সমস্যা ও বাংলাদেশ

ঢাকার রাস্তায় বাস ও বাইক দুর্ঘটনায় যেভাবে নিহতের ঘটনা বাড়ছে, তা সত্যিই উদ্বেগজনক। অ্যাপভিত্তিক নানা মোটরবাইক সার্ভিস এই ঘটনার বড় কারনও বটে। কেনই বা মানুষ এসব সার্ভিস বেছে নেবে না যখন ঢাকার রাস্তায় জানজটের কারনে বাসে চলাচল একেবারে সময়সাপেক্ষ ও নাজেহাল অবস্থা? তাহলে কি এই নিহতের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে? নাকি জানজট নিরসনের কার্য্যকরি ব্যাবস্থা গ্রহন করার এখনি জরুরি দরকার?? উন্নয়নের নামে যেভাবে রাস্তা খোড়াখুড়ি হয় প্রতি পাঁচবছর পর পর, জলাবদ্ধতা, রাস্তাবন্ধ- এসব কারনই এখন জানজটের প্রধান কারন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ, যারা আমাদের মত উন্নয়ন করছে, তারাও কি এভাবে প্রানের বিনিময়ে তাদের শহর উন্নয়ন করছে? নাকি এমন উদাহরন শুধু বাংলাদেশেই। ঐসব দেশ উন্নয়ন নির্মানের সময় কঠোরভাবে PPE (Personal Protection from Equipment) and SSN (Social Safety Net) অনুসরন করে।
কৃষিখাতকে বিলুপ্তির মুখে ঠেলে দিয়ে, জনবিমুখ আর পুজিবাদি খাতে পরিনত ককরে শিল্পায়ন আর নগরায়নের নামে শুধুই মানুষ ডেকে এনে শহর ভরছে, আর এরকম নানা আপদ ডেকে আনছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার নামে মানুষকে অস্থির করে তুলছে; জানজটের সমাধান না করে অ্যাপের মাধ্যমে বাইকে চরে তারাহুরো করে গন্তব্যে পৌছতে গিয়ে প্রান হারাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এগুলোকে উন্নয়ন বলে না। উন্নয়ন হলো তাই যা মানুষকে নিরাপত্তা দান করে, সচ্ছন্দ দেয়। উন্নয়ন তাই যা মানুষের মনকে অস্থির করে তোলে না। অথচ আমাদের উন্নয়ন এর সম্পুর্ন উল্টা। কথায় আছে, ফাটা পায় আলতা ঘষা। আমাদের জাতীয় পর্যায়ের কার্য্যক্রমেও সেই অবস্থা। অবশ্য বাংগালি গোড়া থেকেই অন্যের পরামর্শে চলতে খুব পছন্দ করে, ১৬০০ সালে বনিকদের পরামর্শে স্বাধিন বাংলাকে বিক্রি করে দিয়ে ১৭৫৭ সালে পরামর্শক পরিবর্তন করে, তারপর বারবার যুদ্ধ করেছে বটে কিন্তু বুদ্ধির জন্য অন্যের দারস্থ হওয়ার অভ্যাস এখনো ত্যাগ করতে পারে নি। নিজের বাস্তবতা নিজে এখনো অনুধাবন করতে শেখে নি বাংগালি। মুর্খতা আর উন্নয়ন একসাথে পাশাপাশি চলতে পারে না। উন্নয়ন করতে হলে আগে উন্নয়নের ধারনা সম্পর্কে মুর্খতা দুর করতে হবে। আমরা সেটা করিনি বলেই আমাদের এমন মাসুল দিতে হচ্ছে।
মনে রাখতে হবে, প্রাকৃতিক আপদ আর বিপর্যয় মনুষ্যসৃষ্ট আপদের কারনেই ঘটে থাকে, প্রকৃতি যখন মনুষ্যসৃষ্ট আপদকে আর ব্যাকাপ দিতে পারে না তখনি বিরাট বিপর্যয় ঘটিয়ে সে তার ব্যার্থতা প্রকাশ করে।

<

Related Posts