ছোট শহর কিংবা গ্রাম এলাকার লাভজনক 10টি ব্যবসা। যা স্বল্প বিনিয়োগে অধিক লাভ দিতে সক্ষম।

আজকে আমরা আলোচনা করব কয়েকটি লাভজনক ব্যবসার ধারণা নিয়ে। যা যেকোনো বয়সের মানুষ করতে পারবে। বাসার গৃহিণী মায়ের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা এই কাজগুলো করতে পারবে। যেগুলো স্বল্প বিনিয়োগে ভালো লাভজনক হবে।

১। মাশরুম চাষ। ছোট শহর কিংবা গ্রাম্য এলাকায় গৃহিণী মায়েদের পাশাপাশি বাড়ির পড়াশোনা করা ছেলেমেয়েরা বাড়িতে মাশরুম চাষ করতে পারে।

মাশরুম চাষ করার জন্য বেশি জায়গার প্রয়োজন নেই। গ্রামে বাড়ির সামনে ছোট ঘর বানিয়ে সেই ঘরে মাচার উপর পলিথিন প্যাকেটে করে মাশরুম চাষ করা যায়। ছোট শহর এলাকায় বাড়ির ছাদে রেখে কাঠের মাচা বানিয়ে সেগুলোর উপর রেখে চাষ করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে বাজার থেকে বাণিজ্যিক স্পন কিনে মাশরুম চাষ করা যায়। এক্ষেত্রে মাশরুম স্বল্প বিনিয়োগ করে কম সময়ে লাভবান হতে সাহায্য করে। মাশরুম বাজারজাত করার পাশাপাশি বাড়িতে খাওয়াও যায়।

২। ছোট শহর কিংবা গ্রাম্য এলাকায় বর্তমান সময়ে লাভজনক একটি ব্যবসা হলো ফার্মেসীর ব্যবসা। বর্তমান সময়ে ঔষধ শিল্পকে বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে ধরা হচ্ছে। ছোট শহর কিংবা গ্রামে ফার্মেসী বর্তমানে লাভদায়ক একটি ব্যবসা। বাজারে ফার্মেসীর দোকানের পাশাপাশি নিজ জেলায় নিজস্ব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনলাইনে কেনাবেচা এবং নিজ এলাকায় বাড়িতে পৌছানোর মাধ্যমে এই ব্যবসা করা যায়। এর ফলে নিজস্ব আর্থিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি আলাদা কিছু কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সর্বোপরি এই ব্যবসা বর্তমানে লাভজনক একটি ব্যবসা।

৩। স্বল্প পরিসরে ফসল মজুদের ব্যবসা। নিজস্ব বড় কিংবা বৃহৎ জায়গা না থাকলে স্বল্প পরিসরে ফসল মজুদ করা যায়। কিছু পরিমাণ ফসল কিনে তুলনামূলক লাভ জনক মূল্য পাওয়া গেলে সেই ফসল বাজারজাত

৪। মুরগি বা হাঁসের খামার। বাড়ির আশেপাশে মাঝারি বা ছোট আকারের মুরগি বা হাঁসের খামার দেওয়া যেতে পারে। প্রথমে অল্প হাঁস-মুরগির মাধ্যমে শুরু করে পরবর্তীতে খামারের আকার বাড়ানো যায়। এটিতে তুলনামূলক বেশি বিনিয়োগ দরকার। তবুও এটি অধিক লাভবান করতে সক্ষম।

৫। শহরে চা-কফির হোটেল বর্তমানে ভালো মানের একটি ব্যবসা। মাঝারি থেকে শুরু করে ছোট-বড় সকল প্রকারের হোটেল লাভজনক। মানসম্পন্ন খাবার এবং সেবা দিলে হোটেলের সুনাম ছড়ায় এবং অধিক লাভবান হওয়া যায়। পরিবারের সকল সদস্যদের সহায়তায় হোটেল আরও আকর্ষণীয় করে সাজানো যায়। ছোট বড় সকল শহর এলাকার জন্য এটি একটি মানসম্মত ও লাভজনক একটি ব্যবসা।

৬। একদরের কাপড়ের দোকান। ছোট শহর বা জেলা শহরগুলোতে একদরের কাপড়ের দোকান বেশ লাভজনক। প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট আকারের দোকান এবং পর্যায়ক্রমে বড় দোকান দেওয়া যায়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত হলে কাপড় নিজ জেলায় হোম ডেলিভারি দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। এতে লাভের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পাবে।

৭। বিয়ের অনুষ্ঠানের ফটোগ্রাফি। ২-৩ মাসের প্রশিক্ষণ নিলেয় ভালো মানের ফটোগ্রাফি করা সম্ভব। বিয়ের অনুষ্ঠান, পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান, জন্মদিনের অনুষ্ঠান প্রভৃতি অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফি করে ভালো আয় করা সম্ভব। এই কাজটি পড়ালেখার পাশাপাশিও করা যায়। যুবক ছেলেদের জন্য এটি ভালো আয় করার মাধ্যম।

৮। ফাস্ট ফুড শপ। মাঝারি অংকের বিনিয়োগ দিয়ে এই ব্যবসা শুরু করা যায়। এক্ষেত্রে দোকানের অবস্থানের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। শহরের প্রাণকেন্দ্রর মতো জায়গায় এই দোকান দেওয়া লাভজনক।

৯। ফার্নিচার ব্যবসা। মাঝারি বিনিয়োগের আরেকটি লাভজনক ব্যবসা। বর্তমান সময়ে শহরগুলো আধুনিক বিশ্বের আওতায় ব্যপক আধুনিক হচ্ছে। কিছু সংখক দক্ষ কারিগর দারা এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। পরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত হলে কারিগর সংখ্যা ও ব্যবসার পরিধি বাড়ানো সম্ভব। শহর এলাকায় এই ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক।

১০। বেকারি ব্যবসা। বড় অংকের বিনিয়োগের ব্যবসার অন্যতম একটি হলো বেকারি ব্যবসা। জেলা শহর গুলোতে বর্তমানে বেকারি অনেক লাভজনক একটি ব্যবসা। দক্ষ কারিগর, বৃহৎ জায়গা ইত্যাদি এই ব্যবসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই সকল বিষয়ের জন্য দরকার ব্যপক বিনিয়োগ। সর্বোপরি শহর এলাকায় সময়ের অন্যতম লাভজনক ব্যবসা এটি।

মানুষ চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ব্যবসাও এমন একটি মাধ্যম যা একজন মানুষকে জীবনে সফল করে তোলে। ব্যবসায় একটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে যে ব্যবসা মানেই লাভ-লোকসান। কখনও লাভ হবে কখনও বা ক্ষতি হবে। কিন্তু দিনশেষে এই ব্যবসা আপনাকে জীবনে সফল করতে সক্ষম।

Related Posts