★ Grathor.com এ আপনিও ✍ লেখালেখি করে ভূমিকা রাখতে পারেন এবং পাশাপাশি অর্থ আয় করতে পারেন★এখানে ক্লিক করে বিস্তারিত জানুন★

বাবা-মা হল নিয়ামত

বাবা – মা ❤

দুনিয়ার সব থেকে বড় নিয়ামত। সেই রূহ এর জগৎ থেকে এই দুনিয়াতে আসার জন্য আরো একটা জগৎ ঘুরে আসতে হয় সেটাই হল মাতৃগর্ভ। 10মাস+ আগলে রাখছেন, ভাষায় প্রকাশ করা যায়না এরকম ব্যথা মুখ চেপে সহ্য করেছেন।তারপর যখন সন্তানের মুখ দেখল সব কষ্ট ভূলে গেল। আল্লাহ এর অসীম দয়া যে মায়ের দেহের ভিতরেও আমাদের খাবার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।সেই মা কত নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে হিসাব নেই…😣….এই মা কে এজনই জান্নাতের দরজার সাথে তুলনা করে হয়েছে।

 


আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্টসহকারে প্রসব করেছে।’ [সূরা আহকাফ : ১৫]। আর দুধপান করানো, সে তো আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনগুলির একটি।

 

আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমার সাহচর্যে আমার সদাচারণ পাওয়ার সবচেয়ে অগ্রাধিকারী কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বলল, অতঃপর কে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার মা। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তারপর তোমার পিতা। [সহীহ বুখারী-৫৬২৬]


 

বাবা——-

সে সারাদিন কষ্ট করে তার সন্তানটা যেন একটু ভালো থাকে,ভালো খাবার খেতে…ঈদে নিজের নতুন জামা না থাকলেও সন্তানদের জন্য ঠিকই নতুন জামা নিয়ে আসেন।সন্তানের জন্য এটাই সব থেকে নিরাপত্তার জায়গা সে মনে করে।

 

কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম যে মানতেই হবে,যাদের হাত ধরে সন্তান হাটতে শিখে একদিন তারা সেই ছোট শিশুর মত হয়ে যায়। তাদের হাট ধরে হাটাতে হয়।বয়স যত বাড়ে তাদের মধ্যে বাচ্চাদের মত আচরণ বেড়ে যায় 😭।

তখন কি আমরা তাদেএ সেই আমার ছোটবেলায় তারা যেভাবে আমাদের যত্ন নিয়েছেন সেইভাবে যত্ন নিতে পারি? নাকি দূরে ঠেলে দেয় 🤐..

কিয়ামতের একটা লক্ষণ এটাও যে, বাবা-মা এর সাথে খারাপ ব্যবহার করা হবে(বিশেষভাবে মেয়েরা)😣

একটু কিছু হলেই বলে ফেলি

 

” তোমরা কি করেছ, কি দিয়েছ আমাকে!!”

 

“যেটা বুঝোনা সেটা নিয়ে কথা বলবানা”

 

এমনকি তাদের শরীরে হাত তুলে ফেলে😳…

 

এগুলা সব আসছে এই টিভি বা আল্ট্রা মর্ডান ভাব থেকে…

 

“আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদাচারণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না। আর তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বল।’ [সূরা বণী ইসরাঈল : ২৩]

 

আল্লাহ এর তাওহীদের পরেই বাবা-মা এর স্থান দেখানো হয়েছে আর আজ তাদের কোথায় স্থান দেওয়া হচ্ছে??

বৃদ্ধাশ্রম বা কেও লোকলজ্জার ভয়ে কাজের লোকের মতই নিজের বাসায় রাখেন তাদের।

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি পিতার সন্তুষ্টিতে এবং আল্লাহ তা‘আলার অসন্তুষ্টি পিতার অসন্তুষ্টিতে’ -[তিরমিজি]।

 

এসব করা হয় আবার নামাজ,রোযা,হজ্জ,যাকাত এগুলাও করা হয়… একটু ভাবার জন্য অনুরোধ রইল কি করা হচ্ছে এগুলা আর এর ফল কি হতে পারে…

 

২য়টা কয়েকবার পড়বেন😣

হযরত মুয়াজ (রাঃ) কে দেওয়া রাসুল (সাঃ) এর ১০টি উপদেশ

 

❖ যদি কখনো তোমাকে হত্যা কিংবা পুড়িয়ে ফেলাও হয়, তবুও তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না।

❖ তোমার পিতামাতা ,পরিবার- পরিজন ধনসম্পদ হতে তাড়িয়ে দিলেও তাদের অবাধ্য হবে না।

 

❖ ইচ্ছাকৃতভাবে কখনোই ফরয নামাজ ত্যাগ করবেনা । স্বেচ্ছায় ত্যাগ করলে তার ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কোন দায়িত্ত্ব থাকবে না।

 

❖ কিছুতেই শরাব (হারাম পানীয়) পান করবে না। যা সমস্ত অশ্লীল কাজের মূল।

 

❖ সব রকমের পাপকার্য হতে নিজেকে দূরে রাখবে। তা না হলে আল্লাহর গজব অবতীর্ণ হবে।

❖ চরম কঠিন মুহূর্তেও জিহাদের ময়দান পরিত্যাগ করবে না।

 

❖ যেখানে তোমার অবস্থান, সেখানে মহামারী দেখা দিলেও সেখানেই অবস্থান করবে।

 

❖ সাধ্যমত পরিবার পরিজনের প্রয়োজনে অর্থ ব্যয় করবে।

 

❖ সন্তানদের আদব শেখাতে তাদের উপর শাসনের লাঠি সরাবেনা । এবং

 

❖ পরিবার-পরিজনকে সর্বদা আল্লাহর ভীতি প্রদর্শন করবে। (মুসনাদে আহমদ)

 

বাবা-মা এর সাথে আপনি যেমন ব্যবহার করবেন শুধু সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন আপনার সন্তান তার থেকেও কয়েকগুণ বেশি বোনাস সহ আপনাকে ফেরত দিবে।

 

হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রিয়নবি থেকে বর্ণনা করেন, ‘আল্লাহ তাআলা তাঁর ইচ্ছামাফিক অনেক গোনাহের শাস্তি কেয়ামতের দিন দেয়ার জন্য রেখে দেবেন; কিন্তু পিতা-মাতার অবাধ্যতা এমনই একটি গোনাহ যার শাস্তি আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতেই দিয়ে দেন।…

 

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেন প্রিয়নবি বলেছেন, ‘জান্নাতের হাওয়া পাঁচশত বছরের পথ অতিক্রম করে আসে। কিন্তু উপকার করার পর যে খোটা দেয়; পিতা-মাতার অবাধ্য ব্যক্তি এবং মদপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি এ হাওয়ার পরশটুকুও পাবে না। (তাবারানি, জামে সগির)..

 

আর এই যে অভিবাবক 🖐🖐🖐🖐…

 

ক্ষমতার অপব্যবহার কিন্তু করার অধিকার আপনার নাই। সন্তানদের সময় দেন সেও আপনাকে সময় দেবে।তাদের হক ভালোভাবে আদায় করেন আপনারটা কিছু বলার আগেই আদায় হয়ে যাবে।এই সন্তান আপনার যেমন জান্নাতের ঠিকানা হয়তে পারে তেমন বুকের উপর অয়া রেখে জাহান্নামেও নিয়ে যেতে পারে।

 

তেঁতুল গাছ লাগিয়ে মিষ্টি আমের আশা করা বোকামি ছাড়া কিচ্ছু না যেমন তেমনি সন্তানদের ছোট থেকে যদি বলিউড,হলিউড এর ভক্ত বানান তাহলে বলিউড,হলিউডের বাবা-মা এর মতই বয়স হইলে ছেলে যাবে বউ এর হাতে আর আপনি যাবেন বৃদ্ধাশ্রমে বা ঘরে থাকলেও সেটা কাজের লোকের থেকেও নিম্ন স্তরের হবে।

 

আর যদি ছোট থেকেই সন্তানদের ইসলাম নিয়ে শিখান শিওর থাকতে পারেন কখনো সে আপনাকে আঘাত করে কথা বলা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবে।

 

তাদের হক তাদের বুঝিয়ে দেন, আপনার হক অবশ্যই তারা বুঝিয়ে দেবেই😇

মন্তব্য করুন