Connect with us
★ Grathor.com এ আপনিও ✍ লেখালেখি করে আয় করুন★Click Here★

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

মহাকাশ ধারনা

Published

on

মঙ্গলগ্রহ এবং পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদে মানুষের অভিযান ও বসতি স্থাপনের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রযুক্তির উন্নতি এমন দ্রুতগতিতে হচ্ছে যে, আগামী এক দশকের মধ্যেই হয়ত মহাকাশ বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর বাইরের এ দু’টো জায়গায় মানুষের “দ্বিতীয় বাসস্থান” স্থাপন প্রক্রিয়া সফলভাবেই সম্পন্ন করতে পারবে; সম্প্রতি মঙ্গল ও চাঁদে পাঠানো বিভিন্ন মহাকাশযানের নানা তথ্য-উপাত্ত সে স্বাক্ষ্যই দিচ্ছে।

তাই মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এখনই ভাবতে শুরু করেছেন, মঙ্গল ও চাঁদের পরে কোথায়? নাসার বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই সে প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন । মংগল ও চাঁদের পরে মনুষ্য বসতি স্থাপনের সম্ভাব্য জায়গা হয়ত “টাইটান”।

যাঁরা মহাকাশ নিয়ে একটু পড়াশোনা করেন, তাঁরা জানেন, “টাইটান” হলো শনি ( স্যাটার্ন) গ্রহের একটি উপগ্রহ বা চাঁদ। পৃথিবীর যেমন একটি উপগ্রহ আছে, যার নাম “চন্দ্র”, তেমনি শনিগ্রহের আছে অসংখ্য উপগ্রহ যারা শনিগ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এ পর্যন্ত মহাকাশ বিজ্ঞানীরা শনির ৬২টি উপগ্রহ বা চাঁদের সন্ধান পেয়েছেন; যাদের ৫৩টির নামকরণ করা হয়েছে। “টাইটান” শনিগ্রহের বৃহত্তম চাঁদ। এখানে উল্লেখ্য যে, “টাইটান” আমাদের সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাঁদ; “জুপিটার গ্রহের” উপগ্রহ “গ্যালিলিয়ান মুনস” হ’লো সৌরজগতের বৃহত্তম উপগ্রহ।

শনির উপগ্রহ “টাইটান” নিয়ে বলার আগে শনিগ্রহ নিয়ে কিছু বলা দরকার। পৃথিবী থেকে সূর্য যে দিকে শনির অবস্থান ঠিক তার বিপরীত দিকে। দূরত্বের দিক থেকেও সূর্য ও শনি গ্রহের দূরত্ব পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের প্রায় ৯ গুন অর্থ্যাৎ ১.৪ বিলিয়ন কিলোমিটার। তাই সহজেই অনুমান করা যায় সূর্যের আলো ও উত্তাপ শনিগ্রহে পৌঁছে অনেক কম। আর শনিগ্রহ সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে পৃথিবীর প্রায় সাড়ে ২৯ বছরের মতো।

কিন্তু একটি সম্ভাবনাময় দিক হলো, শনিগ্রহ এবং তার উপগ্রহে পৃথিবী ও মংগলের মতো একটি সক্রিয় বায়ুমন্ডল আছে। এই সক্রিয় বায়ুমন্ডলই বিজ্ঞানীদের আশাভরসা জাগিয়েছে। হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ও মিথেন গ্যাসে ভরা এই দূরের গ্রহ ও তার উপগ্রহ নিয়েও তাই মহাকাশ বিজ্ঞানীদের এতো উৎসাহ -উদ্দীপনা।

শনির উপগ্রহ “ টাইটান” আবিষ্কার করেন ডাস মহাকাশবিজ্ঞানী ক্রিস্টিয়ান হিউজেন্স মার্চ ২৫, ১৬৬৫ সালে। গ্যালিলিও ১৬১০ সালে জুপিটারের সর্ববৃহৎ উপগ্রহ আবিষ্কার করেন এবং তা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েই ক্রিস্টিয়ান ও তার ভাই কন্সটান্টিন হিউজেন্স টেলিস্কোপের উন্নতি ও মহাকাশ নিয়ে নানা গবেষণা আরম্ভ করেন। মহাকাশ বিজ্ঞানে এই দুই ভাইয়ের অবদান গুরুত্বপূর্ণ ও অনস্বীকার্য।

১৬৬৫ সালের পর থেকে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা “টাইটান” নিয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন। সম্প্রতি নাসার বিজ্ঞানীরা “টাইটান”-এ মানুষের বসতি স্থাপনের পক্ষে কিছু যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।

“টাইটান”-এর বায়ুমন্ডল মংগল এবং পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদের বায়ুমন্ডল থেকেও অনেক পুরু। ফলে সূর্যের আলো এবং বায়ুচাপের যে প্রতিকূলতা মহাকাশ বিজ্ঞানীরা মংগল ও চাঁদে সহ্য করেন, “টাইটান”-এ সেটা অনেকটা সহনীয় মাত্রায় থাকবে এখানে।

“টাইটান”-এর আয়তন আমাদের পৃথিবীর চাঁদের আয়তনের প্রায় দেড়গুন। একমাত্র পৃথিবীর বাইরে “টাইটান”-এ আছে তরল সমুদ্র এবং লেক। যদিও এ লেকের তরল পদার্থ জল নয়, শুধুই মিথেন গ্যাস। তবুও এই মিথেন গ্যাসের লেক বা সমুদ্রে মানুষ মিথেন প্রতিরোধক পোশাক নিয়ে সাঁতার কাটতেও পারবে; এ টুকু সম্ভাবনাও কিন্তু মংগল ও চাঁদের পৃষ্ঠে নেই।

এখানে মধ্যাকর্ষণ টান পৃথিবীর মাত্র ১৪ শতাংশ কিন্তু এর পুরু বায়ুমন্ডলের জন্য মংগল ও চন্দ্র পৃষ্ঠের তুলনায় এখানে মহাকাশের পোষাক প’রে চলাফেরা করা অনেক সহজ হবে ব’লেই ধারণা।

সূর্য থেকে অধিক দূরত্বের জন্য এখানকার গড় তাপমাত্রা মাইনাস ১৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মতো। “টাইটান” একটি নির্দিষ্ট অক্ষকে কেন্দ্র করে শনি গ্রহকে আবর্তন করে এবং একবার আবর্তন করতে সময় লাগে ১৫দিন ২২ ঘন্টা কিন্ত এর অবস্থানের জন্য টাইটানের “দিন” সব সময় এই কক্ষ আবর্তনের ঠিক সমান থাকে।

পৃথিবী থেকে “টাইটান”- এ যেতে সময় লাগবে প্রায় ৭ বছরেরও অধিক সময়। এই দীর্ঘ সময়ের জন্য শনি ও তার উপগ্রহ “টাইটান” নিয়ে গবেষণা করাও বেশ সময় সাপেক্ষ।

তবুও বিজ্ঞানীদের ধারণা, মংগল ও চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষের বসতি নিশ্চিত করতে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের এখন থেকে যে সময়টুকু লাগবে , “টাইটান” অভিযানে এখন যেসব প্রতিকূলতা আছে সেগুলো ততোদিনে সমাধান হয়ে যাবে।

মানুষের কল্পনা ও স্বপ্নের কোনো সীমারেখা নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতি মানুষের সেই অসীম স্বপ্নকে বাস্তব করে তোলে।

১৬৬৫ সালে ক্রিস্টিয়ান হিউজেন্স যখন “টাইটান” আবিস্কার করেন, সেদিন তিনি কি ভেবেছিলেন ১.৪ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরের তাঁর আবিস্কৃত উপগ্রহে বসতি স্থাপনের কথা ভাববে তাঁরই উত্তর প্রজন্মের বিজ্ঞানীরা একদিন?

Advertisement
Click to comment

You must be logged in to post a comment Login

Leave a Reply

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

রোবট কাহিনি

Published

on

রোবট শব্দের অর্থ হচ্ছে দাসত্ব। এই সুত্র থেকেই যন্ত্র দাস বা যন্ত্র ক্রীতদাস অর্থে রোবট শব্দটির ইংরেজিভাষায় প্রথম ব্যবহার করেন ইউরোপীয় লেখক কারেল চাপেক তার আর ইউ আর নাটকে। চাপেক এর নাটকের পর থেকেই রোবট শব্দটি ইংরেজিভাষায় পাকাপাকি ভাবে জায়গা করে নেয়।

মার্কিন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী উইলিয়াম গ্রে সর্বপ্রথম রোবট পশু তৈরি করেন। গ্রে তার রোবট পশুর নাম দিয়েছিলেন টেস্টিউডো যার অর্থ কচ্ছপ। তিনি যন্ত্রটি এমন ভাবে তৈরি করেছিলেন যাতে সেটি কোন জীবন্ত প্রানির একাধিক প্রতিক্রিয়া নকল করতে পারে। যেমন যন্ত্রটির চোখের জায়গায় ছিল আলোক তড়িৎ কোষ, স্পর্শ অনুভব করার জন্য ছিল সুবেদি ব্যবস্থা। এছারা সামনে পিছনে কিংবা বাক নেয়ার জন্য ছিল একাধিক মোটরের ব্যবস্থা। রোবটটি অন্ধকারে চলতে পারত । চলার পথে যখনি কোন বাধা পেত তখনি কিছুটা পিছিয়ে এসে সামান্য বাক নিয়ে আবার এগিয়ে যেত সাম্নের দিকে। এইভাবে বার বার বাধা পেলেও রোবটটি পাশ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারত। আবার তার চোখ কোন আলো দেখতে পেলে সরাসরি সেই আলোর দিকে এগিয়ে যেত। কিন্তু রোবটটির ব্যাটারির ক্ষমতা কমে গেলে তার আচরন পাল্টে যেত। ব্যাটারি কমে গেলে রোবটটি নিজে নিজেই চার্জ এর জায়গায় গিয়ে নিজেকে চার্জ করতে পারত। ব্যাটারি চার্জ করা শেষ হলে সে নিজেই বের হয়ে আসত। আবার নিজের কাজে নিয়জিত হত।

আজকের দিনে টেস্টিউডের মত অনেক খেলনা হয়ত পাওয়া যাবে । কিন্তু সেই সময়ে উইলিয়ামের বুদ্ধিমান রোবট পশু যে একটি অভিনব আবিষ্কার ছিল তাতে কোন সন্দেহ নেই।

বিভিন্ন জিনিসের যেমন শ্রেনিবিভাগ আছে তেমনি রোবটেরও শ্রেনিবিভাগ আছে। রোবটকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। টার্টল, আর্ম, মোবাইল। টার্টল অনেকটা টেস্টিউডের মত। ছক  বাধা নিয়ম অনুসরন করে চলে। আর্ম হল বাহু সম্পন্ন রোবট। যা একই জায়গায় দারিয়ে থেকে শুধু যান্ত্রিক বাহু দ্বারা কোন জিনিশ তুলে নেয়, জোরা লাগায় বা কোন কাজ করে থাকে। আর মোবাইল হল বুদ্ধিমান চলমান মোটর রোবট। এ ধরনের রোবটের অনেক রকম নির্দেশ মেনে কাজ করার ক্ষমতা আছে। যেমন কুকুরকে বেরিয়ে নিয়ে আসা বা গ্লাসে পানি ঢেলে দেয়া । এ রকম আরও বহু কাজ করতে পারে।

রোবটের মস্তিষ্ক হচ্ছে একটি কম্পিউটার ,আর তাকে যেসব নির্দেশ দেয়া হয় তা কম্পিউটার প্রোগ্রাম বলা যেতে পারে। এই নিতি কাজে লাগিয়ে পশ্চিমের জগতে অনেক রোবট তৈরি করা হচ্ছে। আর্ম রোবট বেশিভাগ কলকারখানায় কাজে লাগান হয়। আর টার্টল রোবট বিভিন্ন গবেষণা কাজে ব্যাবহার করা হয়।

সুইডেন এ রোবট সংখ্যা সব থেকে বেশি। কারন সুইডেনে শ্রমিক এর অনেক অভাব। এর পরে আছে জাপান। সব শেষে ইতালি। ভারতেও রোবট ব্যাবহার সুরু হলেও তার সংখ্যা অনেকই কম।

Continue Reading

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

যে গাছে ধরে চল্লিশ প্রজাতির ফল

Published

on

একই গাছে চল্লিশ রকম ফল! অবাক হচ্ছেন? ঘটনাটির সূচনা ঘটিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্যাম ভেন অ্যাকেন। কিন্তু তিনি সবাইকে অবাক করার জন্য আবিষ্কার করেননি। তার মূল লক্ষ্য ছিল বিরল প্রজাতির কিছু ফলকে সংরক্ষণ করা।
শুরুটা হয় ২০০৮ সালে।

যখন ভ্যান অ্যাকেন জানতে পারেন, পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় নিউ ইয়র্কের জেনেভার একটি কৃষি গবেষণা স্টেশনের একটি ফলের বাগান বন্ধ হতে চলেছে। সেখানে অসংখ্য মিশ্র ও দেশজ প্রজাতির বিভিন্ন রকমের ফলের গাছ ছিল। সেখানকার বেশ কয়েকটি গাছের বয়স ১৫০-২০০ বছর হবে।

অথচ টাকার ঘাটতির কারণে অনেক দুর্লভ প্রজাতির ফলগাছ শেষ হবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। ঠিক সেই সময় ফল বাগানটি কিনে নেন ভেন অ্যাকেন।

এবং তিনি ভাবলেন দুর্লভ প্রজাতির ফলগাছগুলোকে কী করে একত্রে রাখা যায়। তার মাথায় এল কলম করার বুদ্ধি। তারপর গাছগুলো থেকে কলম নিয়ে একটি গাছে রূপান্তরের চেষ্টা চালিয়ে যেতে লাগলেন এবং এভাবে গাছটির বয়স দু’বছর হলে তিনি চিফ গ্রাফটিং নামক একটি নতুন পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা শুরু করলেন । অতঃপর ফলের কলিসহ অন্য একটি গাছের ফালি পরীক্ষা করা গাছটির মধ্যে কেটে সেখানে স্থাপন করেন।

সেটা সেভাবেই কয়েক মাস রেখে শীতকাল পার করা হয়। সব ঠিকঠাক থাকলে , পরীক্ষা করা গাছটির শাখা-প্রশাখা অন্য আর দশটি গাছের মতোই বেড়ে উঠবে।এরপর তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবৎ এই এক্সপেরিমেন্ট চালানোর পর ভ্যান অ্যাকেনের প্রথম চল্লিশটি ফলের গাছটি ভাল ভাবে বেড়ে ওঠে।তার এই আবিষ্কার সবাইকে অবাক করে দেয়। তিনি জন্ম দেন নতুন এক ইতিহাসের। একটি গাছে চল্লিশ রকম ফলের উদঘাটন করে সবাইকে চমকে দেয়। এর আগে কেউ হয়তো এমন আশ্চর্যজনক ভাবে কোন কিছু আবিষ্কার করেন নি। পৃথিবীর ইতিহাসে তার এই অবদান সত্যিই অতুলনীয়।

স্যাম ভেন অ্যাকেন পেন্সিলভানিয়া ডাচের একটি কৃষক পরিবারে সন্তান তিনি। তিনি একজন সাধারণ মানুষ হয়ে অসাধারণের সূচনা করেন। ভ্যান অ্যাকেন আড়াইশ’ প্রজাতির ওপরে কাজ করেছেন।তাঁর আবিষ্কার এখানে শেষ নয়। তিনি ভবিষ্যতে তার ইচ্ছে গ্রামাঞ্চলে নয়, শহরের নানা এলাকায় এ ধরনের গাছ লাগাবেন। পোর্টল্যান্ডের কাছে দক্ষিণ মেইনে তার নিজস্ব ফল বাগান করার পরিকল্পনা করেছেন। ফল উৎপাদনের ধারায় এক নতুন ইতিহাস তৈরি করছে এই চল্লিশ ফলের গাছ।

আপনি ভাবছেন তিনি হয়তো বড় কোনো কৃষি গবেষক। কিন্তু না তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন চিত্রশিল্পকে। বর্তমানে সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্যবিদ্যা বিভাগে অধ্যাপনা করছেন তিনি। তবে তার জীবনের সেরা কীর্তিটির পেছনে কৃষিবিদ্যা ও চিত্রশিল্প দুটোরই অবদান আছে। পেশাগত ভাবে চিত্রকে বেছে নিলেও তিনি কৃষি ক্ষেত্রে এমন আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটান। যা সত্যিই অবাক করার বিষয়। যে বিষয়ে তাঁর তেমন ধারণা নেই সে বিষয়ে এমন অবদান সৃষ্টি করে সবাইকে চমকে দিলেন তিনি। তাঁর এই আবিষ্কারের ফলে কৃষি কাজের অনেকটা সহায়তা হবে।

তিনি একজন অতুলনীয় মানুষ। তাঁর চিন্তা ধারায় তৈরি কৃত এই আবিষ্কার সত্যিই অতুলনীয় ও অসাধারন। তাঁর এই আবিষ্কার সাধারণ মানুষের জন্য অনেক উপকারে আসবে। তাঁর মত এমন অন্য জনের উপকার করে আবিষ্কার করা কোন সাধারণ কাজ নয়। এমন কাজের জন্ম দেয়াটা সত্যিই অবাক করার মত। হয়তো একদিন পৃথিবীর বড় বড় আবিষ্কারকদের মাঝে তাঁর এই অবদানটিও উল্লেখ্য থাকবে।

Continue Reading

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

মঙ্গল গ্রহে জীবন

Published

on

By

বর্তমান সময়ে বিজ্ঞানীদের কাছে মঙ্গলগ্রহ নিয়ে আগ্রহ কম নয়। মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব সন্ধানে বিজ্ঞানীদের জল্পনা কল্পনা ব্যাপক। মঙ্গলগ্রহ সম্পর্কে আমরা অনেকে তেমন ঠিকভাবে জানিনা। তাই নিচের লিখাটির মাধ্যমে বিস্তারিত জেনে আসি মঙ্গলগ্রহ সম্পর্কে। মঙ্গল গ্রহের সাথে পৃথিবীর তুলনামূলক মিল থাকার কারণে জ্যোতিজীববিজ্ঞানে অত্যন্ত আগ্রহের একটি বিষয়। এখন অব্দি অবশ্য মঙ্গল গ্রহে কোনো জীবনের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অবশ্য ক্রমবর্ধিষ্ণু একাধিক প্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে প্রাচীন কালে এই গ্রহে তরল পানির উপস্তিতি ছিল। যা গ্রহটির আণবিক জীবন থাকার সম্ভাবতাকে বাড়িয়ে দেয়। অবশ্য এতেই নিশ্চিত করে বলা যায় না যে ,বর্তমানেও গ্রহটিতে প্রাণ বা জীবন বিদ্যমান। ঊনবিংশ শতাব্দী থেকেই বিজ্ঞানীরা মঙ্গলে প্রাণের সন্ধান শুরু করেছেন। আদিকালের গবেষণা মূলত কল্পনা নির্ভর হলেও বর্তমানে আধুনিক বিজ্ঞানের প্রভাবে মঙ্গলের মাটি ,পাথর এমনকি গ্রহের পরিবেশে বিদ্যমান গ্যাস ইত্যাদির গঠনশৈলীও এই প্রাণের সন্ধান গবেষণার গুরুত্তপূর্ণ অঙ্গ হয়ে উঠেছে। ২০১৬ সালের ২২ শে নভেম্বর নাসা গ্রহটির প্লানিটিয়া ইউটোপিয়া অঞ্চলে ভূগৰ্ভস্থ বরফের সন্ধান পেয়েছে বলে ঘোষণা করে। এতে যে পরিমান পানি পাওয়া গিয়েছে তা প্রায় সুপিরিয়র হ্রদের পানির সমান। ২০১৭ সালে ৫ ই সেপ্টেম্বর বিজ্ঞানীরা রিপোর্ট করেন যে কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলে রোবনের সন্ধান পেয়েছে,যা পৃথিবীর জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহের মধ্যে একটি। এরপূর্বে পাওয়া পানির সন্ধান মঙ্গলে পূর্বে একদা জীবনের অস্তিত্ব ছিল বলেই সমর্থন করে। ১৮৫৪ সালে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজের সভ্য উইলিয়াম হিউয়েল মঙ্গল গ্রহে সমুদ্র ,মাটি এমনকি প্রাণের সম্ভাবনা আছে বলেও তত্ত্ব প্রদান করেনা। ঊনবিংশ শতাব্দীতে এসে মঙ্গলে প্রাণের ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ করার হার হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। এই সময়ে একাধিক পর্যবেক্ষক মঙ্গলে খাল পর্যবেক্ষণ করেন।যা পরবর্তীতে অবশ্য দৃষ্টিভ্রম বলে প্রমাণিত হয়। এতসত্বেও মার্কিন বিজ্ঞানী পার্সিভাল লোওয়েল ১৫৯৫ সালে মঙ্গোল গ্রহ ও ১৯০৬ সালে মঙ্গোল গ্রহ ও এর খাল নামক বই প্রকাশ করেন। এই বইয়ে তিনি মঙ্গলে দীর্ঘকাল আগে বিরাজ করা সভ্যতা এই খালগুলো সৃষ্টি করেছেন বলে দাবি করেন পরিবেশে উল্লেখযোগ্য উপাদান হিসেবে তরল পানির উপস্থিতি মঙ্গল গ্রহে জীবন থাকার জন্য উল্লেখযোগ্য উপাদান। তবেই শুধুমাত্র তরল পানির অস্তিত্ব গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব আছে বলে জানান নিশ্চিত করেনা। মঙ্গলের ভূমন্ডলে তরল পানি অবস্থান করতে পারেনা। সর্বনিম্ন উচ্চতায় ভূমিতে তরল পানি মাত্র কয়েক মিনিট অথবা ঘন্টায় থাকতে পারে। তরল পানি ভুপৃষ্ঠে উপস্থিত থাকতে পারেনা। মঙ্গলগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব সন্ধানে একাধিকবার বিভিন্ন নভোযান পাঠানো হয়েছে মাভেন ,মঙ্গলযান ,ফিনিক্স ও কিউরিওসিটি রোভার। এমন দিন আর বেশি দূরে নয় যেখানে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাবেন।

Continue Reading
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন