Connect with us
★ Grathor.com এ আপনিও ✍ লেখালেখি করে আয় করুন★Click Here★

গল্প

ভাগ্যেে থাকলে ভালোবাসার মানুষ এভাবেই জীবনেে আসে।

Shanta Akter

Published

on

নিলয় ভর্সিটির ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। বাবা-মা এর এরমাত্র ছেলে নিলয়। পড়াশোনায় খুবই মেধাবী এবং যথেষ্ট ভদ্র। ভর্সিটির অনেক মেয়েদেরই ক্রাশ ছিল, কিন্তু ও কখনো মেয়েদের পাত্তা দিত না। সারাদিন বন্ধু এবং ক্রিকেট খেলা নিয়েই ব্যস্ত থাকতো। পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার ব্যবসায়ে সাহায্য করত। এভাবেই চলছিল নিলয়ের জীবন।

কিছুদিন পর ১ম বর্ষের নবীন বরন অনুষ্ঠান চলে এলো। নিলয় সহ তার ডিপার্টমেন্টের অনেক বন্ধুদের কাধে আসলো সেই দায়িত্ব। যথারীতি অনুষ্ঠান শুরু হলো। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে নবীনদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানোর পালা। ফুল দেয়ার একটা পর্যায়ে নিলয়ের চোখ এক জায়গায় আটকে গেল। কালো বোরকা পরিহিত একটা মেয়ে, যার চোখদুটো ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। সেদিন অনেক চেষ্টা করেও মেয়েটির সম্পর্কে আর কিছুই জানতে পারলো না নিলয়।

প্রায় এক সপ্তাহ পর, ক্যাম্পাসে সেই মেয়েটির সাথে নিলয়ের দেখা হলো। সিনিয়র ভাই হিসেবে নিলয় মেয়েটি কে ডাক দিল এবং নাম জিজ্ঞেস করলো। বাসার ঠিকানাটা পর্যন্ত নিয়ে নিল। মেয়েটির নাম ছিল আসমানী।

ভার্সিটির অনেক ছেলেদেরই নজর ছিল আসমানীর উপর। এদের বেশির ভাগেরই আগ্রহ ছিল আসমানীকে দেখার। কেননা আসমানী সবসময় মুখ ঢেকে রাখতো,শুধু তাই নয় সে হাত মোজা পা মোজা পরিধান করতো। এজন্যই আসমানী কে নিলয়ের এতো ভালো লাগে।

প্রায় প্রতিদিনই নির্ণয় ক্যাম্পাসে ওয়েট করতো আসমানীকে দেখার জন্য, কিন্তু আসমানীর সাথে কখনো কথা বলতো না। খুব ইতস্তত বোধ করতো। কিছুদিনের ভিতর নিলয়ের বন্ধুরা এই ব্যাপারটা নোটিশ করতে থাকলো এবং এটা নিয়ে নিলয় কে পেইন দেয়া শুরু করলো। হারামি বন্ধু থাকলে যা হয়😇

নিলয়ের বন্ধুরা সিদ্ধান্ত নিলয় এর পক্ষ থেকে আসমানীকে তার ভালবাসার কথা জানাবে। কিন্তু আসমানি কিছুদিন যাবত ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিল। কারণ জানার জন্য তার বাসার ঠিকানায় ওদের ডিপার্টমেন্টের দুটি মেয়ে কে পাঠালো। খোজ নিয়ে তারা জানতে পারলো আসমানীরা ওদের গ্রামের বাড়ি চলে গেছে।

এ ঘটনার পর থেকে নিলয়ের লাইফস্টাইলই চেঞ্জ হয়ে গেছে। সারাক্ষণ তার মাথায় শুধু আসমানী কে নিয়ে ভাবনা-চিন্তা। পড়াশোনা কিংবা বন্ধুদের আড্ডা, কোনটাতেই তাকে আগের মতো পাওয়া যায় না। নিলয়ের বাবা-মা বিষয় টি নোটিশ করার পর সিদ্ধান্ত নিলো ব্যবসায়ের সকল দায়িত্ব নিলয়কে বুঝিয়ে দিবে, যাতে সে নরমাল লাইফে ফিরে আসতে পারে।

মালেয়শিয়াতে তার বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করার জন্য তাকে বলা হলো। যেই কথা সেই কাজ, কেননা নিলয় কখনো তার বাবা-মা এর বিরুদ্ধে যায় নি এবং এরকম কিছু করেও নি। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। সে জানতো তার বাবা-মা সবসময় তাকে বেস্ট জিনিসটাই দিবে।

বাবা-মা তার কাঁধে ব্যবসায়ের দায়িত্ব দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি,তাকে বিয়ের জন্যও ফোর্স করা হচ্ছে। জোরাজোরির এক পর্যায় নিলয় রাজি হয়, কিন্তু একটা শর্তে। সে পুরোপুরি প্রতিস্ঠিত হওয়ার আগে তার স্ত্রীর মুখ দেখবে না। তার বাবা-মা বিষয় টি ততো সিরিয়াল ভাবে নেয়নি। তারা ভাবছে নিলয় হয়তো অভিমান থেকেই এ কথাগুলো বলছে।

দেখতে দেখতে বিয়ের দিন চলে আসলো। একমাত্র ছেলের বিয়েতে তেমন বড়ো কোনো অনুষ্ঠান করা হয়নি। মেয়ের পক্ষ চেয়েছে বিয়ের অনুষ্ঠান ঘরোয়া ভাবে হউক, আর নিলয়ও। বিয়ের দিনও নববধূ বোরকা পড়েছিল এবং শ্বশুর বাড়িতেও বোরকা পড়ে এসেছে। নিলয় তার স্ত্রীর দিকে ফিরেও তাকায় নি। তার সকল ভাবনা জুড়ে শুধু আসমানী।

রাত প্রায় একটা বাজতে চললো কিন্তু নিলয় এখনো বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। তার বন্ধুরা একপর্যায় জোর করেই তাকে রুমে পাঠায় এবং বাহির থেকে দরজা লাগিয়ে দেয়। ফুলসজ্জার খাটের এক কোনে নিলয়ের স্ত্রী জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে, নিলয়ের কোনো আগ্রহই নেই তার উপর। সে তার স্ত্রী কে, আসমানী সম্পর্কে সব বললো। সাথে এটাও বললো, সে যেন কখনোই নিলয়ের কাছে স্বামীর অধিকার না চায়। নিলয় শুধু আসমানী কে ভালোবাসে। তার জীবনে অন্য কোনো মেয়ের স্থান নেই। নিলয় এটাও বললো তার স্ত্রীর সকল দায়িত্ব সে নিতে রাজি আছে এবং তারা সারাজীবন বন্ধু হয়ে থাকবে।

সবকিছু শোনার পর নিলযের স্ত্রী বললো, ঠিক আছে আপনি যেরকম টা চান এরকমই হবে,কিন্তু এ বাড়ি থেকে আমাকে কখনো তাড়িয়ে দিয়েন না, আর আমাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিন প্লিজ। নিলয় তাকে আস্বস্ত করে বললো, আপনার ক্ষতি কিংবা অসম্মান হবে এমন কোন কাজ আমি করবো না।

বিয়ের তৃতীয় দিন ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে মালেশিয়া চলে গেল নিলয়। নিলয়ের স্ত্রীর সাথে সপ্তাহে দু-এক মিনিট কথা হতো। সপ্তাহে একদিন কল করে স্ত্রীর খোঁজখবর নিত। কিন্তু এ বিষয় গুলো তাদের ভিতরেই সীমাবদ্ধ ছিল। বাহির থেকে কারো বোঝার উপায় নেই ওদের সম্পর্কটা কোন পর্যায়ের। এমনকি নিলয়ের বাবা-মাও বুঝতে পারেনি।

দেখতে দেখতে সারে তিন বছর কেটে গেল। নিলয়ের স্ত্রী একটু একটু করে নিলয়কে ভালোবেসে ফেলেছে কিন্তু প্রাকাশ করতে পারছেনা নিলয়ও বিষয়টা বুঝতে পেরেছে কিন্তু সে না বুঝার মতোই ব্যবহার করছে। কেননা সে আসমানী কে ভালোবাসে।

একটা পর্যায়ে এসে নিলয়ের স্ত্রী তাকে অনেক রিকুয়েষ্ট করতে থাকে,যাতে তার ফাইনাল এক্সাম এর সময় নিলয় আসে। বাবা-মা এবং স্ত্রীর জোড়াজুড়ি তে নিলয় আসে, কিন্তু তার স্ত্রী কে এক্সাম হলে নিয়ে যায় নি। তাকে বলছে এক্সাম শেষ হলে তাকে নিতে আসবে।

যেই কথা সেই কাজ। নিলয় ক্যাম্পাসে ঢুকেই আসমানী কে দেখতে পেল, যেখানে আগে আসমানী কে দেখার জন্য নিলয় অপেক্ষা করতো। নিলয় তার চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছিলোনা। মুহূর্তের ভিতর সে সবকিছু ভুলে গেল এমনকি তার স্ত্রীর এক্সামের কথাও। দৌড়ে সে আসমানীর কাছে গেল এবং সরাসরি তার ভালোবাসার কথা প্রকাশ করলো। সাথে অনুরোধ করলো আসমানীর মুখ টা খোলার জন্য। প্রত্যুত্তরে আসমানী বললো আপনি তো বিবাহিত, আপনার স্ত্রী এসব জানতে পারলে কষ্ট পাবে। নিলয় কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে আসমানীর ব্যাগ কেড়ে নিয়ে মোবাইল বের করলো। নিলয়ের নাম্বার ডায়াল করতেই সেভ করা নাম ভেসে উঠলো। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ধমকে গেল।

নিলয়ের ব্রেইন কোনো কাজ করছেনা। এটা কিভাবে সম্ভব? তার কোথাও ভুল হচ্ছে নাতো। এসব ভাবতেই নিলয় আবার নাম্বার উঠিয়ে কল দিল, এবারও নাম্বার টা মাই হাসব্যন্ড নামে ভেসে উঠলো। নিলয়ের আর বুঝতে বাকি রইলো না, তার স্ত্রী আর কেউ নয়। তার ভালোবাসার আসমানী।।

 

গল্প

রোমান্টিক গল্প। রোদের ছায়া। আজফার মুস্তাফিজ

Azfar Mustafiz

Published

on

গল্প: রোদের ছায়া
লেখক: আজফার মুস্তাফিজ

অনেকদিন পর মায়ার দেখা পেলাম। তাকে ঠিক আগের মতোই মনে হলো। একটা ছোট্ট মেয়ে তার আঙুল ধরে দাঁড়িয়ে। প্রচণ্ড রোদ। মাথার ওপর ছাতা ধরে রেখেছে সে। তবুও একদম ঘেমে নেয়ে উঠেছে। মুখে বিরক্তির ছাপ। “উফ”, কপালের ঘাম ঝেড়ে ফেলল সে। তার মেয়েটি উত্তপ্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে বারবার বলছে, ” আম্মু! কোলে নাও না।” সেও পরিশ্রান্ত। একটু ছায়াময় স্থান খুঁজে বেড়ায় মায়ার চঞ্চল চোখ দুটো। কিন্তু পায় না। মানুষের ভীড়ে বিশ্রামের অবকাশ নেই।
আমি যে এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছি, সেটা সে বুঝতে পেরেছে। তাতে তার বিরক্তি ভাব কিছুটা বর্ধিত হয়েছে। সে কি আমাকে চিনতে পেরেছে? চেনার কথা কি! নাহ, অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। সময়ের অগোছালো ঝড় ঝাপটাই কয়েকটা বছরের কিছু বেশি! হয়তো অনেক বেশি। অদল বদলও তো কম হয়নি। নিজের বাহ্যিক বদল তো অনেক বেশিই হয়েছে।
অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায়। কত স্মৃতির পাখি উড়ে যায় মাথার ওপর দিয়ে। কিচিরমিচির শব্দে যন্ত্রণা হয় আমার। কঠিন যন্ত্রণা। সেই যন্ত্রণার অনুভূতি বেশিক্ষণ বয়ে বেড়ালে নিশ্চিত জ্ঞান হারাবো না হয় প্রাণ!

তার দিকে এগিয়ে গেলাম আমি। সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কয়েক মুহুর্ত। মস্তিষ্কের ধুলো ময় জঞ্জাল খানা থেকে পরিচয় মিলিয়ে দেখতে হয়তো কিছু সময় লাগবে তার।
অবশেষে সে চিনেছে আমাকে।
“তুমি?”
আমার হাঁসি চওড়া হলো, “হ্যাঁ, আমিই। চিনতে পারলে তাহলে! আমি তো ভেবেছিলাম আমাকেই পরিচয় দিতে হবে। ”
“না চেনার কী আছে!” বলল সে।
“অনেক কিছুই তো থাকার কথা। এই যেমন আমি অনেকটা বদলে গেছি।”
সে ভদ্রতা সূচক হাঁসি দেয়। সম্পূর্ণ মিথ্যা হাঁসি। “তোমার আশ্চর্য ধাঁচের কথা বলার স্বভাব আজীবন রয়ে গেল।”
“যে সব কথাকে আশ্চর্যজনক ভেবেছিলে তুমি, তা সবই নিছক ফাজলামি। আমাকে ফাজিল হিসেবেও আখ্যায়িত করা উচিত ছিল তোমার।”
তার মাথাটা নিচ হয়ে গেল। চোখে চোখে কীসের লুকোচুরি করছে সে?
“কেমন আছো তুমি?” চোখে চোখ রেখে বললাম আমি।
সে চোখ সরিয়ে নিয়ে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, “ভালোই, আলহামদুলিল্লাহ।”
তার মেয়ের দিকে তাকালাম আমি। দেখতে তার মতো না। শুধু চোখ দুটো তারই! একদম মিলে যায়।

মায়া বলল, “তুমি তো অনেক ভালো আছো নিশ্চয়। যে গাড়ী থেকে নামলে সেটা তো অনেক দামী মনে হয়। হাত ঘড়ি টা দেখি রোলেক্সের। গলায় মোটা সোনার চেইন পরাটা একটু বেশিই বড়োলোকি হয়ে গেছে। তোমার পোশাক, পায়ের জুতো জোড়াও দেখছি বিলাশ বহুল ব্রান্ডের। অনেক বড় হয়ে গেছ নিশ্চয়! তোমার সাথে দেখা হওয়ায় আজ আমি খুব খুশি।”
সে যে আমাকে এতো খুঁটিয়ে দেখেছে! তার মানে নিশ্চয় মায়া আমাকে আগেই চিনতে পেরেছিল। রাস্তার পাশে গাড়ির সামনের অংশের ওপর বসে থাকাটা চোখে পড়ার মতোই। সে কি দেখেও না দেখার ভান করে ছিল?

আমি তার দীর্ঘ বক্তব্যের উত্তর দেওয়ার কথা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তার কাছে ভালো থাকার সমীকরণ খুব অদ্ভুত। যদিও আমি তার সমীকরণ অনুযায়ী রেখা টানার প্রচেষ্টাতে রয়েছি।
তারপর আমি বললাম, “আচ্ছা এখানে, এতো রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছো কেন?”
“একটু কাজ ছিল আর কি!”
“একাই এসেছ?”
“না, স্বামির সাথে। আসলে পাশেই তার অফিস।আজকে ছুটি নিয়েছিল। এখানেই আসার কথা তার। একটু বাইরে বেড়ানোর প্ল্যান রয়েছে। ফোন দিয়েছি, পাঁচ মিনিটেই চলে আসবে বলেছে। আর তুমি এখানে?”
“আমার কোনো ঠিক নেই। এমনিতেই গাড়িতে করে ঘুরাঘুরি করি। আজ এখানে তো কাল ওখানে।” আমি হাসার চেষ্টা করলাম। তবে কথাটা নিজের কাছেই খুব খাপছাড়া শোনাল। তাই হাঁসি ফোটাতে কষ্টই হলো।
“বাহ, বিখ্যাত লেখকেরা কী এমনই হয়?”
“লেখক আবার কীভাবে হলাম!”
“কেন আগে তো খুব গল্প টল্প লিখে পড়তে দিতে। বাদ দিলে নাকি।?”
“আসলে আগ্রহ পেলাম না আর।”
“ও আচ্ছা।”
আমি সাথে সাথেই বললাম, ” মিথ্যা বললাম। আগ্রহের ব্যাপার না। নিজের বলার মতো কোনো গল্পই নেই। কী লিখব! নিজে খুবই অপ্রতিভাবান। কল্পনা শক্তিও অকল্পনীয় দুর্বল। যে দুই একটা লেখার চেষ্টা করেছি, তা কখনোই ছাপার মতো নয়।”
“তাহলে আজকাল কী করা হচ্ছে?” বলল সে।
“আসলে সাহিত্যের মাঝেই আছি। তবে ভিন্ন ভাবে। বইয়ের ব্যবসার সাথে আছি। বর্তমানে ভালো বিজনেস।”
“বইয়ের দোকান থেকে এতো টাকা পেয়ে গেছ!” তার চোখে বিস্ময়।
“রকমারি.কম’ এর নাম শুনেছ নিশ্চয়। আমি বর্তমানে সেটার সেয়ার হোল্ডার। ভালোই ব্যাবসা জমিয়েছে তারা। মার্কেটে তাদের সেয়ার থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঠিকই পেয়ে যাচ্ছি। আচ্ছা এতো রোদে না দাঁড়িয়ে গাড়িতে বসলে হয় না? এসি আছে, চলো।”
“আরে না। সমস্যা নেই। ও তো এখনই চলে আসবে।”
তার ছোট মেয়েটা নতুন ফোটা বুলিতে বলল, “চলো না আম্মু। খুব গরম। আর দাঁড়াতে পারছি না।”
মায়া কঠিন চোখে তার দিকে তাকাতেই সে চুপ করে গেল।
তার মোবাইলটা বেজে উঠল। ফোন রিসিভ করে সে চুপ ছিল। শেষে ‘হুম’ বলেই কেঁটে দিল।
“আসলে ওর অফিসে বড় একটা কাজ পড়ে গেছে। তাই নাকি আসতে পারবে না।” এই বলে সে রিকশার উদ্দেশ্যে হাত নাড়ালো।
আমি বললাম, “কোথায় যাবে? চলো আমি নামিয়ে দিচ্ছি।”
“বাসায় চলে যেতে বলল ও।” “ধন্যবাদ। তবে তোমার সাথে আমার সেখানে যাওয়া ঠিক হবে না। লোকে কী বলবে?” সে অনেকটা লজ্জিত হলো। হয়তো সরাসরি কথাটা বলতে চায়নি।
“ওহ আচ্ছা।” আমি হাত বাড়িয়ে জোরে ডাক দিতেই একটা রিকশা চলে এলো।
রিকশায় মেয়েকে উঠিয়ে দিয়ে সে বলল, “একদিন বাসায় চলে এসো। বিয়ে করেছ নিশ্চয়। ভাবিকেও নিয়ে আসবে কিন্তু। জমিয়ে আড্ডা হবে সবাই মিলে। আজ তাহলে আসি!”
আমি সম্মতি জানিয়ে ঘাড় নাড়লাম। বাকি উত্তরের জন্য আর অপেক্ষা করল না সে। রিকশায় উঠে বসল।
“চাচা সাবধানে চালাবেন।” আমি হুডটা উঠিয়ে দিয়ে বললাম। প্রচণ্ড রোদের মাঝে রিকশা চলতে শুরু করল। দূরের রাস্তা মরুভূমির মরীচিকার ন্যায় মনে হচ্ছে।
রিকশা চলে যাচ্ছিল। আমিও পেছন ফিরে হাঁটা শুরু করি। একবার মনে হলো সে পেছনে তাকিয়ে আছে। আমি ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখলাম। রিকশাটা আর নেই। হয়তো কোনো গলিতে ঢুকে গেছে। গাড়ির ভেতর বসেই মিউজিক প্লেয়ার চালিয়ে দিলাম। হঠাৎ মনে হলো ঠিকানা টা তো নেওয়া হলো না।
অনুপম রয়ের কণ্ঠে গান বেজে উঠেছে, “লক্ষ্মীটি একবার ঘাড় নেড়ে, সম্মতি দাও আমি যাই ছেড়ে।”
©আজফার মুস্তাফিজ

Continue Reading

গল্প

অভিশপ্ত লাশ – শিমুলের এম্বুলেন্স পর্ব : ১

Naeem Hassan

Published

on

১৯ জুন,২০০৭ সাল।রাত ১১ টা।শিমুল একজন এম্বুলেন্স ড্রাইভার একটা মেডিকেলের।প্রায় ৭/৮ বছর ধরে সে এম্বুলেন্স চালিয়ে আসছে। যাই হোক। সে খবর পেলো একটা এক্সিডেন্ট কেস আছে,তাকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার যেতে হবে লাশ রিসিভ করতে,আর নিয়ে আসতে হবে হাসপাতালে।তো সে বললো স্যার আজ আমি বাসায় ১২ টার মধ্যে যেতে চাই,আমার এই শিফট টা ক্যান্সেল হলে খুব ভালো হয়,কিন্তু কাজ হলো না,শিমুল ছাড়া সবাই যে যার নিজের নিজের কাজে বেরিয়ে পড়েছে,তো শিমুলকেই বের হতে হবে এম্বুলেন্স নিয়ে।তো আর কি করতো সে রওনা হলো লাশের উদ্দেশ্যে।সব কিছুই বরাবরের মতই নরমাল।

সে গাড়িতে জোরে গান ছাড়লো,আর সিগারেট জালিয়ে ড্রাইভ করতে লাগলো।প্রায় ৫০ কিলোমিটার চলার পর দেখলো রাস্তার পাশে থেকে ৩জন লোক লিফটের জন্য হাত তুলেছে,একটু কাছে যেতেই হেডলাইটের আলোই দেখে যে লোকগুলার সাথে একটা কফিনে মোড়ানো লাশ।সে স্বাভাবিক ভাবেই ব্রেক করে দাড়ালো আর লোক গুলো বললো ভাই আমরা বিপদে পড়েছি,লাশ টা নাকি একটা মেয়ের ২ ঘন্টা হয়েছে সে মেয়ে মারা গেছে আত্নহত্যা করে।

এখন পোষ্টমাডামের জন্য হাসপাতালে নিতে হবে।তো শিমুল বললো আচ্ছা ভাই আমি তো একটা লাশ নিতে যাচ্ছি “অমুক গ্রামে” আপনারা যদি হাসপাতালে নিতে চান তবে আমার এম্বুলেন্স এ অই লাশ রিসিভ করে একসাথে নিয়ে যেতে পারি,এক্ষেত্রে আমার সাথে যেতে হবে।তো ৩ ভদ্রলোক বললো আচ্ছা ঠিক আছে ভাই ধন্যবাদ!!শিমুল যখন লাশটা তুলতে হাত লাগালো তার শরীর ছিমছিম করে উঠে।তবে সেটাকে মাথায় না নিয়েই ড্রাইভিং এ বসে পড়ে।আর বাকি ৩জন লাশের পাশে বসলো পেছনে।

যা হোক।সে সময় দেখলো ১.২০ বেজে গেছে।গান ছেড়ে আরেকটা সিগারেট জালালো।প্রায় ১০ মিনিট গাড়ি চালানোর পরে সে দেখলো এম্বুলেন্স যেন ভারী হয়ে যাচ্ছে,যেমন ঃ- যদি এম্বুলেন্স লোড থাকলে যেমন হয় সেরকম।সে অবাক হলো,ভাবলো ইঞ্জিনের সমস্যা এটা।গিয়ার বাড়িয়ে চালাতে শুরু করলো।পেছনে একবার তাকালো দেখলো ৩ ভদ্রলোক ঝিমাচ্ছে।মুচকি হেসে আবার চলতে শুরু করলো শিমুল।আর বাকি ২০ কিলো মতো তবে সে পৌছাবে।

ঠিক ১৫ মিনিট পর এবার এম্বুলেন্স এর পেছনে থেকে একটা ঝাকি খেলো গাড়িটা।শিমুল ভাবলো ব্যাপার কি আজ!!তো সে পিছনে ফিরতেই দেখলো সব কিছুই নরমাল।বলে রাখা ভালো শিমুল অনেক অনেক সাহসী।সামান্য কিছু নিয়ে সে কিছুই ভাবেনা।বা তার কোন ধারনায় নেই যে কি হতে চলেছে।এবার সে এম্বুলেন্স দাড় করিয়ে ইঞ্জিন চেক করতে বের হয়।দেখলো সব ঠিকঠাক।তবে হচ্ছে টা কি!!এবার সে ভাবলো লাশটা তুলতে গিয়েও তার ক্যামন যেন মনে হয়েছিলো।তারপর ভাবলো কি এমন ইমার্জেন্সি ছিলো যে আজ রাতেই পোষ্টমাডাম করতে হচ্ছে।একটু অদ্ভুতই লাগলো শিমূলের।

সে আবার এসে গাড়িতে বসলো।সে পিছনে তাকিয়ে দেখলো ৩ ভদ্রলোক ঘুমাচ্ছে।লাশটাও ঠিক আছে।সে গানটা বন্ধ করলো।আর চলতে শুরু করলো।রাত ২.৪৯ বাজে,সব অন্ধকার,ঝিমঝিমে পরিবেশ কোন শব্দ নেই কোথাও পাখির কান্নার মত ডাক ছাড়া।শিমুলের ভিতরে ভিতরে ভালো লাগছে না।ক্যামনই যেন লাগছে।সে তাও কান না করে চলতে থাকলো।ঠিক ৫ কিলো মত বাকি রাস্তা।আর এই ৫ কিলো জুড়ে শসান।সেটা পার হতে হবে তবেই সে পৌছাবে।এবার হটাত আবারো এম্বুলেন্সের পেছনে অনেক জোরে কেপে উঠলো এমন অনুভব করলো।

সাথে সাথে ব্রেক করে।আর পেছনে তাকায় আবারো,কিন্তু এবার যা দেখলো তা দেখার জন্য সামান্যও প্রস্তুত ছিলোনা শিমুল। সেই ৩ ভদ্রলোক পেছনে ছিলোনা। আর সেই মেয়ের লাশটা উঠে সিটে বসে আছে আর তার দিকে ভয়ানক লাল-লাল দুটি চোখ দিয়ে তাকিয়ে আছে যেন রেগে আছে শিমুলের ওপর,লাশটার গলায় কালো স্পট ফাসি দেয়ার দাগ বোঝায় যাচ্ছে।কি এক ভয়ানক দৃশ্য।শিমুল দেখে এতই ভয় পায় যে তার গলা থেকে একটা আওয়াজ ও বের হচ্ছে না।

সে চেষ্টা করছে কিন্তু কিছুতেই আওয়াজ বের করতে পারছেনা।সে বের হতে গিয়ে দেখে এম্বলেন্সের দরজা লক।খুলতে না পেরে সে অই দৃশ্য দেখে গিয়ার দিয়ে এবার ফুল স্পিডে গাড়ি চালাতে লাগলো।২ মিনিট পরেই সে অনুভব করতে পারছিলো অনেক ঠান্ডা,ভয়ে যদিও সে ঘেমে চুপসে গেছে।সে চোখ একটু পেছোনের দিকে ঘোরাতেই দেখে লাশটি তার সামনের পাশের সিটে বসা আর অই সেই ভয়ানক চোখ।এই দৃশ্য দেখে সে আর সহ্য করতে না পেরে জোরে ব্রেক কসে আর জ্ঞান হারায় ওখানেই।

Continue Reading

গল্প

ভৌতিক ঘটনা ; সত্য ঘটনা অবলম্বনে

Naeem Hassan

Published

on

তখন রাত ১১ টা মত বাজতে চলেছে,বাসটি দ্রুত গতিতে চলছে।বাসটি রাজশাহী পৌঁছাতে আর আধা ঘন্টা মত লাগবে।শিহাব ঘুমিয়ে আছে,তবে সামনের সিটের রবিন জেগে রয়েছে।সে শিহাব কে জাগিয়ে দিলো এবং বলল আর ঘুমিও না,এইতো চলে এসেছি!শিহাব গা-মোড়া দিয়ে চোখ খুললো,তার খুব ঠান্ডা লাগতে শুরু করলো।তো সে ব্যাগ থেকে ফুলহাতা একটি টি-শার্ট বের করে পরে নিলো।পরবর্তীতে রাজশাহী বাস স্ট্যান্ডে এসে বাস থামলো,তখন আনুমানিক রাত ১১.৪৫ মিনিট!!

রবিনের থেকে শিহাব বিদায় নিলো,কারন রবিন নবাবগঞ্জ যাবে।তো রাতে সে বাস স্ট্যান্ড থেকে রওনা হলো রাজশাহী রেলগেটের দিকে এবং পৌঁছাতে পৌঁছাতে ১২ টা বেজে গেলো সে তো শিহাব তার গ্রামের উদ্দেশ্যে যাওয়ার মত অটো খুঁজতে লাগলো কিন্তু পাচ্ছিলো না।অবশেষে পেয়ে গেলো,এবং রেলগেট থেকে তার গ্রামে যেতে আরো ২ ঘন্টা মত লাগবে।প্রথম অটো তাকে কাশিয়াডাংগা পর্যন্ত নিয়ে গেলো,এরপর সে রিক্সা খুজতে লাগলো কিন্তু সে পাচ্ছিলো না কোনভাবেই তো যাই হোক এরকম অনেক সময় কেটে যাবার পর একটা রিক্সার দেখা পেলো।তবে বলে রাখা ভালো সময়টি ছিলো নভেম্বর ২০১৭,সুতরাং মোটামোটি শীত কাজ করছে।

রিক্সাওয়ালা টা মুখে গামছা দিয়ে ছিলো,আর আলো বলতে রিক্সায় নিচে হারকিন যা নিভু নিভু জলছিলো।শিহাব কে দেখে রিক্সাওয়ালা জিজ্ঞেসা করলো,মামা কোথায় যাবেন?শিহাব আনন্দের সাথে বলে উঠলো মামা আমি ——- যাবো বলেই রিক্সায় উঠে পড়লো।কিন্তু রিক্সাওয়ালা আর একটি শব্দও করলোনা।সে চলতে শুরু করলো।প্রায় ১০ মিনিট মতো চলার পর শিহাব অনুভব করলো যে কি যেন একটা গন্ধ পাচ্ছে,গন্ধ টা তার পরিচিয় তবে সে কিছুতেই মনে করতে পারলোনা।

মিনিট পার করলো শিহাব।তারপর ফোনটা পকেটে রেখে দিলো।তবে সে একটি অবাক হলো কারন সে যেখানে যাবে সেখানের পথ ১৫ মিনিটের বেশি না।তবে ইতিমধ্যে ৩০ মিনিট হয়ে গেছে।সে রাস্তা ঠিকমত দেখতে পাচ্ছিলোনা।সব অন্ধকার।হারিকেনের আলোয় খুব অল্প ঝাপসা দেখা যায় সব।সে এবার বললো মামা এইটা কোন রাস্তা??আবারো সাইলেন্ট!! কোন জবাব নেই।এবার একটু রাগ নিয়ে শিহাব ঃ- আরে মামা সমস্যা কি কথা বলেন না ক্যা?? কোথাই যাচ্ছি এই রাস্তা দিয়ে?? জাবাব এলো মামা এই অন্য রাস্তা,অই রাস্তার কাজ চলে।

তবে শিহাব খুব ভালোভাবে জানে যে তার বাসার রাস্তা একটাই।আবার ভাবলো অনেক বছর পর আসছে হয়তো রাস্তা হয়ছে।টেনশন না নিয়ে ফোনটা আবার বের করলো।কিন্তু যা দেখলো সে কোনভাবেই প্রস্তুত ছিলোনা।দেখলো তার ফোনে ৩.১৫ বাজে।এবার তার টনক নড়লো।তার বুঝতে বাকি রইলো না সে যে বাজেভাবে বিপদে।এইটা স্বাভাবিক হতে পারেনা।ফোন করার জন্য রবিনের নাম্বার ডায়াল করতে গিয়ে দেখে কোন প্রকার নেটওয়ার্ক নেই।

কোন ভাবেই যা সম্ভব নাহ।তার এলাকায় কোন নেট প্রব্লেম নেই,তবে নেটওয়ার্ক কেউ নাই।সে ভালো মতই ভয় পেয়ে গেলো।রাস্তার দিকে তাকালো,চোখ মুছে ভালোভাবে।সে দেখলো আশেপাশে শুধুই বাশঝাড় আর কবর।সে ভয়ে শিউরে উঠলো,মুখ থেকে আওয়াজও বের করতে পারছে না সে।শরীর যেন অবস হয়ে আসছে।হটাত তার মাথায় আসলো সে একটা মরা বাসায় গেছিলো রবিনের সাথে।সেখানে যেই গন্ধ পেয়েছিলো এই গন্ধটাও সেটাই।এবার সে ভয়ের ছোটে চলন্ত রিক্সা থেকে লাফ দিলো আর বিপরীত দিকে জানপ্রান ছেড়ে দৌড় শুরু করলো।

এমতা অবস্থায় সে একটা গাছের ধাক্কা খেয়ে পড়লো।উঠে বসতেই দেখলো,সেই গাছের ডালের সাথে অই রিক্সাওলাটা ফাঁস দিয়ে ঝুলে রয়েছে মুখে অই গামছা,আর তার লাল দুটো চোখ তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।সে চিতকার করতেই সেই ঝুলন্ত শরীরটা রশি ছিটে পড়লো তার সামনে।এবার সে আর নিতে পারলোনা।সে অজ্ঞান হয়ে গেলো।সকালে সে দেখলো সে এক অজানা বাশের ঝাড়ে শুয়ে রয়েছে।রোদ মুখে এসে পড়ছে তার।লাফ দিয়ে উঠে।রাস্তায় এসে দেখে সে তার বাসা থেকে প্রায় ২০ কিলো মতো দুরের এই বাশ ঝাড়ে।পরে রবিনের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারে।

যে সে রবিনের সাথে যেই মরা বাসায় গেছিলো সেটি ছিলো এক রিক্সাওয়ালার সুইসাইড কেস।সেই রিক্সাওয়ালা এক বড় আম গাছের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে আত্নহত্যা করেছিলো।আর তার মুখেও গামছা জড়ানো ছিলো। শিহাব আল্লাহ আল্লাহ করে।এবং বুঝতে পারে তার সাথে আরো কত খারাপ কিছু হতে পারতো।এই যাত্রায় সে বেচে যায়।

 

 

Continue Reading






গ্রাথোর ফোরাম পোস্ট