Connect with us
★ Grathor.com এ আপনিও ✍ লেখালেখি করে আয় করুন★Click Here★

গল্প

ভৌতিক কাহিনী (পাহাড়ি ডাকিনী)

Masud Rana

Published

on

আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন??? আজকে যে গল্পটি বলব সেটি একটি কাল্পনিক গল্প । বাস্তবতার সাথে যার কোন মিল নেই। এটি আমার তৃতীয় গল্প সুতরাং যদি কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে সবাই সেটিকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।।।

কিছু একটার বিকট আওয়াজে জ্ঞান ফিরলো অভিকের।।। চোখ খুলেই দেখল একটা গুহার ভিতরে পড়ে আছে সে। আশেপাশে অসংখ্য হাড়গোড় পাশেই পড়ে আছে ঝুমা আর তিশা ওদের গায়ে হাত দিয়ে শিউড়ে উঠলো অভিক। কি হিম শীতল পড়ে বুঝতে পারল ওরা আর বেঁচে নেই। রতনের দেহটা ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখল পাশেই। আচ্ছা মফিস মামা কই উনিত গাড়ি চালাচ্ছিলাম। জানিনা আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না হঠাৎ করে কি হয়ে গেল।

শামিম আর মুকাদ্দেস ইবা কৈ গেল । আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না। আমরা ছয় বন্ধু আর রতনের মফিজ মামা একসাথে পাহাড়ের রাস্তা দিয়ে ঝরনা দেখতে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ কোথা থেকে একটা গাড়ী এসে আমাদের গাড়িটা কে ধাক্কা মারে। আমাদের গাড়িটা খাদে পড়ে যায়। তখন আমার জ্ঞান ছিল আমি সাফ সাফ দেখতে পেয়েছিলাম সবাই জীবিত আছে। কিন্তু সেই খাদ থেকে আমরা কিভাবে এই গুহায় পৌছালাম। শামীম মোকাদ্দেস আর মফিজ মামায় বা কই গেল। রতনের দেহটাকে কিভাবে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করল। ভাবতেও কেমন লাগছে।
কিছুক্ষণের জন্য আমার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে কিছু একটার আওয়াজ পেলাম। হয়তোবা কেউ আসছে আমাদের দিকে। কে সে??????? ভয় লাগছিল….. যাই হোক সাহস করে উঠে দাঁড়ালাম দেখতে পেলাম একজন বৃদ্ধ মহিলা কিন্তু তার হাতের নখ গুলো এত বড় কেন????? চোখগুলো এত ভয়ানক কেন???? পোশাকে এত রক্তমাখানো কেন????
আমি ভেবেছিলাম হয়তো আমাদের সাহায্য করতে আসছে বৃদ্ধ মহিলাটি কিন্তু না আমাদের এই অবস্থার জন্য উনি দায়ী ।।।।।। আমাকেও জাগ্রত অবস্থায় দেখেই উনি হাসি দিলেন,,,, বললেন মৃত শিকারের চাইতে জীবিত শিকারের মজাই আলাদা।।।।।। একটা হাসি দিলেন বীভৎস প্রকৃতির।। আমার বুঝতে বাকি রইল না তিনি কোনো মানুষ নয়।।
মনে মনে আল্লাহকে অনেক ডাকলাম এরপর চিৎকার করে বললাম আমার বাকি সঙ্গীরা কই কি করেছেন তাদের সাথে জবাব দিন?????? ডাকিনী টি আমাকে বলল এত চিৎকার করিস না এটা আমার এলাকা….. এখানে আসার আগে মনে ছিলনা যে কোথায় আসছিস???
তোর বাকি সংগীদের কথা কি বলব ওদের সবার রক্ত খাওয়া শেষ।।।।। তোর বাকি তিনসঙ্গী ছিলনা ওদের মধ্যে মোটাটার শরীরে রক্ত নেই মাংস আর মাংস কি খেয়ে যে এত মাংস গায়ে ধরিয়েছে ।।।।। কিন্তু চিকনা দুইটার গায়ে অনেক রক্ত ছিল ওদের অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছে।।।। তুই চিন্তা করিস না কিছুক্ষণের মধ্যে তুই ও ওদের কাছে চলে যাবি কি বলিস পাঠাবো,,,,,,,,,,, আমি চুপ করে শুধু শুনছিলাম আর ভাবছিলাম এখান থেকে কেমন করে পালিয়ে যাব। ডাকিনী টি তখনই বলল যত ইচ্ছা খাঁচায় বন্দি পাখির মত পাখা ঝাপটা একটু পরে তোর প্রাণনাশ করবো আমি,,,, এই বলে ডাকিনী টি অভিকের দিকে ছুটে আসতে লাগলো তার বড় বড় দাঁতগুলো চকচক করছিল। যখনই ডাকিনীটি অভিকের কাছে এসে ওর গলায় দাঁত বসিয়ে দিল অভিক চিৎকার করে উঠলো। অভিকের চিৎকার শুনে ঝুমা তিশা রতন শামীম মোকাদ্দেস অভিকের দিকে চেয়ে রইল আর মফিজ মামা বলছে কি মামু কি মনে হল তাই চিৎকার করছেন।।।। অভিক এবার বুঝতে পারল আসলে সে কোন দুঃস্বপ্ন দেখেছে।
এবার এবার অভিক সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল,,,,না তেমন কিছু না হঠাৎ করে একটা দুঃস্বপ্ন দেখেছি তো তাই।।।।। কিন্তু অভিক একটা জিনিস দেখে অবাক হল তার গলায় দাঁতের ছাপ চুঁইয়ে চুঁইয়ে রক্ত পরছে,,,,,,,,,,,, কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

Advertisement
2 Comments
Subscribe
Notify of
2 Comments
Oldest
Newest
Inline Feedbacks
View all comments
Maria Hasin Mim

so horrable

Md Golam Mostàfa

ধুর! মজাটাই নষ্ট হয়ে গেল।

গল্প

পিঁপড়া ও ফরিংয়ের বেঁচে থাকার সংগ্রাম

Muhammad Anwar Hossain

Published

on

ভোঁ ভোঁ শব্দটা বেজেই চলেছে। কোত্থেকে যে শব্দটা আসছে তা নির্ণয় করা যাচ্ছে না।  মশা মনে করে কয়েকবার মারার চেষ্টা করে নিজের গালে পিঠে চড় খেতে হয়েছে আসিফকে। নাহ্ আর থাকা যায় না । হুরমরিয়েে উঠে শব্দের সূচনা খুজতেই চোখে পড়ে গেল এক অসহায় ফড়িংয়ের করুন অবস্থা। বেচারা উড়তে গিয়ে হয়তো কোথাও আঘাত খেয়ে পড়ে গিয়েছে। পিঁপড়া সেনার দল সেই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে অক্লান্ত পরিশ্রম করে। একদল পিঁপড়া ভারি ফরিংটাকে টানার চেষ্টা করছে, পারছে না তো চেষ্টা করেই যাচ্ছে। ওদিকে একদল মুখে মুখে কি যেন আগত পিঁপড়াদের বলে যাচ্ছে। মুখে মুখ লাগিয়ে বলার পর ঝাঁপিয়ে পড়ছে অসহায় ফরিংয়ের উপর। বেচারা ফরিং আর কি করবে এ দলের উপর। অপারক অবস্থায় নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে, আর পাখারে আঘাতে  ভোঁ ভোঁ শব্দ হচ্ছে। হু… তাহলে এই ব্যাপার বলেই আসিফের মনে দয়ার উদ্বেগ হলো। মন থেকে বেরিয়ে আসলো আহারে বেচারা। গুটি গুটি পায়ে খুবই সাবধানে এই বিশাল পিঁপড়া সেনাবাহিনীর হাত থেকে ফরিংটাকে আলতোভাবে তুলে নিলো। ফরিং হারিয়ে পিঁপড়ার দলের প্রায় পাগল পাগল অবস্থা। এদিক সেদিক তাদের আধার বস্তুটাকে হন্য হয়ে খুজতে লাগলো। সারা ঘরে এখন পিঁপড়ার মিছিল। ওদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কুট করে এসে  আসিফের পায়ে কামড়ে দিলো। অমনি ওরে মারে বলে চিৎকার দিয়ে এক দৌড়ে ব্যালকনি। রেলিংয়ের উপর এক হাত গেরে দিয়ে আলতোভাবে হাতে থাকা ফরিংটাকে আদর করতে লাগলো। আদর পেয়ে এবার এবার ছটফটানিটা একবারেই থেমে গেল। চার পাখনা উচিয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে রয়েছে কোথায় যেন। সন্ধ্যা প্রায় ঘনিয়ে এসেছে। সারা আকাশে সূর্যের রক্তিম আভায় একাকার হয়ে আছে।  সারা প্রকৃতিটা যেন শান্ত এক জড় ক্ষেত্র। মৃদু বাতাসে শরীরের লোমে শুরশুুর দিয়ে যাচ্ছে। মনভরে প্রকৃতিকে উপভোগ করছে আসিফ। ফরিংটা অনেকটাই সূস্থ হয়ে উঠেছে। তার পাখা গুলো একবার উচো করছে ফের নামিয়ে দিচ্ছে। শুধু ভোঁ করে উড়াল দেয়ার পালা মাত্র। ডান হাতটা কিছু চাওয়ার মতো করে রাখলো আসিফ। এবার বাম হাতে আলতো করে ধরে রাখা ফরিংটা ডান হাতের উপর রাখতেই ফুরুৎ করে ফরিংটা উড়ে গেল নিজ ঠিকানায়। হয়তো সারা প্রকৃতিটাই হবে তার বিচরণ ক্ষেত্র নতুবা আবার কোন আক্রমনের ফাঁদে। ভাবতে ভাবতে মাগরিবের আযানে ধ্যান ভাঙ্গে আসিফের। ঘরে এসে দেখে পিঁপড়ার দলও অনেক শান্ত হয়ে গেছে। একদম শৃংখলভাবে ঘরে ফেরার পায়তারা। কোন চিন্তা নেই, নাই কোন ভাবনা। চলছে তো চলছেই এ চলার যেন কোন শেষ নেই, আর শেষ হবে না কোন দিন।

Continue Reading

গল্প

বাংলাদেশে ধর্ষণ যে কারণে হয়।

Hasibur Rahman

Published

on

সাম্প্রতিক বিশ্ব যখন কোভিড-১৯ নিয়ে মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে তখন বাংলাদেশ পরিচিত  হচ্ছে নতুন এক মহামারি, ধর্ষণের  সাথে। যেদিকে দুচোখ  যায় শুধু  ধর্ষণের চিত্র  এসে পড়ে। এই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে নারী, শিশু সকলে। বিশ্ব মহল যখন করোনার ভ্যাকসিন এর মাধ্যমে বাঁচার স্বপ্ন  দেখছে করোনাভাইরাস থেকে  তখন  কিনা বাংলাদেশের নারী মহল আক্রান্ত হচ্ছে রেপ-২০ এর সাথে। কোভিড-১৯ এর কবলে পড়ে  বিশ্ব অর্থনীত ধসে পড়েছে। অপরদিকে  রেপ-২০ তে আক্রান্ত নারীদের জলাঞ্জলি দিতে হচ্ছে তাদের সতীত্ব  ও নারীত্বকে। এ থেকে বাচার উপায়???? নাকি বাংলাদেশও আবিস্কার করবে রেইপ ভ্যাকসিন!!!

বলছিলাম রেপ কেন হয়। মূলত পুরুষদের দ্বারায় রেপ সংগঠিত হয়ে থাকে। শুধু কি পুরুষের জন্যেই ধর্ষণ হয়ে থাকে??গ্রাম্য প্রবাদে আছে বিনা বাতাসে নদীর পানিও লড়েনা। বেহায়াপনা আর অশ্লীলতা হচ্ছে রেপের মূলমন্ত্র। কি, চমকে গেলেন!!

হ্যাঁ, এর জন্যে সংগঠিত হচ্ছে অহরহ রেপ। পশ্চিমাদের মতো আমাদের দেশেও এখন দেহ প্রদর্শন চর্চা লক্ষণীয়। আধুনিকতার নামে নারীরা এখন তাদের দেহকে বানিয়ে ফেলছে  বাজারের প্রডাক্ট। সোশ্যাল মিডিয়াতে বিশেষ করে ফেসবুকে নিজেদেরকে পরিচিত করতে ফলোয়ার, লাইক, কমেন্ট পাওয়ার 

আশায় আপলোড করছেন নগ্নতায় ভরা সফটকোর এবং হার্ডকোরের মতো অশ্লীল ছবি। তাদের  এসব অশ্লীল পোস্টগুলো  যুব সমাজকে  ধর্ষণের দিকে প্রভাবিত করে। মেয়েরা হয়ত বলবেন স্বাধীন দেশে বসবাস করি, যা মন চাই তাই করব। আপনারা কি ভাবছেন দেশে শুধু হিজড়ার বসবাস??? রাস্তায়  বাসি খাবার পড়ে থাকলে কুকুর আসবে  এটায় স্বাভাবিক!!!! বড় বড় ধর্ষক যাদের দ্বারা তৈরি হচ্ছে হাজারো রেইপ প্লাটফর্ম, যারা ছড়িয়ে দিচ্ছে রেইপ ভাইরাস!! সেই মড়েল তারকারাই হচ্ছে তাদের নৈতিক আদর্শের বাহক। কি, চমকে গেলেন আবারো!!!!! বলতে পারেন তাদের     এই সুকর্মের জন্যে তো সরকারিভাবে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সরকার?? কিন্তু সরকার তো ধর্ষণ নির্মূল করতে নানান প্রদেক্ষপ গ্রহণ করছেন এবং ধর্ষকের জন্যে আইন রদবদল করে সর্বোচ্ছ শাস্তি ফাঁসি কার্যকর করছেন। তাহলে আমাদের সরকারের  অবস্থা কি লেফাফাদুরস্থির মতো??

এইতো সঠিক জায়গায় ঢিল মারতে পেরেছেন। কিভাবে রক্ষা পাব এই মহামারি থেকে??? এ থেকে বাঁচতে হলে আমাদের অবশ্যই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে এবং সকলে সাধ্য অনুযায়ী ইসলামী জিন্দেগী গড়ে তুলতে হবে। পরিশেষে বিদ্রহী কবির সাথে একাগ্রতা পোষণ করে বলবো:

কোন কালে হয়নিতো ধর্ষণ শুধু পুরুষের কাম্য দোষে

উৎসাহ দিয়েছে সাড়া দিয়েছে কলংক সতী নারী।

পরিশেষে বলতে পারি ধর্ষণ প্রতিরোধ করতে হলে সর্ব প্রথম আমাদের মন মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়ে হবে। নারীদেরকে যথাযত সম্মান দেখাতে হবে। আর নারীদেরকে বলছি আপনারাও আপনাদের চাল চলন চলা ফেরা উঠা বসা বদলান। তবেই বদলে যাবে সমাজ বদলে যাবে বাংলাদেশ বদলে যাবে এ ধরণী।

Continue Reading

গল্প

একজন বেকার যুবকের আত্মকাহিনী।

Shanta Akter

Published

on

রাফি আমার রুমমেট। যদিও ও আমার বড়ো বাট আমাদের বন্ধুত্বের গভীরতা অনেক। সেজন্য ওকে নাম ধরেই ডাকি। রাফি গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে চাকরির জন্য চেষ্টা করতেছে, পাশাপাশি মাস্টার্স পড়তেছে। ওদিকে আমি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

 

বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করার উদ্দেশ্যই আমার ঢাকা আসা। ছাত্র হিসেবে  যথেষ্ট মেধাবী, কিস্তু তারপরও কেনো যানি ওর চাকরিটা হচ্ছিলই না। প্রত্যকটা চাকরির পরিক্ষায় উত্তির্ন হতো, ভাইবাতেও টিকতো তারপরও ওর চাকরি হতোনা। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতাম ও পড়ার টেবিলে। ভর্সিটি থেকে এসে দেখতাম ও বই পড়ছে। কোচিং থেকে এসেও দেখি ও বই নিয়ে বসে আছে।

এককথায়  ও সারাদিনই বইয়ের কাছে থাকতো।  খুব কম সময়ই ছিলো ওকে বই ছাড়া আমি দেখেছি।  অনেক রাত জেগে পড়াশোনা করতো। মাঝেমাঝে আমার ঘুমে সমস্যাও হতো।  কিন্তু ওকে কিছু বলতাম না, বুঝতেও দিতাম না।  কেননা, চাকরিটা ওর ভিষণ দরকার ছিল।

ওর বাবা একজন কৃষক ছিলেন।  কয়েকমাস যাবত সে প্যারালাইস হয়ে ঘরে শোয়া। রাফির ছোট তিন বোন ও এক ভাই আছে। একবোন কে কোনোমতে বিয়ে দিয়েছে। বাকি দুজনও বিবাহ উপযুক্ত। ছোট ভাই ক্লাস এইটে পড়ে। সবমিলিয়ে বড় সন্তান হিসেবে ওর কাধে অনেক দায়িত্ব। টিউশন করে নিজের খরচ দিয়ে অল্পকিছু বাড়িতে পাঠাতে পারে।  অভাবের দায়ে রাফির মা মানুষের বাসায় কাজ করে।  সেখান থেকে যা পায় তা মিলিয়ে কোনো রকম দিন কাটে ওদের।

রাফি যতোবারই চাকরির পরিক্ষা দিয়েছে, রুমে এসে কনফিডেন্সের সাথে আমাকে বলতো এবার চাকরি টা আমার হয়েই যাবে।  কিন্তু যখন রেজাল্ট প্রকাশ হয় এবং রাফির নাম না আসে তখন ওর চেহারাটা মলিন হয়ে যায়।  কান্না জরিত কন্ঠে বলে শাকিল, বিশ্বাস কর আমার সবগুলো উত্তর সঠিক হয়েছে।   আমি লিখে দিচ্ছি তুই মিলিয়ে দেখ ।  প্রায় পাগলের মতো বিলাপ করতে করতে উত্তরপত্র আমার হাতে তুলে দেয়।

কয়েকদিন যাবতই লক্ষ্য করছি, রাফি অন্যমনস্ক হয়ে বসে থাকে। কোন কাজেই যেন ওর মন বসেনা।  জিজ্ঞেস করলেও কিছু বলেনা। অনেক জোরাজোরির পর জানতে পারলাম    ওর সদ্যবিবাহিত বোনের শ্বশুর বাড়ি থেকে যৌতুকের জন্য চাপ দিচ্ছে। সবকিছু ওর চোখের   সামনেই ঘটতেছে, অথচ ও কিছুই করতে পারছেনা।

রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটা, রাফির ডাকে ঘুম ভেঙে গেলো।  ও কান্না জরিত কন্ঠে কাকুতি করে আমার কাছে টাকা ধার চাইলো।  যেহেতু মাস শেষ হয়নি, ওর টিউশনির টাকা পায়নি।  হঠাৎ করে নাকি ওর বাবার অসুস্থতা বেড়ে গেছে। আমার কাছে ১৭০০ টাকা ছিলো, আরও ৩০০ টাকা মেনেজ করে ওর হাতে দুই হাজার টাকা দিলাম।

সকালে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হলো।  যাওয়ার সময় আমাকে জরিয়ে ধরে প্রচুর কান্না করলো।  মনে হচ্ছে ওর কোন প্রিয়জন হারিয়ে গেছে। কোনোমতে ওকে সামলিয়ে, স্টেশনের উদ্দেশ্য রওনা হলাম। কেন যানি বুকের টা হাহাকার করতেছে।  রুমে ফিরে দেখি আব্বুর নামবার থেকে অনেকগুলো কল আসছে। ফোন চার্জে রেখে স্টেশনে গেছিলাম। বড়মামা নাকি স্টোক করছে। ওই মুহূর্তে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হলাম।  গাড়িতে উঠে রাফিকে এসএমএস করে জানিয়ে দিলাম। ফোনে বলার মতো অবস্থাতে আমি ছিলাম না।

চারদিন আইসিইউ তে থাকার পর   মামা মারা গেল।  এক সপ্তাহ যেন ঘোরের ভিতর চলে গেল। রাফিকে কল দিয়ে পেলাম না। এতোদিনে ওর রুমে চলে আসার কথা।  মন কে শান্তনা দিলাম, হয়তো ও ব্যস্ত আছে বা মন খারাপ।

সন্ধ্যার পরে আরেক রুমমেটের   কল আসে।  দুই মিনিট কান্না করার পর কোনোমতে জানালো, রাফি আর আমাদের মাঝে নেই। কথাটা শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। কাউকে না বলে ওই অবস্থা তেই ঢাকা চলে আসলাম। ততক্ষণে ওর লাশ মর্গে নিয়ে গেছে। রুমে ঢুকে ওর বিছানার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম।  মনেই হচ্ছেনা, রাফি আর দুনিয়াতে নেই।

ওর বালিশটা বুকেে চেপে ধরে কান্না করতেছি, হঠাৎ নজর পড়লো বিছানায় পড়ে থাকা একটা  সাদা খামের ওপর। খামের ভিতর কিছু টাকা এবং একটা চিঠি। চিঠি টা ছিল আমার উদ্দেশ্যে লিখা।

চিঠি পরে জানতে পারলাম,  যৌতুকের জন্য অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ওর বোন সুইসাইড করে। বোনের মৃত্যুর জন্য ওর পরিবারসহ আত্মীয়স্বজনরা সবাই ওকে দোষারুপ  করছে। বাবা অসুস্থ, বোনদের বিয়ে দিতে পারছেনা। গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেও বেকার।  এতো ভালো পারিক্ষা দিয়েও চাকরি না পাওয়া, সবকিছু মিলিয়ে অনেক হতাশায় ভুগছে। তাই ও সিদ্ধান্ত নিলো সুইসাইড করবে, অবশেষে তাই হলো।

আমাদের সমাজে এরকম অসংখ্য বেকার রাফি আছে এবং অনেক রাফি হতাশ হয়ে জীবন শুরু করার আগেই এভাবেই ঝরে পড়ছে। মৃত্যু কোনো সমস্যার সঠিক সমাধান হতে পারে না।   মানুষের জিবনে সমস্যা থাকবেই, সেই সমস্যা কে মোকাবেলা করে  সামনে এগিয়ে যাওয়ার নামই হচ্ছে জিবন।

 

Continue Reading






গ্রাথোর ফোরাম পোস্ট