Connect with us
★ Grathor.com এ আপনিও ✍ লেখালেখি করে আয় করুন★Click Here★

গল্প

রোমান্টিক গল্প। রোদের ছায়া। আজফার মুস্তাফিজ

Azfar Mustafiz

Published

on

গল্প: রোদের ছায়া
লেখক: আজফার মুস্তাফিজ

অনেকদিন পর মায়ার দেখা পেলাম। তাকে ঠিক আগের মতোই মনে হলো। একটা ছোট্ট মেয়ে তার আঙুল ধরে দাঁড়িয়ে। প্রচণ্ড রোদ। মাথার ওপর ছাতা ধরে রেখেছে সে। তবুও একদম ঘেমে নেয়ে উঠেছে। মুখে বিরক্তির ছাপ। “উফ”, কপালের ঘাম ঝেড়ে ফেলল সে। তার মেয়েটি উত্তপ্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে বারবার বলছে, ” আম্মু! কোলে নাও না।” সেও পরিশ্রান্ত। একটু ছায়াময় স্থান খুঁজে বেড়ায় মায়ার চঞ্চল চোখ দুটো। কিন্তু পায় না। মানুষের ভীড়ে বিশ্রামের অবকাশ নেই।
আমি যে এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছি, সেটা সে বুঝতে পেরেছে। তাতে তার বিরক্তি ভাব কিছুটা বর্ধিত হয়েছে। সে কি আমাকে চিনতে পেরেছে? চেনার কথা কি! নাহ, অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। সময়ের অগোছালো ঝড় ঝাপটাই কয়েকটা বছরের কিছু বেশি! হয়তো অনেক বেশি। অদল বদলও তো কম হয়নি। নিজের বাহ্যিক বদল তো অনেক বেশিই হয়েছে।
অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায়। কত স্মৃতির পাখি উড়ে যায় মাথার ওপর দিয়ে। কিচিরমিচির শব্দে যন্ত্রণা হয় আমার। কঠিন যন্ত্রণা। সেই যন্ত্রণার অনুভূতি বেশিক্ষণ বয়ে বেড়ালে নিশ্চিত জ্ঞান হারাবো না হয় প্রাণ!

তার দিকে এগিয়ে গেলাম আমি। সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কয়েক মুহুর্ত। মস্তিষ্কের ধুলো ময় জঞ্জাল খানা থেকে পরিচয় মিলিয়ে দেখতে হয়তো কিছু সময় লাগবে তার।
অবশেষে সে চিনেছে আমাকে।
“তুমি?”
আমার হাঁসি চওড়া হলো, “হ্যাঁ, আমিই। চিনতে পারলে তাহলে! আমি তো ভেবেছিলাম আমাকেই পরিচয় দিতে হবে। ”
“না চেনার কী আছে!” বলল সে।
“অনেক কিছুই তো থাকার কথা। এই যেমন আমি অনেকটা বদলে গেছি।”
সে ভদ্রতা সূচক হাঁসি দেয়। সম্পূর্ণ মিথ্যা হাঁসি। “তোমার আশ্চর্য ধাঁচের কথা বলার স্বভাব আজীবন রয়ে গেল।”
“যে সব কথাকে আশ্চর্যজনক ভেবেছিলে তুমি, তা সবই নিছক ফাজলামি। আমাকে ফাজিল হিসেবেও আখ্যায়িত করা উচিত ছিল তোমার।”
তার মাথাটা নিচ হয়ে গেল। চোখে চোখে কীসের লুকোচুরি করছে সে?
“কেমন আছো তুমি?” চোখে চোখ রেখে বললাম আমি।
সে চোখ সরিয়ে নিয়ে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, “ভালোই, আলহামদুলিল্লাহ।”
তার মেয়ের দিকে তাকালাম আমি। দেখতে তার মতো না। শুধু চোখ দুটো তারই! একদম মিলে যায়।

মায়া বলল, “তুমি তো অনেক ভালো আছো নিশ্চয়। যে গাড়ী থেকে নামলে সেটা তো অনেক দামী মনে হয়। হাত ঘড়ি টা দেখি রোলেক্সের। গলায় মোটা সোনার চেইন পরাটা একটু বেশিই বড়োলোকি হয়ে গেছে। তোমার পোশাক, পায়ের জুতো জোড়াও দেখছি বিলাশ বহুল ব্রান্ডের। অনেক বড় হয়ে গেছ নিশ্চয়! তোমার সাথে দেখা হওয়ায় আজ আমি খুব খুশি।”
সে যে আমাকে এতো খুঁটিয়ে দেখেছে! তার মানে নিশ্চয় মায়া আমাকে আগেই চিনতে পেরেছিল। রাস্তার পাশে গাড়ির সামনের অংশের ওপর বসে থাকাটা চোখে পড়ার মতোই। সে কি দেখেও না দেখার ভান করে ছিল?

Place your ad code here

আমি তার দীর্ঘ বক্তব্যের উত্তর দেওয়ার কথা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তার কাছে ভালো থাকার সমীকরণ খুব অদ্ভুত। যদিও আমি তার সমীকরণ অনুযায়ী রেখা টানার প্রচেষ্টাতে রয়েছি।
তারপর আমি বললাম, “আচ্ছা এখানে, এতো রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছো কেন?”
“একটু কাজ ছিল আর কি!”
“একাই এসেছ?”
“না, স্বামির সাথে। আসলে পাশেই তার অফিস।আজকে ছুটি নিয়েছিল। এখানেই আসার কথা তার। একটু বাইরে বেড়ানোর প্ল্যান রয়েছে। ফোন দিয়েছি, পাঁচ মিনিটেই চলে আসবে বলেছে। আর তুমি এখানে?”
“আমার কোনো ঠিক নেই। এমনিতেই গাড়িতে করে ঘুরাঘুরি করি। আজ এখানে তো কাল ওখানে।” আমি হাসার চেষ্টা করলাম। তবে কথাটা নিজের কাছেই খুব খাপছাড়া শোনাল। তাই হাঁসি ফোটাতে কষ্টই হলো।
“বাহ, বিখ্যাত লেখকেরা কী এমনই হয়?”
“লেখক আবার কীভাবে হলাম!”
“কেন আগে তো খুব গল্প টল্প লিখে পড়তে দিতে। বাদ দিলে নাকি।?”
“আসলে আগ্রহ পেলাম না আর।”
“ও আচ্ছা।”
আমি সাথে সাথেই বললাম, ” মিথ্যা বললাম। আগ্রহের ব্যাপার না। নিজের বলার মতো কোনো গল্পই নেই। কী লিখব! নিজে খুবই অপ্রতিভাবান। কল্পনা শক্তিও অকল্পনীয় দুর্বল। যে দুই একটা লেখার চেষ্টা করেছি, তা কখনোই ছাপার মতো নয়।”
“তাহলে আজকাল কী করা হচ্ছে?” বলল সে।
“আসলে সাহিত্যের মাঝেই আছি। তবে ভিন্ন ভাবে। বইয়ের ব্যবসার সাথে আছি। বর্তমানে ভালো বিজনেস।”
“বইয়ের দোকান থেকে এতো টাকা পেয়ে গেছ!” তার চোখে বিস্ময়।
“রকমারি.কম’ এর নাম শুনেছ নিশ্চয়। আমি বর্তমানে সেটার সেয়ার হোল্ডার। ভালোই ব্যাবসা জমিয়েছে তারা। মার্কেটে তাদের সেয়ার থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঠিকই পেয়ে যাচ্ছি। আচ্ছা এতো রোদে না দাঁড়িয়ে গাড়িতে বসলে হয় না? এসি আছে, চলো।”
“আরে না। সমস্যা নেই। ও তো এখনই চলে আসবে।”
তার ছোট মেয়েটা নতুন ফোটা বুলিতে বলল, “চলো না আম্মু। খুব গরম। আর দাঁড়াতে পারছি না।”
মায়া কঠিন চোখে তার দিকে তাকাতেই সে চুপ করে গেল।
তার মোবাইলটা বেজে উঠল। ফোন রিসিভ করে সে চুপ ছিল। শেষে ‘হুম’ বলেই কেঁটে দিল।
“আসলে ওর অফিসে বড় একটা কাজ পড়ে গেছে। তাই নাকি আসতে পারবে না।” এই বলে সে রিকশার উদ্দেশ্যে হাত নাড়ালো।
আমি বললাম, “কোথায় যাবে? চলো আমি নামিয়ে দিচ্ছি।”
“বাসায় চলে যেতে বলল ও।” “ধন্যবাদ। তবে তোমার সাথে আমার সেখানে যাওয়া ঠিক হবে না। লোকে কী বলবে?” সে অনেকটা লজ্জিত হলো। হয়তো সরাসরি কথাটা বলতে চায়নি।
“ওহ আচ্ছা।” আমি হাত বাড়িয়ে জোরে ডাক দিতেই একটা রিকশা চলে এলো।
রিকশায় মেয়েকে উঠিয়ে দিয়ে সে বলল, “একদিন বাসায় চলে এসো। বিয়ে করেছ নিশ্চয়। ভাবিকেও নিয়ে আসবে কিন্তু। জমিয়ে আড্ডা হবে সবাই মিলে। আজ তাহলে আসি!”
আমি সম্মতি জানিয়ে ঘাড় নাড়লাম। বাকি উত্তরের জন্য আর অপেক্ষা করল না সে। রিকশায় উঠে বসল।
“চাচা সাবধানে চালাবেন।” আমি হুডটা উঠিয়ে দিয়ে বললাম। প্রচণ্ড রোদের মাঝে রিকশা চলতে শুরু করল। দূরের রাস্তা মরুভূমির মরীচিকার ন্যায় মনে হচ্ছে।
রিকশা চলে যাচ্ছিল। আমিও পেছন ফিরে হাঁটা শুরু করি। একবার মনে হলো সে পেছনে তাকিয়ে আছে। আমি ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখলাম। রিকশাটা আর নেই। হয়তো কোনো গলিতে ঢুকে গেছে। গাড়ির ভেতর বসেই মিউজিক প্লেয়ার চালিয়ে দিলাম। হঠাৎ মনে হলো ঠিকানা টা তো নেওয়া হলো না।
অনুপম রয়ের কণ্ঠে গান বেজে উঠেছে, “লক্ষ্মীটি একবার ঘাড় নেড়ে, সম্মতি দাও আমি যাই ছেড়ে।”
©আজফার মুস্তাফিজ

গল্প

আমি তুহিন (একটি রহস্যগল্প)

Maruf Ahmed

Published

on

আমি তুহিন।

[[এই কয়েকদিন যাবত অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছি, কেউ খোঁজ নেয়না। নিবেই বা কেন। এরকম মাঝেমধ্যেই আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি আজকাল। আমার এসব অবনতি দেখতে দেখতে সবাই পানশা হয়ে গিয়েছে আমার প্রতি। এখন আর নিজেকে মানুষের মতো মানুষ বলে মনে হয়না। লোকে কি বলবে, তার আগে আমিই আমাকে বোঝা মনে করি।]]

ব্যাস.. ইন্সপেক্টর খালেদ জামান এতটুকুই পেলেন তুহিনের রুম থেকে। তুহিনের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছিলো, মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণ ঘুমের ট্যাবলোট খেয়ে সে সুইসাইডই করেছিল। সেটা মার্ডার নয়। তবুও মার্ডার কিনা সেটার প্রমাণ খোঁজার জন্য ইন্সপেক্টর খালেদ সাহেব তৎপর হয়ে আছেন। তুহিনের বাল্যকালের বন্ধু ছিলেন তিনি।

Place your ad code here

 

অতঃপর তুহিনের রুমে আরো একটি ছোট ডাইরীর সন্ধান মেলে। প্রথম পাতায় একটা মেয়ের ছবি লাগানো। সম্ভবত তার প্রিয়তমা। সেই পাতা উল্টিয়ে দেখেন,

[[দিনকতক আগে বন্ধুদের আড্ডায় শামিল হতে গিয়েছিলাম। তিন রাস্তার মোড়ের ওই বিখ্যাত টঙের দোকানে। তবে আগের মতো মানুষের আনাগোনা নেই। সবাই নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। কিছু লোক উপস্থিত ছিলো যদিও। তাদের কেউই আমার বয়সী ছিলোনা। বাদ দিলাম আমার শৈশবের বন্ধুদের কথা।

ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমোতে আমি প্রায়ই চেক করি; আজও কি তিনি আমায় ব্লকলিস্টে রেখেছেন কিনা। প্রিয়তমা আমার বড্ড দেমাগী। সেই যে রাগ করে সবকিছু থেকে আমাকে ব্লক করলো, আজ প্রায় ২ বছর হতে চলেছে। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আমাদের আগের ম্যাসেজগুলো পড়ছি, আর হাসছি।

এস.এস.সি -তে বিজনেস স্টাডিজ গ্রুপ থেকে গোল্ডেন এ+ তুলেছিলাম। সেই সুবাদে সরকারী কলেজে সহজেই চান্স পেয়েছিলাম। কলেজ লাইফে আমার ক্রাশ ছিলো সুমাইয়া। সে আর আমি উভয়ই মেধাবী ছিলাম বিধায় বন্ধুত্বটা তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। ধীরে ধীরে আমাদের সম্পর্কটা একটা গতি পেতে থাকে। আর একসময় প্রেমে জড়িয়ে পড়ি; যেটা ভুল ছিলো আমার।

এইচ.এস.সি পাশ করতে না করতেই ভার্সিটি কোচিং শুরু হয় আমার। এ যেন এক নতুন যুদ্ধের সূচনা। সে যুদ্ধে জয়লাভও করে ফেলি আমি। সুযোগ হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংলিশ নিয়ে পড়ার।

মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় পরিবারের অন্যদের প্রতি আমার দায়িত্বটা একটু বেশি। ইতোমধ্যে আমার উপর চাপও আসতে থাকে পরিবারের হাল ধরার। ছুটে চলি চাকরীর বাজারে।

আজকাল তো বাজারে মেধা যাচাই কটা হয়না। রাজনীতির মামা/খালু আর টাকার পাহাড় থাকলেই চাকরী পাওয়া সহজলভ্য হয়। এগুলোর কোনটিই আমার যথেষ্ট পরিমানে ছিলোনা। অনেকদিন হচ্ছে চেষ্টা করছি। কিন্তু কিছুই হচ্ছেনা।

বেকার হয়ে ঘুরতে থাকি রাস্তায় রাস্তায়, শহরে বন্দরে। ওইসময়গুলোতে যোগ্যমতো একটা বন্ধুও পাইনি আমি। টঙের দোকানে বসে থাকতাম আর ফেসবুকে চ্যাটিং করতাম প্রিয়তমার সাথে। ভালোবাসার কথার চাইতে হিট দেওয়া কথা চলতো বেশি। তাই চিন্তা করলাম একটু দূর থেকেই ভালোবাসবো তাকে।

ছোট বোনটা বড় হচ্ছিলো। বেশি হলে বছর দুয়েক পর্যন্ত সে আমাদের সাথে আছে। এরপর বিয়েরও একটা ব্যাপার আছে। অথচ এখনও আমি চাকরীর সন্ধান করতে পারিনি।

পাবলিক ভাসিটি পড়ুয়া একটা ছেলে যখন হন্যে হয়ে ছোট একটা চাকরীর খোঁজে বাতাস কেটে দৌড়াশ, বাস্তবতা তখন তার কঠিন রূপ ধারণ করে। আর ছেলেটা মধ্যবিত্ত হলে তো কথাই নেই।

আমার প্রিয়তমা আবার বড্ড মেজাজী। চাকরী নেই বলে আমাকে ব্লক দিয়ে দিয়েছে সবকিছু থেকে। কষ্ট পাইনি। পরে তার এক বান্ধবীর কাছ থেকে শুনি, বাবার পছন্দ করা বিসিএস ক্যাডার ছেলেটার সাথে বিয়ে হয় তার। টাকার প্রেমে পড়ে যায় সে। আসলে, দশ টাকার বাদামে কারো সাথ কেউ কেন থাকবে!

বাবাও দেখি অসুস্থ হয়ে গেছেন। মনে হয়না সংসারের হালটা আর ধরুক তিনি। আমাকে কিছু একটা করতে হবে। বারবার ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ সিদ্ধান্ত নিই কায়িকশ্রমে যোগ দেব। হঠাৎ একটা কোম্পানি থেকে ফোন আসে,

“স্যার, কোম্পানির সুপারভাইজার পদে আপনাকে সিলেক্ট করা হলো। দয়া করে ইমেইল চেক করে সবকিছু বুঝে নিবেন এবং সামনের মাসের এক তারিখ থেকে অফিসে জয়েন করবেন। ধন্যবাদ।”

খুশিতে একটা বৈদ্যুতিক শক অনুভব করি আমি। ওই মুহুর্তের খুশি আমি কখনো ভুলবোনা…

তড়িঘড়ি করে আধা কেজি মিষ্টি কিনে বাসায় যাই। মাকে ডাক দেই। মা জবাব দেননা। খুব উৎফুল্ল চিত্তে বাসায় প্রবেশ করি। করতে না করতেই ছোটবোন দৌড়ে এসে আমার চোখে হাত দিয়ে বলে, “ভাইয়া, ধীরে ধীরে আসো ভিতরে।”

মাঝের রুমে ঢুকতেই সে আমার চোখ থেকে হাত সরিয়ে নেয় এবং ওই মুহূর্তে আমি আরো একটা শক খেয়ে যাই..

ওইদিন ধুমধামের সাথে আমার জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছিলো..]]

এরপর আর কিছু পাওয়া যায়নি। শুধু কয়েকটি শুকনো গোলাপে ভরা ছিলো একটি পাতা।

একটা জিনিস বোঝা গেলোনা। এত হাসি-খুশির মধ্যে থেকেও কেন তুহিন সুইসাইড করলো। এটা মেনে নেওয়া যায়না। তদন্ত চলতেই থাকে… যতদিন না পর্যন্ত সুমাইয়ার খোঁজ পাওয়া গেল।

Continue Reading

গল্প

প্রথমে দেখা তারপর ভালোবাসা তারপর বিয়ে

Rahat Bin Omar

Published

on

অন্য প্রেমের গল্প

পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষের জীবনে কোনো না কোনো গল্প থাকে। আজকে আমি আমার ভালোবাসার গল্প বলব।

আমি তিতির, বয়স বত্রিশ, এখনো অবিবাহিতা।এ নিয়ে বহু লোকের মাথা ব্যথা যে আমার বয়স বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু আমি বিয়ে করেছি না কেন? আমি কিন্তু কাউকে ভয় পাইনা। মুখের উপর জবাব দিই- “আমি শিক্ষিতা, সাবলম্বী, প্রাপ্তবয়স্কা, তাই আমার ভালোমন্দ বিচার করা বা নিজের সিদ্ধান্ত নিজে দেওয়ার ক্ষমতা আছে‌ আমার। আমাকে নিয়ে না ভাবলেও চলে।”

Place your ad code here

কিন্তু যখন ফাঁকা পার্কে গিয়ে একা বসে দেখি, ছোট ছোট প্রেমিক প্রেমিকারা নিজেদের হাত শক্ত করে চেপে এগিয়ে যাচ্ছে, কিম্বা যখন ভিড় বাসে দেখি কলেজ পড়ুয়া প্রেমিক তার প্রেমিকাকে দু’টো হাত দিয়ে বাইরের ভিড় থেকে নিজের কাছে আগলে রেখেছে, তখন আমার মনে হয় ইশ যদি আমারো এইভাবে একজন ভালোবাসার মানুষ থাকতো!
কিন্তু মনে হলে কি হবে আমি যে ভীষণ অভিমানী।

আজকাল আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে যখন দেখি, মনে হয় আর কয়েকবছর পর বার্ধক্য আসবে আমার, আস্তে আস্তে হারিয়ে যাবে যৌবন, কি জানি কেন বড় ভয় হয় আমার। এখন তো উনিশ কুড়ি বছরের ছেলেরাও আমাকে দিদি না বলে আন্টি বলেই ডাকতে শুরু করেছে। আর হবে নাই বা কেন, বছর দশেক আগের কলেজের সবচেয়ে স্মার্ট প্রাণবন্ত মেয়েটা যে আজ বড় বেরঙিন বেমানান সবার কাছে। জিন্স, টপ, কুর্তি ছেড়ে এখন‌ সালোয়ার পাজামা ধরেছি, চোখে কাজলের পরিবর্তে এখন থাকে মোটা ফ্রেমের চশমা, আর খোলা ঢেউ খেলানো চুলের বদলে এখন আমার চুল থাকে হাল্কা বিনুনিতে বাঁধা। আমার এতো পরিবর্তন মেনে নিতে পারে না অনেকেই, কিন্তু আমার আর নিজেকে সুন্দর করে সাজাতে ইচ্ছেই করে না।

এখনো রোজ রাতে একটা মুখ মনে পড়ে আমার, পাঁচবছর আগে শেষ দেখেছিলাম ওকে। চেঁচিয়ে কেঁদে উঠতে ইচ্ছে করে মাঝেমাঝে। তারপর নিজেকে বোঝাই ও এখন অন্যকারো স্বামী, হয়তো বাবাও হয়েছে। কিন্তু আমি ভুলতে পারিনি আমার জীবনের প্রথম আর শেষ ভালোবাসা দীপ্তকে। মনে পড়ে কলেজের সবার জানা ছিল আমার আর দীপ্তর বন্ধুত্বের কথা‌‌। আমি যে দীপ্তকে পছন্দ করি সেটা অনেকেই জানলেও দীপ্তর মনের কথা কেউ জানতেই পারেনি। দীপ্তকে আমি একেবারে নিজের ভাবতাম। কোনো মেয়েকে দীপ্তর সাথে কথা বলতে দেখলে খুব রাগ হতো আমার। আমি জানতাম দীপ্ত মেধাবী হলেও দীপ্তর বাড়ি গ্ৰামে, ওদের পরিবার আমাদের মতো স্বচ্ছল নয় তাও মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছিলাম ওকে। মনে মনে ভেবে নিয়েছিলাম দীপ্তও বুঝি আমাকে ভালোবাসে।

একবার সব বন্ধুরা মিলে গেছিলাম দীপ্তর বাড়ি। খুব ভালো লেগেছিল ছোট্ট গ্ৰামটাকে। আমি বলেছিলাম- “মনে হচ্ছে এখানেই থেকে যাই।”
আমার এক বান্ধবী মুচকি হেসে বলেছিল- “এখানেই তো থাকতে হবে তোকে।”
ওখানেই আমি প্রথম দেখি ছায়াকে। একটা শ্যামলা মেয়ে,পরনে আটপৌরে শাড়ি,আমাদের পোষাক দেখে হাঁ করে তাকিয়েছিল আমাদের দিকে। তারপর দীপ্তর মাকে জিজ্ঞেস করেছিল- “এরা বুঝি ওর শহরের বন্ধু?”
তারপর দীপ্তকে বলেছিল- “তোমার মেয়ে বন্ধুও আছে?” সেদিন আমি ছায়ার মুখে রাগ দেখেছিলাম। কিন্তু সেদিন এতোটা গুরুত্ব দিইনি।

আমার বয়স তখন পঁচিশ, দীপ্ত তখন চাকরি পেলো। আস্তে আস্তে কমতে থাকলো আমাদের দেখাসাক্ষাৎ। দু’বছর পর শুনলাম দীপ্তর বিয়ের খবর। অবাক হয়েছিলাম খুব, ভেঙে পড়েছিলাম মানসিকভাবে। আর এটাও বুঝেছিলাম প্রেমিক ভাবা মানুষটা আমার প্রেম বোঝেনি কখনো। বিয়েতে নিমন্ত্রণ করেছিল বটে, আমি যাইনি। অন্য বন্ধুদের মুখে শুনেছিলাম ওই ছায়াকেই বিয়ে করেছে দীপ্ত। মনে মনে অনেক ভেবেছিলাম ওই শ্যামলা গ্ৰামের মেয়েটার মধ্যে কি ছিল যা আমার মধ্যে ছিল না? অনেক ভেবেও উত্তর পাইনি, কিন্তু আর পারিনি কাউকে ভালোবাসতে। বাড়ি থেকে বিয়ের চেষ্টা করলেও আমি মত দিইনি, আসলে আর কারো সাথে সংসার করার কথা মনেই আসেনি।

সেবার ছোট ভাইঝিটার জ্বর হল। বৌদির কথামতো চাইল্ড স্পেশালিস্ট ডাক্তারের কাছে আমিই নিয়ে গিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু ওখানে অপেক্ষারত আরেকজন মানুষকে থেকে চমকে উঠে বিস্ময়ের সাথে বললাম- “দীপ্ত তুই এখানে?”
দীপ্ত বললো- “এইতো ছেলেকে দেখাতে এলাম।”
এবার লক্ষ্য করলাম ওর ছোট্ট ছেলেটার দিকে। আদর করে মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম- “কি নাম তোমার সোনা?”
কোনো উত্তর এলো না। দীপ্ত বিষন্ন মুখে বললো- “ও বলতে বা শুনতে পারে না।”
মনটা খারাপ হয়ে গেল আমার। ছায়ার কথা জিজ্ঞেস করলে জানলাম সন্তানের জন্মের সময়ই বাঁচানো যায়নি ছায়াকে। বললাম- “এখন কি এই শহরেই থাকিস?”
দীপ্ত আমার হাতে নিজের ঠিকানাটা দিয়ে বললো- “আমাকে এখন যেতে হবে বাবুকে নিয়ে। একদিন সময় করে চলে আসিস। আমি কিন্তু অপেক্ষায় থাকবো।”

বাবুর জন্য কিছু উপহার নিয়ে একদিন চলে গেলাম দীপ্তর বাড়ি, আগে থেকেই ফোনে জানিয়েছিলাম অবশ্য। আসলে প্রিয় মানুষটার জীবনের এতো কষ্ট যন্ত্রণা আমাকে অস্থির করে তুলেছিল। দীপ্তর প্রিয় চকোলেটটাও নিতে ভুললাম না। আমি গিয়েই অনেক গল্প করলাম দীপ্তর সাথে। জানলাম একবছর ধরে একাই আছে ছেলেকে নিয়ে। খুব চিন্তায় থাকে ও ছেলেটাকে একা রেখে অফিস গেলে। হঠাৎ দেখলাম একটা ছোট্ট হাত আমার আঙুল ধরেছে। বাবুকে দেখেই কোলে নিলাম। বাবু কিন্তু একটুও কাঁদলো না, চুপটি করে বসে আদর খেতে লাগলো। দীপ্ত বললো- “তুইতো ম্যাজিক জানিস তিতির। বাবু তো কারো কোলে যেতেই চায়না।”

ছুটির দিন দুপুরে দেখলাম দীপ্ত আমার জন্য রান্না করেছে ফ্রায়েড রাইস আর চিকেন কারি‌।হেসে বললো- “তোর প্রিয় খাবার দ্যাখ, এখন বানাতে শিখে গেছি।”
বাবু খেতে চাইছিল না। আমিই বললাম- “ছাড় এসব তোর কাজ নয়, আমিই খাইয়ে দিচ্ছি।”
দীপ্ত বললো- “এখনো বিয়ে করিসনি কেন তিতির? আর নিজের কি হাল করেছিস এটা?”
আমি দুঃখের হাসি হাসলাম।

এইভাবে মাস তিনেক কেটে গেল। অনেকবার গেছি ওদের ফ্ল্যাটে। আমি গেলেই বাবুর চোখেমুখে খুশি ঢেউ খেলে যায়। একদিন দীপ্তকে বললাম- “দীপ্ত আমাকে বাবুর মা হবার অধিকারটা দিবি রে? বড় মায়া পড়ে গেছে ছেলেটার উপর।”
দীপ্ত কাঁপা গলায় বললো- “তুই কেন এইভাবে নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে চাইছিস তিতির?”
আমি বললাম- “দীপ্ত আমি বাবুর মা হতে চাই।”
দীপ্ত সম্মতি জানাতেই বাড়িতে বললাম। বাড়িতে কেউ রাজি হল না প্রথমে। রেজিষ্ট্রি ম্যারেজ করলাম আমার। আমি মা হলাম বটে, স্ত্রীও হলাম আইনি মতে, কিন্তু সিঁদূরটা পেলাম না। আমার সিঁথি ফাঁকাই থেকে গেল। এখন আমার সময় কেটে যায় বাবুকে নিয়ে, এখন আমার দুনিয়া বাবু।

কয়েকমাস পরের ঘটনা। সেদিন আমার অফিসের ছুটি ছিল, দীপ্ত নিয়মমাফিক অফিস গেছিল, বাবু খেলছিল। দীপ্তর ঘর গোছাতে গিয়ে চোখে পড়লো দীপ্তর মোটা ডাইরিটা। এই ডাইরিটা কতোবার চেষ্টা করেছিলাম কলেজে পড়ার, কিন্তু দীপ্ত কিছুতেই দেয়নি। আজ সুযোগ পেয়ে যেন বাচ্ছা হয়ে গেলাম, পড়তে শুরু করলাম। এ আমি কি পড়ছি! আমার চোখে জলের ধারা‌‌।

দীপ্ত ফিরতেই ঘরে ডাকলাম। চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করলাম- “ভালোবাসিস আমায়?”
হাউমাউ করে কাঁদছে দীপ্ত, আশ্রয় নিলাম আমি ওর বুকে‌‌। আর ওর থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে ইচ্ছে করছে না আমার। সেবার হোষ্টেল থেকে ফিরে দীপ্ত শুনেছিল অনাথ ছায়াকে গ্যাংরেপ করে ফেলে রেখে গেছে কয়েকজন দুষ্কৃতী। সেই থেকে ছায়া থেকে গেছে দীপ্তর বাড়িতে। নির্দোষ ছায়াকে গ্ৰাম থেকে তাড়িয়ে দিতে চাইলে চাকরি পেলে দীপ্ত নিজে ছায়াকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছায়াকে বাঁচিয়েছে আর দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। তাই ওই ঘটনার পর আমাকে ভালোবাসলেও কখনো মুখ ফুটে বলতে পারেনি সে। আজ আমি অপেক্ষা করেছিলাম বলে আমার ভালোবাসার মানুষটাকে নিজের করে পেয়েছি। সে শুধু সৎ নয়, অনেক বড় মনের মানুষ। আজ আমার সিঁথি রঙিন। মন্দিরে এসে শপথ করেছি দু’জন একসাথে থেকে বাবুকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ করে তোলার।

Continue Reading

গল্প

বাস্তব জীবন নিয়ে কিছু কথা

Nusrat Jahan

Published

on

আসসালামু আলাইকুম,
সবাই কেমন আছেন,প্রথমে সবার সুস্হতা কামনা করছি। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে সুস্হ রাখুক।আমি আজ আমার দেখা একটা মানুষের কস্টের কথা শেয়ার আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

আমি তখন জব করতাম।একদিন গাড়ি করে চাকরিতে যাচ্ছিলাম।হটাৎ একটা সাতাশ কি আটাশ হবে মহিলা লিফট চাইলো আমি ড্রাইভারকে বললাম ভাইয়া ওনাকে নেন। ওনি ওঠে একটা হাসি দিল এ হাসির মাঝেও অনেক কস্ট লুকিয়ে ছিল।কস্টকে কাছ থেকে না দেখলে কখন বুঝা যায়না কস্ট কি জিনিস।ওনার সাথে কথা বলে বুঝতে পারলাম ওনি আর আমি একই ডিপার্টমেন্টে। শুনে ওনি আমি খুশি হলাম। পরিচয় নিলাম।এতটুকু পর্যন্ত খুশি ছিলাম। যখন শুনলাম ওনার হাজবেন্ড মারা গেছে বলার মত আর কিছু পাইনি।হা করে তাকিয়ে ছিলাম।কথা বলে জানতে পারলাম ওনার একটা ছেলে আর একটা মেয়ে আছে।

ছেলেকে হোস্টেলে রেখে পড়ালেখা করাচ্ছে আর মেয়ে দুবছর সাথে থাকে।মাঝে মাঝে মেয়েকে গাড়িতে ওঠার সময় দেখতাম পিছে পিছে কান্না করত যাবে যাবে বলে। অনেক কস্ট করে ছুটে আসত চকলেট এই সেই আনবে বলে। মাঝে মাঝে গাড়িতে ওঠে আমাদের কাছ থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে চোখ মুছত। আমি বুঝতাম কিন্তু সান্তনা দেওয়ার মত অবস্থা থাকতনা।একটা মা একটা বাচ্চার কাছ থেকে দূরে থাকা যে কত কস্ট তা মা হলে বুঝতাম না। ঈদের সময় মা ছেলে কথা বলছে।

Place your ad code here

ছেলে বলতছে মা তুমি কখন আসবে ছেলে জানেনা মা চাকরি করে। তো মা বলতেছে নতুন জামা নিয়ে আসবে। ছেলে বলতেছে জামা লাগবেনা তুমি আস একটা বাচ্চা কতটা অসহায় হলে মাকে খুজে। বলতেছে মা তুমি আসলে তোমার হাতে ভাত খাব। ওনি আর কথা বলতে পারছেনা কান্নার জন্য মাঝে মাঝে আল্লাহতায়ালার উপর অনেক রাগ হত কেন মানুষ কে এত কস্ট তিনি দেন আবার ভাবি হয়তো পরিক্ষা নিচ্ছেন।

ওনি কখন ভালো করে হাসতেন না। সবসময় হাসার চেস্টা করতেন। শুধু তাকিয়ে থাকতাম কিছু বলার ভাষা ছিলোনা। পৃথিবীতে কত রকম কস্ট নিয়ে মানুষ বেঁচে আছে তার হিসেব নেই। আমার জায়গায় আমি অসুখি ভাবি অন্য কেউ হয়তো সুখি।না আল্লাহ তায়ালা একেক জনকে একেক কস্ট দিয়ে রেখেছেন। তাও আমাদের শুকরিয়া আদায় করতে হবে। এতে হয়তো মঙ্গল লিখে রেখেছেন। আল্লাহ তায়ালার দরবারে কিছুর অভাব নাই তাও আমরা অনেকে অভাবি। হয়তো এতেও মঙ্গল আছে।

Continue Reading






গ্রাথোর ফোরাম পোস্ট