Connect with us
★ Grathor.com এ আপনিও ✍ লেখালেখি করে আয় করুন★Click Here★

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

মহাকাশ ধারনা

Saiful Islam

Published

on

মঙ্গলগ্রহ এবং পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদে মানুষের অভিযান ও বসতি স্থাপনের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রযুক্তির উন্নতি এমন দ্রুতগতিতে হচ্ছে যে, আগামী এক দশকের মধ্যেই হয়ত মহাকাশ বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর বাইরের এ দু’টো জায়গায় মানুষের “দ্বিতীয় বাসস্থান” স্থাপন প্রক্রিয়া সফলভাবেই সম্পন্ন করতে পারবে; সম্প্রতি মঙ্গল ও চাঁদে পাঠানো বিভিন্ন মহাকাশযানের নানা তথ্য-উপাত্ত সে স্বাক্ষ্যই দিচ্ছে।

তাই মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এখনই ভাবতে শুরু করেছেন, মঙ্গল ও চাঁদের পরে কোথায়? নাসার বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই সে প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন । মংগল ও চাঁদের পরে মনুষ্য বসতি স্থাপনের সম্ভাব্য জায়গা হয়ত “টাইটান”।

যাঁরা মহাকাশ নিয়ে একটু পড়াশোনা করেন, তাঁরা জানেন, “টাইটান” হলো শনি ( স্যাটার্ন) গ্রহের একটি উপগ্রহ বা চাঁদ। পৃথিবীর যেমন একটি উপগ্রহ আছে, যার নাম “চন্দ্র”, তেমনি শনিগ্রহের আছে অসংখ্য উপগ্রহ যারা শনিগ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এ পর্যন্ত মহাকাশ বিজ্ঞানীরা শনির ৬২টি উপগ্রহ বা চাঁদের সন্ধান পেয়েছেন; যাদের ৫৩টির নামকরণ করা হয়েছে। “টাইটান” শনিগ্রহের বৃহত্তম চাঁদ। এখানে উল্লেখ্য যে, “টাইটান” আমাদের সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাঁদ; “জুপিটার গ্রহের” উপগ্রহ “গ্যালিলিয়ান মুনস” হ’লো সৌরজগতের বৃহত্তম উপগ্রহ।

শনির উপগ্রহ “টাইটান” নিয়ে বলার আগে শনিগ্রহ নিয়ে কিছু বলা দরকার। পৃথিবী থেকে সূর্য যে দিকে শনির অবস্থান ঠিক তার বিপরীত দিকে। দূরত্বের দিক থেকেও সূর্য ও শনি গ্রহের দূরত্ব পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের প্রায় ৯ গুন অর্থ্যাৎ ১.৪ বিলিয়ন কিলোমিটার। তাই সহজেই অনুমান করা যায় সূর্যের আলো ও উত্তাপ শনিগ্রহে পৌঁছে অনেক কম। আর শনিগ্রহ সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে পৃথিবীর প্রায় সাড়ে ২৯ বছরের মতো।

কিন্তু একটি সম্ভাবনাময় দিক হলো, শনিগ্রহ এবং তার উপগ্রহে পৃথিবী ও মংগলের মতো একটি সক্রিয় বায়ুমন্ডল আছে। এই সক্রিয় বায়ুমন্ডলই বিজ্ঞানীদের আশাভরসা জাগিয়েছে। হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ও মিথেন গ্যাসে ভরা এই দূরের গ্রহ ও তার উপগ্রহ নিয়েও তাই মহাকাশ বিজ্ঞানীদের এতো উৎসাহ -উদ্দীপনা।

শনির উপগ্রহ “ টাইটান” আবিষ্কার করেন ডাস মহাকাশবিজ্ঞানী ক্রিস্টিয়ান হিউজেন্স মার্চ ২৫, ১৬৬৫ সালে। গ্যালিলিও ১৬১০ সালে জুপিটারের সর্ববৃহৎ উপগ্রহ আবিষ্কার করেন এবং তা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েই ক্রিস্টিয়ান ও তার ভাই কন্সটান্টিন হিউজেন্স টেলিস্কোপের উন্নতি ও মহাকাশ নিয়ে নানা গবেষণা আরম্ভ করেন। মহাকাশ বিজ্ঞানে এই দুই ভাইয়ের অবদান গুরুত্বপূর্ণ ও অনস্বীকার্য।

১৬৬৫ সালের পর থেকে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা “টাইটান” নিয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন। সম্প্রতি নাসার বিজ্ঞানীরা “টাইটান”-এ মানুষের বসতি স্থাপনের পক্ষে কিছু যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।

“টাইটান”-এর বায়ুমন্ডল মংগল এবং পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদের বায়ুমন্ডল থেকেও অনেক পুরু। ফলে সূর্যের আলো এবং বায়ুচাপের যে প্রতিকূলতা মহাকাশ বিজ্ঞানীরা মংগল ও চাঁদে সহ্য করেন, “টাইটান”-এ সেটা অনেকটা সহনীয় মাত্রায় থাকবে এখানে।

“টাইটান”-এর আয়তন আমাদের পৃথিবীর চাঁদের আয়তনের প্রায় দেড়গুন। একমাত্র পৃথিবীর বাইরে “টাইটান”-এ আছে তরল সমুদ্র এবং লেক। যদিও এ লেকের তরল পদার্থ জল নয়, শুধুই মিথেন গ্যাস। তবুও এই মিথেন গ্যাসের লেক বা সমুদ্রে মানুষ মিথেন প্রতিরোধক পোশাক নিয়ে সাঁতার কাটতেও পারবে; এ টুকু সম্ভাবনাও কিন্তু মংগল ও চাঁদের পৃষ্ঠে নেই।

এখানে মধ্যাকর্ষণ টান পৃথিবীর মাত্র ১৪ শতাংশ কিন্তু এর পুরু বায়ুমন্ডলের জন্য মংগল ও চন্দ্র পৃষ্ঠের তুলনায় এখানে মহাকাশের পোষাক প’রে চলাফেরা করা অনেক সহজ হবে ব’লেই ধারণা।

সূর্য থেকে অধিক দূরত্বের জন্য এখানকার গড় তাপমাত্রা মাইনাস ১৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মতো। “টাইটান” একটি নির্দিষ্ট অক্ষকে কেন্দ্র করে শনি গ্রহকে আবর্তন করে এবং একবার আবর্তন করতে সময় লাগে ১৫দিন ২২ ঘন্টা কিন্ত এর অবস্থানের জন্য টাইটানের “দিন” সব সময় এই কক্ষ আবর্তনের ঠিক সমান থাকে।

পৃথিবী থেকে “টাইটান”- এ যেতে সময় লাগবে প্রায় ৭ বছরেরও অধিক সময়। এই দীর্ঘ সময়ের জন্য শনি ও তার উপগ্রহ “টাইটান” নিয়ে গবেষণা করাও বেশ সময় সাপেক্ষ।

তবুও বিজ্ঞানীদের ধারণা, মংগল ও চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষের বসতি নিশ্চিত করতে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের এখন থেকে যে সময়টুকু লাগবে , “টাইটান” অভিযানে এখন যেসব প্রতিকূলতা আছে সেগুলো ততোদিনে সমাধান হয়ে যাবে।

মানুষের কল্পনা ও স্বপ্নের কোনো সীমারেখা নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতি মানুষের সেই অসীম স্বপ্নকে বাস্তব করে তোলে।

১৬৬৫ সালে ক্রিস্টিয়ান হিউজেন্স যখন “টাইটান” আবিস্কার করেন, সেদিন তিনি কি ভেবেছিলেন ১.৪ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরের তাঁর আবিস্কৃত উপগ্রহে বসতি স্থাপনের কথা ভাববে তাঁরই উত্তর প্রজন্মের বিজ্ঞানীরা একদিন?

Advertisement
1 Comment

1 Comment

  1. Ratul Foysal

    Ratul Foysal

    April 14, 2020 at 9:07 pm

    Nc

You must be logged in to post a comment Login

Leave a Reply

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ওয়্যারলেস চার্জারেরও ব্যবস্থা আছে এই সাউন্ড বক্সে

Rajib Saha

Published

on

টেকনোলজি রিলেটেড এখন একটি খুব ইন্টারেস্টিং ডিভাইস নিয়ে কথা বলব।কী সেই ডিভাইস আর কেন এটি ইন্টারেস্টিং এই নিয়েই আজকের লেখালেখি।তো শুরু করা যাক আজকের আর্টিকেল।

আমরা সবাই সবকিছুতেই বেশী বেশী সুবিধা চাই,আবার অনেক সময় সুবিধা পেয়েও যাই,অনেক সময় পাই না। আবার এমন সুবিধা চাই যেটা হয়তো কল্পনাতেই থাকে আবার এমন অনেক সুবিধা আছে যা আমরা ভাবতেও পারিও না।যাহোক,আজকে যেই ডিভাইসটির কথা বলব সেটি আর কিছুই না সেটি একটি সাউন্ডবক্স।তবে এটাকে যদি নরমাল সাউন্ড বক্স বলে উড়িয়ে দেন তাহলে সেটা অবশ্যই ঠিক না।অর্থাৎ এই সাউন্ডবক্সের কিছু দিক আছে যার জন্য এই বক্সটিকে নিয়ে আজকের লেখা,যদি নরমাল সাউন্ড বক্স হতো তাহলে তো আর শুধু শুধু কষ্ট
করে আর্টিকেল লিখতে বসতাম না। তো কী এটার এমন বিশেষত্ব?সরাসরি উত্তরটা পরে দেই, ধরুন আপনি চাচ্ছেন আপনার সাউন্ড বক্সটি বাজাতে কিন্তু ফোনেও চার্জ নেই এখন কী করবেন?

খুবই সহজ আরেকটি প্লাগে চার্জ দেবেন আর আরেকটিতে সাউন্ড বক্সের কানেকশন দেবেন। তবে কেমন হতো যদি এই দুটি কাজই একসাথে করা যেত?অর্থাৎ আপনি সাউন্ড বক্স বাজাচ্ছেন আর ওই বক্স থেকেই চার্জও দিচ্ছেন।

,ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং না?এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো। আর যে ডিভাইসটির জন্য এটি সম্ভব হচ্ছে তা হলো SOUNDFORM ELITE SMART SPEAKER যেটি Belkin কোম্পানি তৈরি করেছে।এটির মাধ্যমে আপনি আবার ওয়্যারলেস ব্যবস্থায়ও চার্জ দিতে পারবেন। আর চার্জ ও হবে অতি দ্রুত এবং আপনার ফোনও সেফ থাকবে।

এবার আসি সাউন্ডবক্সটির কিছু খুঁটিনাটি নিয়ে কথা বলব,সাউন্ডবক্সটি Wireless,ব্লুটুথ এবং ওয়াইফাই ব্যবস্থা আছে।এটির মাধ্যমে খুব Smooth আর High Quality’র মিউজিক বা অডিও শুনতে পারবেন।এটি ৬.৪ ইঞ্চি প্রশ্বস্তবিশিষ্ট,লম্বায় ৬.৬৩ ইঞ্চি এবং এটির ওজন ১ কেজি ২৫০ গ্রাম।ওজনেও এটি ওতটা ভারী নয়।এটি বাজারে সাদা আর কালো রঙে পাওয়া যাচ্ছে।

এটিতে আরও ফিচার যুক্ত আছ যেমন এটির সাথে Voice assistant হিসেবে Google Assistant কে যুক্ত করা হয়েছে,ফলে এই সাউন্ডবক্সের মাধ্যমে আপনি গুগলকে নানান প্রশ্ন করতে পারবে,অর্থাৎ এই বক্সে আবার Google Assistant এর সুবিধাও পাচ্ছেন।

সুতরাং বোঝই যাচ্ছে যে, এই সাউন্ডবক্সটি অন্যান্য সাউন্ড বক্সের থেকে আলাদা আর বিশেষ ফিচারযুক্ত।তবে একটি বিষয় জেনে রাখা দরকার,সেটি হচ্ছে এই স্মার্ট ফাস্ট চার্জিং এর সুবিধা আপনি আইফোন,গুগলফোন আর স্যামস্যং এ পাবেন,অন্যান্য ফোনে খুব সম্ভবত নাও পেতে পারেন।

আশা করি আজকের আর্টিকেলটি ভালো লেগেছে।কোথাও ভুল হলে ক্ষমাদৃষ্টিতে দেখবেন।মনযোগ দিয়ে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

সবাই ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন।

Continue Reading

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

কানে লাগালে চারপাশ কোলাহলমুক্ত করে দেবে এই ইয়ারফোন

Rajib Saha

Published

on

আজ খুব ইন্টারেস্টিং একটা টেকনোলজি রিলেটেড টপিক আপনাদের সাথে শেয়ার করব।একটা হেডফোন সম্পর্কে শেয়ার করব।অবশ্য এটাকে হেডফোন না বলে এয়ারফোন বলাই ঠিক হবে।অর্থাৎ আমরা যে বিরক্তিকর তারওয়্যালা ইয়ারফোন ব্যবহার করি এইরকমই এটাও তারওয়্যালা, অর্থাৎ ওয়্যারলেজ বা ব্লুটুথ ইয়্যারফোন নয়। তবে কী আছে এই ইয়ারফোনে যার জন্য এটিকে আজকের টেকনোলজি আর্টিকেলে লেখা হচ্ছে?এটার কী কোন বিশেষত্ব আছে?

হ্যা অবশ্যই এটার বিশেষত্ব আছে যার জন্য এটি নরমাল তারযুক্ত ইয়ারফোন হলেও অন্য সব ইয়ারফোন থেকে আলাদা।এই বিশেষত্ব সম্পর্কেই আমরা জানব আজকের পোস্টে।তো চলুুন শুরু করা যাক।

আমরা সবাই হেডফোন ব্যবহার করি।মূলত হোডফোন অনেকেই আমরা Show-off এর ব্যবহার করি,আবার ভালো মানের হেডফোনে গান শুনতো কিছুটা ভালো লাগে তাই হেডফোন ব্যবহার করি এবং একটা সুন্দর এবং অন্যরকম মুহূর্ত উপভোগ করি।অনেকে ব্লুটুথ ইয়ারফোন ব্যবহার করি,কারণ তারের প্যাচের চেয়ে এই ব্লুটুথ ইয়ারফোন অনেক ভালো,আবার এটিও অনেকে
Show-off এর জন্য ব্যবহার করি।আর বেশীরভাগ ই তো নরমাল তারযুক্ত ইয়ারফোন ব্যবহার করিই।তবে যে ধরণের আর যত ভালো মানেরই এয়ারফোন ব্যবহার করি না কেন কোলাহল পূর্ণ স্থানে আমরা গান শুনতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করি না।কেমন হত যদি এই কোলাহলকে থামানো যায়?আসলে কোলাহল কে তো আর থামানো যাবে না তবে আপনি চাইলেই কোলাহলকে আপনার কানে আসতে বাধা দিতে পারেন!এমন মনে হবে যে আপনি কানে শুনেন না।হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন।অর্থা যে ইয়ারফোনটির কথা প্রথমেই বলেছিলাম, সেই ইয়ারফোনটি দ্বারাই এটি সম্ভব।

ইযারফোনটির নাম ‘Boise Noise Cancellation ‘ অর্থাৎ এই ইয়ারফোনটিতে এমন টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে যার জন্য আপনার কানে বাইরের কোন শব্দই আসবে না।ধরুন আপনি বাসে যাচ্ছেন,চারপাশে অনেক কোলাহল আপনি গান শুনতে চাচ্ছেন এখন এই ইয়ারফোনটির যেই ছোট আর চিকন ফোনের আকারের মতো অর্থাৎ আয়তাকার দেখা মতো দেখা যাচ্ছে সেখানে একটি বাটন আছে, সেই বাটনটি স্লাইড করলেই এই মোড চালু হয়ে যাবে আর সাথে সাথেই চারপাশ নিরব হয়ে যাবে এবং আপনি একদম গানের জগৎে চলে যাবেন।তবে আরেকটি আকর্ষণীয় ফ্যাক্ট হচ্ছে গান শোনা ছাড়াও এটি ব্যবহার করে আরামে ঘুমাতে পারেন, বাইরের কোন শব্দই আসবে না আপনার কানে।একটা Green light indicator আছে, যেটি জ্বললে অন বোঝাবে। তবে চারপাশ কোলাহল করতে এতে একটি ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। তারমানে ব্যাটারি চার্জ শেষ হয়ে গেলে আপনি চারপাশ কোলাহলমুক্ত করতে পারবেন না।,তখন শুধুই নরমাল ভাবে অন্যান্য ইয়ারফোনের মতো ই গান শুনতে পারবেন।আর ব্যাটারি চার্জ দিতেও বেশী সময় লাগে না,আর ফুল চার্জ হয়ে গেলে দীর্ঘসময় Noise Cancellation সুবিধাটি উপভোগ করতে পারবেন। আর এই ইয়ারফোনের সাউন্ড কোয়ালিটিও কিন্তু খুব ভালো।

আশা করি আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে।।
সবাই ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন,ধন্যবাদ।

Continue Reading

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্ভাবনাময় পাঁচটি আইওটি প্রযুক্তির ব্যবহার

Lil20 20

Published

on

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের হাওয়া ক্রমশই লাগতে শুরু করেছে বাংলাদেশেও। সমগ্র বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপিত হয়েছে মহাকাশে। তাই আজ আমাদের স্বপ্ন আর প্রত্যাশাও বিস্তৃত হয়েছে মহাকাশ অব্দি। ইন্টারনেট অফ থিংস বা আইওটি প্রযুক্তি তাই আজ আমাদের জন্য আর কল্পনা নয়, নয় কেবল সায়েন্স ফিকশন বইয়ের কিছু উদ্ভট কর্মকাণ্ড। বরং সম্ভাবনার নতুন দুয়ারে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। ধারণা করা হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্থনীতি কে আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে দেবে এই আইওটি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার।

আইওটি বা ইন্টারনেট অফ থিংস হল এমন একটি নেটওয়ার্ক যেখানে মানুষের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শ ছাড়াই কতগুলো কম্পিউটার এবং ডিজিটাল যন্ত্রের মধ্যে ইন্টারনেটের সাহায্যে তথ্যের আদান প্রদান ঘটে এবং সেই প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী যন্ত্র নিজেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে। বলা যায়, একটি যন্ত্র অপর একটি যন্ত্রের সাথে ইন্টারনেটের সাহায্যে যোগাযোগ করে ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলে ঘর, অফিস কিংবা কারখানায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সমন্বয় ও যন্ত্রের নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে একজন ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। কি দারুণ, তাইনা? হ্যাঁ, আজ তাই আপনাদের জন্যে নিয়ে এসেছি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমনই পাঁচটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রের খোঁজ ।
১) বিদ্যুৎ সাশ্রয়ঃ সকালে অফিস কিংবা ক্লাস ধরতে সবারই মোটামুটি বেশ কষ্ট হয়। আপনি যত সকালেই ঘুম থেকে ওঠেন না কেন তাড়াহুড়া করে বাইরে যাওয়ার সময় ঘরের ফ্যান কিংবা লাইটের সুইচ বন্ধ করতে আমরা অনেকেই ভুলে যাই। এতে যেমন আপনার বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে তোলে তেমনি দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ শক্তির অপচয় হয়।
কেমন হয় যদি কোনো সেন্সর ঘরে থাকে যা আপনি ঘর থেকে বের হবার সাথে সাথেই বুঝতে পারে এবং ফ্যান ও লাইটের সুইচে নির্দেশনা দিয়ে দেয় বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য? আবার আপনি অন্ধকার ঘরে প্রবেশ করা মাত্রই আপনাকে লাইটের সুইচ খুঁজে বের করার ঝামেলা না করতে হয়? হ্যাঁ, এটিই আইওটি প্রযুক্তির সুবিধা। আইওটি এর এই কনসেপ্ট ঘরের প্রায় প্রতিটি ডিজিটাল ডিভাইসের সাথে কাজ করে। এমনকি আইওটি ভিত্তিক অটোমেশন সিস্টেম ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা বিশ্বের যে কোনও জায়গা থেকে ঘরের যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
২) ফসল উৎপাদনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতেঃ কৃষি কাজে এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশে দারুণ সম্ভাবনাময়। ফসলের মাঠের বিভিন্ন তথ্য যেমন তাপমাত্রা, বাতাসের আর্দ্রতা, বায়ুচাপ, মাটির আর্দ্রতা অর্থাৎ দৈনন্দিন আবহাওয়ার প্রতিমুহূর্তের অবস্থা ঘরে বসেই শুধুমাত্র মোবাইলের অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে জেনে নিতে পারেন। এজন্য তার প্রয়োজন হবে মাঠে বসানো একটি সেন্সর যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকবে কৃষকের হাতে থাকা স্মার্টফোনের সাথে। এসকল তথ্য জেনে খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের মাধ্যমে ফসলকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন। এমনকি এ ধরনের সেন্সর বায়ুর তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, পানি প্রবাহ ও পানির উচ্চতা পরিমাপ করে বন্যার সম্ভাব্য পূর্বাভাস দিতে পারে।
আবার একজন কৃষক যখন ফসলের মাঠের মাটি, পানি ও বায়ুর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে প্রতিনিয়ত অবগত হবেন তখন কিভাবে এসবের উন্নতি ঘটিয়ে ফসল উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো যায় সে সম্পর্কেও সচেষ্ট হতে পারবেন। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি কিংবা বেসরকারি গবেষণার বিস্তৃত মাঠে পোকামাকড় ও রোগবালাই আক্রমণ এর তথ্য মাঠে উপস্থিত না থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে জানা যেতে পারে এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষতির হার কমানো সম্ভব।
৩) দৈনন্দিন চেকআপ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাঃ স্বাস্থ্যই সম্পদ এ প্রবাদটি পড়ে পড়েই আমরা বড় হয়েছি। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের কাজের চাপে কয়জন এ বাক্যটি মনে রাখি। নিয়ম করে ডাক্তারের কাছে গিয়ে সমগ্র শরীরের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাও আমাদের পক্ষে যেন দুরূহ ব্যাপার। খুব বেশি অসুবিধায় না পড়লে আমরা ডাক্তারের কাছে যেতেই চাই না।
এ সমস্যার সমাধান করতে পারে আইওটি সুবিধা সম্বলিত নিরীক্ষণ সিস্টেম। একটি যন্ত্র যা আপনার সমস্ত শরীরের সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করে এবং সংরক্ষণ করে রাখে যা প্রয়োজনে আপনি আপনার ডাক্তারকে প্রেরণ করতে পারেন তাহলে এর থেকে ভালো কিছু যেন আর হয় না। এছাড়াও প্রতিদিন আপনার রক্তচাপ, রক্তের শর্করার পরিমাণ কিংবা হার্টবিট রেট হয়তো মাপা সম্ভব হয়না। শরীরে যদি একটি সেন্সর থাকে যা কিনা নিত্যদিনকার এসব তথ্য সংগ্রহ করে রাখে এবং আপনি নিজেই তা দেখতে পারেন কিংবা অস্বাভাবিক মনে হলে ডাক্তার কে পাঠাতে পারেন তবে ঘরে বসেই যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে কিংবা পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে আপনার ব্যক্তিগত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। আর এটিই এখন সম্ভব আইওটি প্রযুক্তির কল্যাণে।
৪) নিরাপত্তা সহকারিঃ বর্তমান যুগে নিরাপত্তা আমাদের আর দশটি মৌলিক চাহিদার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা সহ দেশের যে কোনো মফস্বল শহরে যত অপরাধ সংঘটিত হয় তার অধিকাংশই হয় সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাতের মধ্যে।
সুতরাং আইওটি প্রকল্পটি এর এমন একটি সমাধান নিয়ে আসে যেখানে একটি টহল রোবট ও এর সাথে যুক্ত একটি নাইট ভিশন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। এই রোবট একটি পূর্বনির্ধারিত পথ ধরে টহল দেয় এবং উদ্বেগজনক অস্বাভাবিক শব্দ সনাক্ত করে। যদি পাওয়া যায়, তবে ক্যামেরাটি ৩৬০ ডিগ্রি কোণে পুরো এলাকাটি বা ঐ নির্দিষ্ট রাস্তাটি স্ক্যান করে এবং মানুষের মুখ সনাক্ত করার চেষ্টা করে। তারপর রোবটটি এই চিত্রটি কাছাকাছি ব্যবহারকারীর কাছে প্রেরণ করে যিনি এই পুরো আইওটি প্রকল্পটি পরিচালনা করছেন।ব্যবহারকারী রোবট দ্বারা প্রেরণে বিপজ্জনক সংকেত পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। সাধারণত শহরের নির্জন রাস্তায় ছিনতাই, খুন, ধর্ষণ বন্ধ করতে পুলিশ এবং নিরাপত্তা রক্ষীদের অন্যতম সহায়ক হতে পারে এ ধরনের একটি টহল রোবট।
৫) শিল্প কারখানায় আইওটি প্রযুক্তিঃ উৎপাদন শিল্পে আইওটি এর বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। আইওটি প্রযুক্তি সেই কারখানাগুলোতে লাভজনক যেখানে দ্রুত উৎপাদনের পাশাপাশি পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত। সেন্সরের মাধ্যমে শিল্পকারখানা গুলো তাদের পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং প্রতিটি ধাপে প্রত্যাশিত আউটপুট সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে।ডিজিটাল উপায়ে সংগৃহীত এ তথ্য একজন ম্যানেজারকে সমগ্র সিস্টেমের কার্যকারিতা, দক্ষতা এবং যথার্থতা বিশ্লেষণ করতে সক্ষম করে।তারা তাদের পণ্যের সম্ভাব্য সমস্যা সনাক্ত করতে পারে যা তাদের পণ্যের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
বাংলাদেশ শিল্প কারখানাগুলোতে শ্রমিকের অভাব না থাকলেও দক্ষ জনবলের অভাব অনেক ক্ষেত্রেই প্রকট। সে ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম সংবেদনশীল কাজ করার জন্য এবং উৎপাদন ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য অনেক সময় ভারত, চীন, জাপান প্রভৃতি দেশ থেকে দক্ষ শ্রমিকদের অনেক বেশি টাকা বেতন দিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়। এর উ্ত্তম বিকল্প হতে পারে আইওটি প্রযুক্তির যথোপযুক্ত ব্যবহার যেখানে আমাদের দেশীয় শ্রমিক কিংবা ম্যানেজারের কাজকে আরো সঠিকভাবে সম্পাদন করতে দারুন ভাবে সহায়ক হতে পারে আইওটি প্রযুক্তি।

Continue Reading