাভাজন হওয়ার উপায়

কিভাবে অফিসে সবার কাছে গ্রহনীয় একজন সহকর্মী হয়ে উঠবেন!

১০টি উপায়ে অফিসে থাকুন আত্মবিশ্বাসী

 

কিভাবে অফিসে সবার কাছে গ্রহনীয় একজন সহকর্মী হয়ে উঠবেন!
নতুন কলিগদের কাছে আস্থাভাজন হওয়ার উপায়
১০টি উপায়ে অফিসে থাকুন আত্মবিশ্বাসী

একজন চাকরিজীবী হিসেবে আমাদের জানা দরকার কিভাবে সবার সাথে মিলে মিশে থাকা যায় । কিভাবে তাদের সাথে সম্পর্ক ভালো করা যায়। যদি এই বিষয়গুলো আপনার জানা না থাকে তাহলে এই আর্টিকেল টি আপনার জন্য। সকল মানুষের সবার কাছে পরিচিত হওয়ার বা প্রিয় হয়ে ওঠার গুন থাকে না । কিন্তু নীচের টেকনিক গুলো ফলো করলে আপনারা অবশ্যই পারবেন । তাতে কোনো সন্দেহ নেই ।

একজন চাকরিজীবী তার কর্মস্থলে সবচেয়ে বেশী সময় থাকে । এজন্য তাকে সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাটা জরুরি । কারন তারাই আপনার বিপদ – আপদের সঙ্গী হয় । সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে আপনি তাদের থেকে উপকার পাবেন , আর যদি তাদের সাথে সম্পর্ক ভালো না হয় তাহলে আপনি বিপদে পড়তে পারেন , হয়তো আপনার সেখানে চাকরি করা টা মুশকিল হয়ে যাবে ।
তাছাড়া আপনি যদি ,
আপনার ক্যারিয়ারের উন্নতির কথা ভাবলে আপনাকে অবশ্যই অপরের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে হবে ।আর আপনি পছন্দ করুন আর নাই বা করুন , আজকাল পেশার ক্ষেত্রে অপরের সাথে সুসম্পর্ক রাখাটা আবশ্যক ।
“আপনি কি জানেন এটা কোনো বিষয়ই নয় তবে আপনি কাকে জানেন বা চেনেন এটাই মুখ্য ব্যাপার । ”
আমার মনে হয় আপনি এই কথাটা শত সহস্র বার শুনে থাকবেন আর কথাটা সত্য ও বটে , আপনি যেভাবে ভাবতেছেন বা যা চিন্তা করছেন এটা ঠিক নয় । কারন আমরা মানুষ ,মানুষ হিসেবে ভুল করাটা আমাদের স্বভাব। তবে সবসময়ই ভুল নাও করতে পারি । প্রধান প্রধান লোকগুলোর সাথে সঠিক যোগাযোগ করার জন্য আপনি কাকে চেনেন সেটা কিন্তু প্রয়োজন নয় । এমনটাও তো হতে পারে ,আপনি যাকে জানেন বা চেনেন তিনি বড় মাপের ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন লোক অথবা সেটা আপনার কোনো একটা বড় সুযোগও হতে পারে। তাহলে আপনি হয়তো ভাবতেছেন ,এরকম মানুষ গুলোকে আপনি কোথায় পাবেন ? আর এরকম সম্পর্ক গুলোও কোথায় পাবেন ?
আপনি আপনার কর্মস্থল সম্পর্কে ভাবুন আর শত শত অপরিচিত দের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আগে তাদের সাথে আলিঙ্গন করুন । আপনার কর্মস্থলে কতোজন লোক আছে সে বিষয়ে কি আপনার জানা আছে ? তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনার কর্মস্থলের কতোজন লোক আপনাকে জানে ? আর আপনি কি ধরনের কাজে অভিজ্ঞ সেটাই বা কয়জন জানে ?
আমি আপনাদের জন্য কয়েকটি টিপস নিয়ে এসেছি যেগুলো আপনাকে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খুবই কাজে আসবে । তাহলে চলুন জেনে আসি –

নীচের টেকনিক গুলো আপনার টনিক হবে তখোনি যখোন আপনি চেষ্টা করবেন । আশা করবো আপনারা চেষ্টা করবেন নীচের উপায় গুলো ফলো করার ।
* বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া ঃ
সুসম্পর্কের জন্যে বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়াটা কিন্তু একেবারেই সঠিক সমাধান, তাই নয় কি ? এটা কি সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য নয়? বাস্তবে,আপনার কাজের সময় এটাকে ধরে রাখা খুবি সোজা এবং আপনার চারপাশের লোকগুলোর মাঝে চলাফেরা করুন আর তাদেরকে বেশি মনোযোগ না দিয়ে নিজের লক্ষ্য গুলোকে অর্জন করুন । আপনি যখন পথের মধ্যে, অথবা লিফটের মধ্যে অথবা আপনার দিকে কেউ তাকিয়ে রয়েছে কিন্তু আপনি কখনো তার সাথে কথা বলেন নি ,আপনি সেই সময় তার সাথে “হাই / হ্যালো” বলে নিজের পরিচয় দিবেন । এতে তার সাথেও আপনার একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগ থাকে ।

টিপস ঃ এখানে আমি কিছু টিপস আপনাদের সাথে শেয়ার করবো । আপনি যখন কারো সাথে কথা বলতে যাবেন তখন কিন্তু আপনরা মুখে হাসিহাসি ভাব রাখলে ভালো হয় । এই টা আপনাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলবে ।আমরা প্রতিদিনের কাজের জন্য যখন যাই, তখন কিন্তু অনেক কে দেখি যারা কঠোর বা রাগান্বিত হয়ে থাকে । যখন আমরা হাসি মুখে কারো সাথে বলি এটা আমাদের কাছে আলাদাভাব নিয়ে আসে ।

<

* দুপুরের খাবারের সুযোগ নেওয়া ঃ
আপনি কি এরকম যে , দুপুরের খাবার অফিসের ডেস্কে বসে খান ? অথবা প্রতিদিন বাড়িতে চলে যান দুপুরের খাবার খেতে ? আর না হলে আপনি একটা বই মাথার উপর নিয়ে চুপচাপ বসে থাকেন ? আসোলে এটা কোনো ভুল কাজ নয় । আর এটা আপনার সময় আপনি যেভাবে চান করতে পারেন । যদি আপনি আপনার কর্মস্থলের লোকদের সাথে সুসম্পর্ক বানাতে চান তাহলে, আপনি মাঝে মাঝে তাদের সাথে বাইরে দুপুরের খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন , আর এটা খুবি ভালো ধারনা ।
আপনি আপনারা খাবার নিয়ে সেখানে চলে যান যেখানে সকলে খাবার খায় । যদি লোকজন সেখানে থাকে তাহলে সেটা খুবি ভালো কথা ,আপনি কিন্তু এক কর্ণারে বসার চেষ্টা করবেন না । অথবা আপনি একজনকে জিজ্ঞেস করেন তাদের সাথে কি আপনি বসতে পারেন ? আর তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করুন । যদি আপনি তাদের কে চেনেন তাহলে এখানে আপনি কম ফর্মালিটি ব্যবহার করে কথা বলতে পারবেন ।
আর যদি কোনো গ্রুপ বাইরে দুপুরের খাবারের জন্য বাইরে যায়,আর আপনাকে যদি তারা ডেকে নেয় তাহলে আপনি তাদেরকে ভালো একটা জায়গাকে বলে দিতে পারেন ,যদি আপনার জানা থাকে । আপনার সহকর্মী রা তখন রিলাক্স থাকেন তখন তাদের সংগে কথা বলাটা খুবি ভালো হবে ।

নতুন কলিগদের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখা ঃ
আপনার অফিসে নতুন নতুন লোক তো আসবেই ,তবে আপনার কাজ হবে তাদেরকে স্বাগতম জানানো এবং তাদের সাথে একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা। তাছাড়া নতুনরা সবসময়ই উদ্দীপ্ত থাকে সেখানকার( অফিসের) এক্সপার্ট দের সাথে কথা বলার জন্য ,তাদের থেকে কিছু শেখার জন্য । এই সুযোগটা আপনার নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করছি । যেমন ধরুন – কোন ফ্লোরে ( জায়গায়) ভালো কফি পাওয়া যায়, এটা কিন্তু আমরা বিভিন্ন কথার ছলে বলতেই পারি ,তাই না! নতুন হলেও কিন্তু তারা কোনো একটা বিষয়ে খুব ভালো বা দক্ষতা হতেই পারে , তারা যদি দক্ষ না হবে তাহলে কেনো তাদেরকে নেওয়া হয়েছে ,তাই না ! আপনারা সাধারন ভাবেই তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে পারেন তাদের কি ব্যকগ্রাউন্ড ছিলো , হয়তোবা আপনি তাদের কাছ থেকে কমন কোনো ইন্টারেস্ট খুজে পেতে পারেন , যা আপনার ও শিখতে ভালো লাগে , হয়তো তার কাছ থেকে আপনি শিখতে ও পারেন আপনার ইন্টারেস্টিং এর বিষয়টা ।

অফিসের অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহন ঃ

অফিসের বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয় , সেখানে হয়তো আপনি ভলান্টিয়ারের জন্যে ইনভাইট পেতে পারেন ,তখন আপনি এটাতে অংশগ্রহণ করতে পারেন , কারণ এর মাধ্যমে আপনি অফিসের সবার সাথে কথা বলতে পারবেন এতে আপনি সবার সাথে একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন । আর যদি আপনার কোনো সমস্যার কারনে সেই ভলান্টিয়ারের কাজ করতে না পারেন তাহলে আপনি বলতে পারেন , ধন্যবাদ, তবে আমি দুঃখিত ,তবে পরের বারে আমি অবশ্যই ভলান্টিযারে অংশগ্রহন করবো । আপনি যদি সবার সাথে ভালো একটা সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে এর সুযোগ গ্রহন করতে হবে ।

সোশ্যাল নেটওয়ার্কের সুযোগ গ্রহন ঃ
আমাদের সোশ্যাল নেটওয়ার্ক বলতে সবাই ফেসবুক বেশি ব্যবহার করে থাকে । কিন্তু উন্নত দেশগুলোতে চাকরি জীবীরা সবাই লিংকেডিন ব্যবহার করেন । তো আমাদের দেশে আর লিংকেডিন ব্যবহার হয় না ,( হয় তবে খুবি কম ) তাই আমরা ( ফেসবুক থেকে) বেশি পরিমানে এর সুযোগ নিতে পারি । আপনারা চাইলে সেখানে আপনার কলিগদের সাথে কথা নলতে পারেন , তাদের প্রোফাইল চেক করলে আপনি হয়তো তার কোনো কাজের ব্যকগ্রাউন্ড ওেতে পারেন বা সে কেমন , কি ধরনের জ্ঞান বা দক্ষতা আছে সে বিষয়ে ও জানতে পারেন , তার সাথে চ্যাটিং করার মাধ্যমে ও ভালো একটা সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন ।

আমি হলফ করে বলতে পারি,উপরোল্লিখিত টেকনিক গুলো আপনার ব্যক্তিত্ব কে আরো সুন্দর আর আকর্ষণীয় করে তুলবে ।

এতক্ষণ পাঠ করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ । তবে হ্যাঁ, একটা কথা না বললেই নয় , তাই বলছি ; যতো পারেন সম্পর্ক গড়ে তুলুন , বন্ধুত্ব তৈরী করুন , হতে পারে এই সম্পর্কই একদিন আপনার এমন উপকার করবে আপনি সারা জীবন তার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবেন । আর শত্রু তৈরী করে কেউ কখোনও উপকার পায় নি । তাই আবারও বলবো , বন্ধুত্ব তৈরী করুন ।

এই উপায় গুলো ফলো করুন , তাহলে আপনার এন্টিবায়োটিক এর মতো কাজ করবে।

Related Posts

6 Comments

    1. আমরা যে আপনার পোস্টটি অ্যাপ্রুভ করেছি এটাই বড় কথা কারণ আপনার এই পোস্টের মাঝখানের অংশটি আগের পোস্ট থেকে কপি করা, আশা করি ভবিষ্যতে আর এই ধরনের কমেন্ট আর করবেন না, সবার আগে নিজের পোষ্টের দিকে একটু লক্ষ্য করবেন এই ধরনের কমেন্ট করার আগে।

      আপনি আমাদের একজন পুরনো লেখক তাই আপনার পোস্টটি এপ্রুভ করা হয়েছে। কারন আমরা কোন কপিরাইট এপ্রুভ করি না।

      ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন