বন্ধন প্রথম পর্ব-১

বন্ধন-পর্ব-1
মো: মাঈনউদ্দিন।

সন্ধা আবার ভোরেতে আসিয়া মিলিত প্রনয় রাগে
ঘরেতে আমার প্রানপ্রিয় বধু-তৃষিত-ব্যকুলি জাগে।
ভাঙ্গাঘরে আসি চান্দের আলো মোদের সজ্জাতল
সোনার আবিরে রাঙ্গিয়া রাখিত বিরহীর-শতদল।

মাঝে মাঝে আসি ধন্যকরিয়া কপালেতে খেয়ে চুম
আসাতে বিধিয়া কহিয়াছি সোন শেষ হলে মৌসুম।
ঘুরায়ে আনিব সকল জায়গায় যেথা যেতে চায় মন
জানিতাম মনে স্বরলার সাথে করি কি প্রভঞ্চন।

এমনি করিয়া মিথ্যা ছলেতে জীবন করিয়া পার
পেয়েছি মিজির মিষ্টিবোলের তিক্ত পুরুস্কার।
স্বরল প্রাণে আঘাত করিলে সে আঘাত জমে রয়
ঘুরিয়া ঘুরিয়া আসিবে ফিরিয়া জানিও সুনিশ্চয়।

সন্ধা তারার অমোঘ নয়নে আমারে হেরিয়া বৌ
যেী-ব-ন সুধা রানীর পরানে-জমাট বাধিত মৌ।
সাঝের আকাশে গম গম করে নিরেফেরে সুখ-পাখী
পরানের ব্যথা খুলিয়া বলিছে তাহাদের কাছে ডাকি।

সোন তোরা সবে ভাইজান কবে তোদেরি মতন করি
অল্পকিছুতে সুখি হবে সে আমারে বুকেতে ধরি।
চািইনাতো আমি মোঘল রাজ্য স্বর্নলঙ্কার হার
দুমোঠো ভাতেই মিটিবে তৃপ্তি আমার কলিজার।

একটু আদরে চোখে চোখ রাখি মায়াভরে যদি কয়
তুইতো আমার জীবন মরন আর কোন দাবি নয়।
সারা জনমের দু:খ বেদনা সহিব নিরবে প্রাণে
বলিস গিয়া কানে কানে তারে সে বুঝি নাহি জানে।

দুফোটা অশ্রু চঞ্চুতে করি নিয়ে যা ভাই না ভালা !
বলিস গিয়া মরিছেযে প্রিয়া সইতে নাপেরে জ্বালা।
কাজলের রেখা কাতর হয়েছে মলিন নয়ন পরে
শরষের তেলে চিকচিকে কেশ সুকায়ে মরমরে।

আক্ষেপে ভেঙ্গে চুর্ন করিছে দুবাহুর ভরা চুরি
হৃদয়ের আভা রক্তিম হয়ে গগনে রয়েছে ভরি।
শিরখানি তুলি আকাশের পানে দেখে যে নয়ন খুলি
ব্যথা-বিষে-নীল গগন মম কেমনে রয়েছে ফুলি।
লক্ষ তারার আতিসজ্জায় প্রণয় বাষরি রাত
পাতিয়া সয়ন রয়েছে মগন কপালে টিপিয়া চাদ।

ভোরের সুর্যি কাপা- আলয় করিতেছে ধুকফুক
কেমনে দেখনা আলগা করিছে আধার রানীর বুক ।
কিকরে সোহাগে দিচ্ছে টানিয়া নিশিথির দেহ বাস
ধরনীর প্রাণে যৌবন-সুধা-ঘর্মে ভিজিছে ঘাস।
তাহার মনেতে বাসনা নাইগো নাই বুঝি তার প্রাণ
নিরস নিকস দেহ ভুমে নাই যৌবনের উত্থান।
দক্ষিনা পবনে দেখেনা দিঘলে শিউরে ওঠেগো জল
দক্ষিন গিরি মন্দিরোও হয় লালকামা-চঞ্চল।

এত কিছু হেরি নয়নে নয়নে পরানের খুধা বারি
পথ চেয়ে চেয়ে অধির হয়ে রই কখন ফিরিবে বারি।
আকাশের বুকে ধরনি রানীর অমল মৈথুন
পারছিনা আর তাহারে আসিয়া করে যেতে কও খুন।
ধরনীর ছায়া দুজনারে দিয়া করিয়াছে আরাল
মহাকাস ভরি আবির ছরায়ে করিয়াছে লালেলাল।

এত আয়োজন দেখে মোর মন রাখতে পারিনা আর
চাই সুধু মনে প্রাণে সবখানে এতটুকু ছোয়া তার।
হাসিদিয়া ঢাকি কামনার জ্বালা ভিতরে জ্বলিয়া যায়
মানুষ কাহারে বলিতে পারিনা যেী-ব-নে-র লজ্জায়।
বলছিরে ভাই তাহারে গিয়া বলে আয় কানে কানে
আগুন জ্বলিয়া ছাড়খার হয় আমার কমল-ধামে।
পরান ভরিয়া কত কথা কহে নিরিবিলি একা একা

আখি জলেযায় পথেতে পরিয়া হয়না নিমেশ দেখা।
বকুল কাকেরা কাকা করে গগন ফাটায়ে কয়
ওরে অভাগা যৌবন সুধা বেকার ঝরিয়া যায়।
বধুযে তোমার জলিয়া পুরিয়া মরিছে একাকি মনে
লজ্জার কথা লোকেরে বলেনা বলিছে মোদের সনে।
গোলাপের কুড়ি কেশেতে খুচিয়া কাজলে টানিয়া চোখ
যৌবন রষে ঢল ঢল বুকে নেশা-চোখে-অপলক।
আমার বিরহে কিযে জ্বালা সয়ে উন্মাদ-অস্থির
কভুও পুরন করিনি সাধন প্রেমাকুল অভাগির।

এত জ্বালা দিয়া নিজেরে বিকিয়া মিজির কথার মান
রাখিয়া গিয়াছি সারাটা জীবন এই তার প্রতিদান।
পথ চাহি চাহি ক্লান্ত অভাগি ঢুলুঢুলু চোখে কয়
সারাদিন পর বৌয়েরে দেখিবার এই বুঝি সময়।
কতআশা নিয়া কপালে টিপিয়া গলাতে দিয়াছি হার
শরষের তেলে চুল ভিজায়েছি চোখে কাজল রেখার।

ঘোমটা টানিয়া একাকি নিজনে বসে রই অবনুমি
বাসর রাতের প্রথম পরশ স্বপনে দেওগো তুমি।
শিহরিয়া উঠি দক্ষিনা বাতাস ঝাপটে জরায়ে কয়
তোর স্বামী সেতো চরম নিঠুর আমারে দিলে কি হয়?
লজ্জায় আমি আধমরা হয়ে তোমার গামছা ধরি
সারারাত ভরি বুকেতে বাধিয়া পথ চেয়ে মরি মরি।

আমারে সপি তোমার বুকেতে যখন যেভাবে চাও
সেই তুমি মোরে এমনি ঠকাও এতটা কষ্ট দাও।
সেই বধুমোর শূন্য ঘরেতে নীলকাঞ্চন মনি
স্বর্গের স্বাদ মিলন মাগিয়া কাতর নিরঞ্জনি।
আমি অভাগায় দিবানিশি হায় মিজির কথার দাম
বৌয়েরে ঠকায়ে নিতিদিন দু:খ ব্যথাই দিয়েগেলাম।

বধুয়ার অন্তর করি নিরন্তর অশান্ত-বিলাপ
দিতো সে আমায় প্রেমের দেনায় ক্ষমাহীন অভিষাপ।
নিশিথের বুনো পেচারা বাগোনে উও উও করি কাদে
দোয়েল সালিক কপোত কপোতি ডানার বাধোনে বাধে।
আকাশ বাতাস থির করে ফেলে তার ব্যথিত মন
কাপায়ে তুলেছে প্রভুর আরশ তার নিশি ক্রন্দন।

Related Posts

11 Comments

মন্তব্য করুন