কিভাবে অথেনটিক অ্যাপল স্টোর কিংবা রিসেলার স্টোর খুজেঁ বের করবো?

অ্যাপেল ইঙ্কো বিশ্বের অন্যতম টেক জায়ান্ট। মোবাইল থেকে শুরু করে আই প্যাড, আইপড, ল্যাপটপ, হোমপড, পিসি, অ্যাপেল ওয়াচ, বেল্ট, এক্সেসরিসসহ নিত্য নতুন আধুনিক সব গেজেট। এসব এক্সেসরিজের মধ্যে হেডোফোন, এডাপ্টর, এয়ারপড, কভার, কিবোর্ডসহ অনেক পণ্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে Apple Store রয়েছে এছাড়া রয়েছে অ্যাপেলের রিটেইলার শপ। রিটেইলার শপের বাইরেও রয়েছে নানান শপ, যেখানে আনঅফিশিয়াল বা নকল নাম ব্যবহার করে অথোরাইজ দাবি করে। এ ধরনের পণ্য কেনা যেমন রিস্কের তেমন, যে কোন সমস্যায় কোন সমাধান সহজে পাওয়া যায় না।
বারকোড চেক করা, লক চেক করা সহ নানা সুবিধা দেয় একটি অথেনটিক অ্যাপেল স্টোর এবং রিসেলার Apple Store

কীভাবে যাচাই করবো স্টোরটি অথেনটিক কিনা এবং তারা কী সুবিধা দেয় এই সব নিয়ে আপনার অজানা জিনিস আজকের আলোচনা।

শপ এবং পণ্য অথেনটিক কিনা কীভাবে বুঝব?

আপনি যে প্রোডাক্ট কেনেন না কেন, পণ্য অথেনটিক হবার গুরুত্ব অস্বীকার করতে পারবেন না। নকল পণ্য কিনে ভেজালে পড়তে পারেন, সব সময়। এমনকি সেকেন্ড হ্যান্ড কিনেও বিপদে পড়তে পারেন, যদি পণ্য কোন খারাপ কাজে ব্যবহার হয় বা চুরি করা হয়। তাই সব পণ্য কেনার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন। যে পণ্য কিনছেন আর যেখান থেকে কিনছেন বা কিনবেন তা অথেনটিক কিনা।

পণ্যে অথেনটিক কিনা চেক করার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পণ্য কেনার আগে, পণ্যের সিরিয়াল নামবার, অ্যাপেলের ওয়েব সাইটে গিয়ে ইনপুট দেয়া। সেখানে যদি পণ্যটি রেজিস্টার্ড করা থাকে , কোন ধরনের কাটা ছেড়া প্যাকের গায়ে না থাকে তাহলে নিশ্চিন্ত হতে পারেন।

এছাড়াও খেয়াল রাখবেন, পণ্যগুলো লক করা কিনা, যদি পণ্যে কোন ধরনের লক থাকে, তাহলে বুঝবেন পণ্য বা শপ অথেনটিক না। কারণ অথেনটিক পণ্যে কোন লক থাকে না।

কিভাবে অথেনটিক অ্যাপল স্টোর কিংবা রিসেলার স্টোর খুজেঁ বের করবো?

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যাপেলের অনেক স্টোর আছে। বাংলাদেশে সরাসরি কোন Apple Store নেই। তবে বাংলাদেশেও অথেনটিক পন্য প্রোভাইড করে এরকম কিছু রিসেলার শপ আছে। এর মধ্যে আই সেন্টার, এমসিএস সল্যুশন বিডি, স্টারটেকসহ, আইস্টোক, অ্যাপেল গেজেট বেশ কিছু শপ। এরা সকলেই অথেনটিক পন্য প্রোভাইড করে থাকে। তবে এদের থেকে কিছুটা ভিন্ন এবং ভালো ডিল এম সি সলিউশন বিডি। এখন প্রশ্ন আসতে পারে কেন এম সি সলিউশন ব্যাতিক্রমি কিংবা ভালো ডিল? তবে প্রধান দুইটি কারনের মধ্যে একটি হচ্ছে সাশ্রয়ী মূল্য এবং অ্যাপেলের ইন্টারন্যশনাল ওয়ারেন্টি সাভির্স।

কোথায় কোথায় অ্যাপেলের শপ আছে এবং কোথায় কোথায় রিসেলার শপ রয়েছে?

ধানমন্ডি, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা ৬০ ফিট, আইডিবি ইত্যাদি সহ ঢাকার বাহিরেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে অ্যাপেল শপগুলো । রিসেলারের শপের মধ্যে অন্যতম বিশ্বস্ত হল আই স্টোর, স্টারটেক, এম সি এস সলিউশন এবং আরো কয়েকটি। বাংলদেশে সরাসরি অ্যাপেল স্টোর নেই, বেশ কিছু অথেনটিক এবং ভেরিফাইড রিসেলার শপ রয়েছে যারা অথেনটিক পন্য সরবরাহ করে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এই শপগুলো অ্যাপলপ্রেমীদের নানা ধরনের সার্ভিস দিয়ে আসছে। পণ্য কেনা থেকে সার্ভিস, সব পাবেন এক ছাতার নিচে।

অথেন্টিক শপগুলোতে কী ধরনের সুবিধা দেয়?

অথেনটিক রিটেইলার বা অথেনটিক অ্যাপেল শপে প্রথমেই যেটা আসে তা হলো অথেনটিক পণ্য নিশ্চিত। সিল্ড পণ্য এবং আফটার সেলস সার্ভিস। এছাড়াও পাবেন, অথেনটিক পার্টস রিপ্লেসিমেন্ট এর সুবিধা সহ ওয়ারেন্টি। কিছু ক্ষেত্রে পার্টস পরিবর্তন অথবা অন্য কোন হার্ডওয়ারের সমস্যা সমাধানে দেশের বাইরে পাঠায় এই রিটেইলার শপগুলো।

রিটেইলার শপ থেকে পণ্য কেনার সময় সিরিয়াল নাম্বার, আনলক কিনা, সেকেন্ড হ্যান্ড কিনা, চুরির পণ্য কিনা সব কিছু অনায়াসে চেক করে নিতে পারেন।

এছাড়া, আই ক্লাউডে একাউন্ট করা, একাউন্ট লক খোলা, অ্যাপেল পণ্যের জন্য প্রটেক্টর সব টুকটাক বাকী সব কাজে সব ধরনের কাজে অথেনটিক রিটেইলার শপ আপনাকে সাহায্য করবে।

সাধারনত ১ বা ২ বছরের জন্য ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে ভেরিফাইড শপ কিংবা রিটেইলার শপ গুলো। যেগুলো আনঅফিশিয়াল শপ কিংবা যে কোন র‍্যান্ডম শপে পাওয়া যাবে না।
যেহেতু বেশ কিছু অর্থ খরচ করে আপেলের মত হাইটেক এর পণ্য কিনবেন, তখন অবশ্যই আপনার শতভাগ নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে , পণ্য কিনবেন যাতে করে পরবর্তীতে কোন সমস্যায় না পড়া লাগে

শেষ কথা

বর্তমান বিশ্ব অ্যাপেলের উন্মাদনায় চলছে। অধিকাংশ মানুষের কাছে আই ও্যাচ, আই ফোন, আই পড, এয়ার বাড, আই প্যাড, ম্যাক বুক কিংবা আই ম্যাক ব্যবহার করেন। যদিও বাংলাদেশে কোন সরাসরি অ্যাপেল শপ নাই যার কারনে ক্রেতারা ক্রয়ের সময় একটু বিভ্রান্তিতে থাকে ক্রয়কৃত পন্যটা কি অথেনটিক? সেক্ষেত্রে কিছু অথেনটিক পণ্যের রিসেলার শপ রয়েছে যারা শতভাগ অথেনটিক পন্য নিশ্চিত করে থাকে তবে এর পাশাপাশি কিছু আনফিশিয়াল এবং নকল শপ ও আছে। তাই চেক না করে পণ্য ক্রয় করলে মহা বিপদেও পড়তে পারেন, টাকা-সময় নষ্ট সহ অনেক কিছুই ঘটতে পারে।

অবশ্যই যাচাই বাছায় করে নিতে ভুলবেন না। পণ্য কেনার আগে চেক করুন শপ এবং পণ্য অথেনটিক কিনা। সব খোঁজ নেয়া হয়ে গেলেই কিনে ফেলুন আপনার পছন্দের পণ্য। শপের আফটার সেলস সার্ভিস সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিবেন। আশা করি পছন্দের পণ্য কেনার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা হবে না আর আপনাদের। আপনাদের মতামত গুলো নিচের কমেন্ট বক্সে সংযুক্ত করুন। ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য।

Related Posts

মন্তব্য করুন