Connect with us
★ Grathor.com এ আপনিও ✍ লেখালেখি করে আয় করুন★Click Here★

গল্প

হৃদয়ের গভীরে (পর্ব ১)

Published

on

হৃদয়ের গভীরে

[এক]

কাঁচের গ্লাসে শিশির বিন্দু জমে আছে। সামনের সবকিছু ঝাপসা। ব্যালকোনির গ্লাস শীতের শুরু থেকেই অমন করে বন্ধ আছে। প্রায় দিনই শিশিরে ভিজে এমন ঝাপসা হয়ে থাকে। পাশেই টেবিলে শ’ খানেক বই আলগা পড়ে আছে। দেখলেই বুঝা যায় বইগুলো এতোটাই ব্যবহৃত যে গুছিয়ে রাখার মতো সুযোগ কেউ পায় না। টেবিলের পাশের কর্নারে সবুজ সতেজ পাতাবাহারের ঝালর উপর থেকে ক্রমশ নিচের দিকে নেমেছে। গ্লাসের ওপাশে অনতিদূরে একটা লেক খুব ধীর গতিতে বয়ে চলেছে। টেবিলের পাশে রাখা নরম চেয়ার টেনে বসলেন এক মহীয়সী। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা। চশমার চারপাশের মুখম-লে বার্ধক্যের প্রবল ছাপ। অনেকগুলো দাঁতই হারিয়েছেন। পরনে লম্বা গাউন। সাদা চুলগুলোর ফাঁকে দু-একটা কালো চুল দেখা যায়।

হোম মেইড মেয়েটি কাজ শেষ করে একটা মোড়া টেনে নিয়ে বসলো। মহীয়সী নিজের নাম স্পষ্ট অক্ষরে লিখলেন, মারিয়া ডি কষ্টা। পাশে আরো একটি নাম মারিয়া হোসাইন। হোম মেইডের সামনে ধরে বললেন- পড়ো।

হোম মেইডের দৃষ্টি জুড়ে বিস্ময়! শিক্ষিতা হোম মেইড দ্রুত কণ্ঠে বলে উঠলো- ‘এটা কী করে হয় ম্যাম? আপনি কি খৃষ্টান ছিলেন?’

গাম্ভীর্যপূর্ণ ‘হ্যাঁ’ সূচক মাথা দোলান বৃদ্ধা। নেমে যাওয়া চশমাটি ঠিক করে পরেন। ভারী গলায় বললেন- ‘ছিলাম! বাবা মায়ের কলিজার টুকরো একটিমাত্র সন্তান ছিলাম আমি। শৈশব কেটেছে লন্ডনে। পরে বাবার চাকুরীর কারণে ইন্ডিয়াতে চলে আসি।

সে প্রায় ত্রিশ বছর আগের কথা। বিয়ে করেছিলাম এক ভারতীয় হিন্দুকে। বাবা-মা মেনে নেননি। নিজ ধর্ম বিসর্জন দিয়ে অন্য ধর্মের কাউকে বিয়ে করা যেকোন পরিবার, সমাজ ও ধর্মের জন্য ভয়াবহ পাপের! শ্বশুরবাড়ি থেকেও কেউ মেনে নেয়নি। স্বামীর সাথে গাছতলায় থাকবো বলে প্রতিজ্ঞা করলাম।

দু’জন মিলে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি। ক্ষুধা পেলে ঘাস লতাপাতা যা পেয়েছি, এই দাঁত দিয়ে চিবিয়েছি। কখনো মন্দিরে ঘুমিয়েছি, কখনো গীর্জায়। বিশ্রাম নিয়েছি কখনো গাছের ডালে, কখনো খোলা আকাশের নিচে। তখন শীতকাল ছিলো। শীতের প্রকোপে চেহারা এতটুকু প্রায়। তখন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি শীতার্তদের যন্ত্রণা, ক্ষুধার্তদের হাহাকার, পিপাসার্তদের আহাজারি!

একদিনের ঘটনা শোনো…। কথা শেষ না করেই হোম মেইডের দিকে তাকান মারিয়া হোসাইন। বললেন- ‘লাঞ্চের প্রস্তুতি শেষ করেছো?’

-‘জ্বি ম্যাম। লাঞ্চের প্রস্তুতি শেষ। আমি অতি আগ্রহে আপনার পরবর্তী ঘটনা শুনতে অপেক্ষা করছি!’

মারিয়া হোসাইন হাসেন। তার হাস্যোজ্জ্বল মুখে যেন নিরন্তরের গল্প। বললেন- ‘তোমার নাম কি যেন? দেখেছো এতো এতো স্টোরী, পোয়েট্রি, কোটেশন, হাদিস মাথায় স্থান গেঁড়ে আছে যে তার ভীড়ে তোমার নামটা রেখে দেয়ার জায়গা খুঁজে পাচ্ছি না। আর নাম বলতে মনের পুরোটা জুড়ে একটা মাত্র নামই… যাই হোক তুমি কি কষ্ট পেলে?’

– ‘জি¦ না, ম্যাম। বলুন প্লিজ। আমার নাম সামিয়া।’

– ‘ও আচ্ছা, ঠিক আছে শোনো তাহলে। মন্দিরের এক কলতলায় গোছল সেরে ভেতরে ঢুকছিলাম। ততদিনে ঐ মন্দিরই আমাদের ঘর, সংসার, সমাজ। সবকিছু। মাঝে মাঝে অনেকেই পূজো দিতে আসতো, বিভোর হয়ে দেখতাম। কত লোক আসে, কত লোক যায়। শুধু আমরা দু’জন থেকে যেতাম। আসা-যাওয়ার মিছিল দেখেই ভাল লাগা খুঁজে নিতাম। একদিন আমার স্বামীর মা আসলেন … একটু শ্বাস নেন মারিয়া হোসাইন। স্বামীর নামটাই তো বলিনি তোমায়, শুনবে না?’

– ‘জ্বি শুনবো, আপনি বিরতি দিলে এই প্রশ্নই করতাম।’

– ‘হুম, ওর নাম প্রসেনজিৎ সেন। শাশুড়িমা ছেলেকে দেখতে পেয়ে দু’হাতে বুকে জড়িয়ে ধরেন। অনেকক্ষন ধরে কাঁদলেন। বললেন- খোকা তুই এখানে, তোকে কত খুঁজেছি বাবা। অনেকটা সময় পেরিয়ে যায় ছেলেকে ছাড়েন না তিনি। বুঝতে পেরেছিলাম মা-ছেলের জমানো কথাগুলো আজ বের হয়ে আসছে অবিরাম। আমি কেমন অপাংক্তেয় এক প্রাণী যেন। নিজেকে সে সময় খুব অসহায় মনে হচ্ছিল। দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এসেছিল মুহূর্তেই। মনে হলো কতদিন আমায় কেউ অমন মমতায় জড়িয়ে রাখেনি। বাবার প্রিয় মুখটা মনে পড়লো, সাথে মায়েরও। মেয়ে বলে কি না, তখন আমারও বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছিলো। ভাবছিলাম, বাবা জড়িয়ে ধরে বলতো- আমাকে একা ফেলে বেশ আছিস না? মা-ছেলে বেশ কিছুক্ষণ কথা হলো। শাশুড়িমা আমার সাথে কোন কথা না বলেই পূজো সেরে চলে গেলেন। আমি ঠাঁয় দাঁড়িয়ে দেখছি- শাশুড়িমা চলে যাচ্ছেন। এগিয়ে গিয়ে কিছু বলার সাহস হলো না।’

গল্প

নীলিমার শুভ্রতা

Published

on

By

ভালবাসা পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের মনে দাগ কেটে নেওয়ার মত একটি শব্দ। আচ্ছা ভালোবাসা মানেই হলো দুটি মানুষের কাছে আসা? ভালবাসা মানেই কি একটি সুন্দর সম্পর্কের সফল পরিণতি। কিছু কিছু সম্পর্কে তা হয়ে উঠে না। একসময় সুধু অনুভুতিগুলো টিকে থাকে সৃতি হয়ে, কিন্তু পাশের মানুষটিকে আর পাওয়া হয়ে উঠেনা।

আমাদের আজকের গল্পটি কোন রুপকথা নয়। আজকের গল্পটি যাদের ঘিরে তারা হল শুভ্র আর নীলিমা। নীলিমার জীবনে যেমন প্রেম সম্পর্কে কোন ধারনা ছিল না। ঠিক তেমনি শুভ্রও কোনদিন প্রেম নিয়ে মাথা ঘামায়নি। তাই তাদের দুজনের কাছে প্রেম শব্দটি নাটক, সিনেমা, বন্ধু বান্ধবীর প্রেমের গল্প শোনার মধে সীমাবদ্ধ ছিল।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ফেইসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের শুত্রপাত এই দুজনের। দুজনের ডিপার্টমেন্ট এক হলেও ভার্সটি ভিন্ন ভিন্ন। তাই তাদের প্রথম কথাই হলো এই ডিপার্টমেন্ট এর সাবজেক্ট নিয়ে। একদিন ল্যাব রিপোর্ট করার প্রাক্কালে নীলিমা কৌতহল বসত টেক্সট করে শুভ্রকে। সেটাই ছিল তাদের প্রথম কথা বলা। যদিও প্রথম কথপোকথন ততটা দীর্ঘ ছিল না তবে প্রথম কথপোকথনে শুভ্রের দেয়া টেক্সটগুলো নীলিমাকে কেমন জানি একটা অচেনা মায়ায় আবদ্ধ করে ফেলল।

প্রথম কথপোকথন এর পর ঠিক দুই দিন শুভ্রের কোন খোজ পাচ্ছিল না নীলিমা। তারপর হঠাৎ নীলিমা শুভ্রকে অনলাইনে পেয়ে টেক্সট করল। শুভ্রের কাছে জানতে চাইল হঠাৎ সে কোথায় হারিয়ে গেল? বিনিময়ে শুভ্রের সহজ সরল উত্তর তার ফেইসবুক ভাল লাগেনা তবে মাঝে মাঝে হোয়াটসঅ্যাপে থাকে।

পরবর্তীতে নীলিমাও শুভ্রের সাথে হোয়াটসঅ্যাপ এ এড হয়ে নিল। ঠিক সেই দিনের পর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ যেন মেয়েটির বসবাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল। শুভ্র খুব কম কথা বলত আর নীলিমা ঠিক তার উল্টো প্রকৃতির। হয়ত এজন্য বেশ জমত তাদের। এভাবে কথা বলতে বলতে কেমন জানি এক অদ্ভুত মায়ায় জড়িয়ে পড়ল তারা। নীলিমা নিজেই বুঝতে পারছিল না তার সাথে কি হচ্ছে? কেন হচ্ছে? তাই নীলিমা হঠাৎ করেই শুভ্রের সাথে দুই দিন সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিল।

ঠিক ওই সময়টায় নীলিমা উপলব্দি করল শুভ্র শুধু তার মায়া নয়, শুভ্রের শুভ্রতা তার মনে ভালবাসার সঞ্চার করেছে। নীলিমা উপলব্ধি করল সে শুভ্রের প্রেমে পড়ে গেছে। কিন্ত শুভ্র ছিল তার এই আবেগ থেকে পুড়াই অজানা।নীলিমা যদিও বলার চেষ্টা করত কিন্ত কথা না হবার ভয়ে তা বলার সাহস তার হয়ে ওঠেনি।এভাবে মাসের পর মাস যেতে লাগল।কিন্ত মজার ব্যাপার হল তারা তখনো কেউ কাউকে দেখেনি,মোবাইল ফোনেও তাদের কথা হয়নি।

শুভ্র সমসময় তার কাজের প্রতি সিরিয়াস থাকত।তাই তার পড়াশোনা বা কোন ধরনের কাজে সে প্রায় ব্যস্ত থাকত।কিন্ত যখনই সময় পেত যতটুকু সময় পেত নীলিমার সাথে কথা বলত।নীলিমার  ও অপর দিকে শুভ্রের কাজের প্রতি ডেডিকেশান থেকে আরোও মুগ্ধতা  বাড়তে লাগল।

একদিন হঠাৎ আসল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ যখন শুভ্র নীলিমাকে তার অনূভুতির কথা জানায়।তখন নীলিমার আনন্দ আর কে দেখে। শুভ্রের শুভ্রতা নীলিমাকে যেন সর্গ সুখে ভাসাচ্ছিল।

শুভ্র নীলিমার প্রত্যেকটি কাজে নীলিমাকে খুব সাপোর্ট করত। শুভ্র যেমন খুব সাপোর্টটিভ তেমনি খুব কেয়ারিং।নীলিমার ছোট বড় সকল সমস্যায় শুভ্র পাশে থাকার চেষ্টা করত। শুভ্র নীলিমার প্রেমিক থেকেও ভালো একজন বন্ধু, নীলিমার একজন বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে উঠল। একজন সত্যিকারের লাইফ পার্টনারের মধ্যে যে সকল গুন থাকা দরকাল প্রায় সবটুকু গুণ নীলিমার মধ্যে বিদ্যমান।

আর এভাবেই শুরু হলো নিলয় আর শুভ্রের পথচলা। আর এভাবেই তারা সুখে দুঃখে একজন আরেকজনের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠল।

সারাদিন শুধু ভালবাসি বললে ভালবাসা হয়ে উঠেনা। কাউকে প্রকৃত ভালোবাসতে হলে সেই ভালবাসার মানুষটির পাশে থাকার চেষ্টা করুন।তার সুখে দুঃখে যদি আপনাকে পাশে পায় তাহলে সে মানুষটি যে কোনো ধরনের যুদ্ধ জয় করার সাহস রাখে।

Continue Reading
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন