কেন TUF A15 সিরিজটিকে আন্ডার রেটেট বাজেট কিং বলে অ্যাখ্যায়িত করা হয়?

কোন জায়গায় যাওয়ার পূর্বে যেমনি আমরা জায়গাটা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই যাতে করে ট্রিপটি নষ্ট না হয়ে যায়, ঠিক তেমনিভাবে মোটা টাকা খরচ করে কোন ডিভাইস হোক ল্যাপটপ কিংবা মোবাইল বা ডেস্কটপ কেনার ক্ষেত্রেও আমাদের প্রয়োজন একটু যাচাই করে নেয়া। কারন একদিকে যেমন বাজেটের ব্যাপার আছে, অন্যদিকে আছে অভ্যস্ত হবার। যদি আপনি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কোন ডিভাইস কেনার কথা ভেবে থাকেন, তবে এই পোষ্ট আপনাকে সহয়তা করবে সেরা ডিভাইসটি খুজেঁ পেতে। আজকে আমরা কথা বলব আন্ডার রেটেট দুর্দান্ত একটি বাজেট ফ্রেন্ডলি ডিভাইস নিয়ে যেটি Asus TUF A15। এই পোষ্টে আমরা জানব কেন আমাদের TUF A15 বিবেচনা করা উচিত এবং কি বিশেষ বিষয় রয়েছে সিরিজটির মধ্যে। এছাড়াও A15 সিরিজটির ভেরিয়েন্টগুলোর বর্তমান বাজার মূল্য জানতে ভিজিট করতে পারেন – https://mcsolution.com.bd/gaming-laptop/asus-gaming/asus-tuf-a15/


সিপিউ, জিপিউ, র‍্যাম, স্টোরেজ এবং আনুষঙ্গিক আরো কিছু বিষয়ের উপর ভিত্তি করে Asus Tuf a15 সিরিজটির মূল্য নিধারন করা হয়েছে। মোটামুটি ১ লক্ষ থেকে শুরু হয় এর মূল্য, এইবার জানা যাক ল্যাপটপটি সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য ‍এবং কি রয়েছে এতে দেখে নেওয়া যাক

১। শক্তিশালী গেইম খেলা, লাইভ স্ট্রিমিং, এডিটিং করার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা বেশ স্বাচ্ছন্দবোধ করেছেন বলে জানা গেছে। রাইজেন ৫ বা ৭ বা ৯ থাকায় সব কিছু বেশ স্মুথলি কাজ করে। AMD Ryzen™ 7 4800H Mobile Processor (8-core/16-thread, 12MB Cache, 4.2 GHz max boost) , AMD Ryzen™ 9 4900H Mobile Processor (8-core/16-thread, 12MB Cache, 4.4 GHz max boost) এবং AMD Ryzen™ 5 4600H Mobile Processor (6-core/12-thread, 11MB Cache, 4.0 GHz max boost) এই তিনটি প্রসেসরের সাথে পাবেন। বর্তমানে ৭ এবং ৯ মডেলের ল্যাপটপ বেশি জনপ্রিয়। এ ক্ষেত্রে দামের কিছু তারতম্য ঘটবে।

২। একদম লেটেস্ট গ্রাফিক্সকার্ড থাকায় ল্যাগিং হয় না। অন্যদিকে রিফ্রেশ রেট এবং ফ্রেম রেট অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বেশ ভালো। NVIDIA® GeForce RTX™ 2060, 6GB GDDR6
NVIDIA® GeForce® GTX 1650 Ti, 4GB GDDR6, NVIDIA® GeForce® GTX 1660Ti, 6GB GDDR6,NVIDIA® GeForce GTX™ 1650 , 4GB GDDR6 এই গ্রাফিক্স কার্ডগুলো আপনার সুবিধা মত একটি বেছে নিতে পারেন।

৩। একবার চার্জ দিলে ব্যাটারী ব্যাকাপ সাধারন ভাবে ১২ থেকে ১৩ ঘন্টা ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে। ব্রাউজিং কিংবা গেম খেলার পাশাপাশি নিজের টুকিটাকি কাজের ক্ষেত্রে স্থায়িত্ব কম বেশি হতে পারে। ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ব্যাক আপ পাবেন যদি অফিশিয়াল টুকিটাকি কাজ করেন। তবে একটানা কাজ না করলে ব্যাটারির মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে।

৪। ডিস্পলে ১৫ ইঞ্চির ও বেশি হওয়াতে কাজের সুবিধা আছে। 144Hz রিফ্রশ রেট থাকার জন্য মুভি দেখা বা অন্য কাজে বেশ ভালো আনন্দ পাবেন। আর গেমিং এর জন্য এফ পি এস রেট তো দুর্দান্ত। যেমন অন্যতম জনপ্রিয় গেম জি টি এ ৫ এর ক্ষেত্রে এফ পি এস রেট ১১৭। যা অন্য অনেক ডিভাইসের চাইতে বেশি।

৫। পোর্ট এর ক্ষেত্রে দেখা আয় আজকাল ল্যাপটপগুলো তে পোর্টের সংখ্যা কম রাখার চেষ্টা করা হয়। সে তুলনায় এই ডিভাইসে প্রয়োজন মত পোর্ট এবং ড্রাইভার আছে। প্রতিটি প্রয়োজনীয় পোর্ট এবং ড্রাইভার আপডেটেড থাকায় ডিভাইস চালাতে কোন ধরনের সমস্যা দেখা যায় নি এখন পর্যন্ত। সব মিল্যে প্রায় ৬ থেকে ৭ টি প্রয়োজনীয় পোর্টের দেখা পাবেন এই ডিভাইসটিতে।

৬। ক্যামেরার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। কারো মতে ক্যামেরা বেশ ভালো , কারো মতে ৭২০ মেগা পিক্সেল বলা হলেও এর মান অতটা ভালো না। লাইফ স্ট্রিমিং এর ক্ষেত্রে ছবি বা ভিডিও তুলনামূলক কম রেজুলেশন এর হওয়াতে ভিজুয়াল এর ক্ষেত্রে কেউ কেউ কিছু অসুবিধার মুখোমুখি হতে পারেন। এই ক্যামেরার রেসুলেশন এই ডিভাইসের পয়েন্ট কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে।

৭। ১৫ ইঞ্চির ল্যাপটপের সাথে মিল রাখতেই এই ডিভাইসে আছে বেশ বড় আর স্বাছন্দ্যময় কিবোর্ড আর টাচ প্যাড। গেম খেলার ক্ষেত্রে হাতের মুভমেন্ট বেশ দ্রুত রাখা প্রয়োজন। অর্থাৎ বেশ হেভী ইউজ হয়, এই হেভী ইউজের ক্ষেত্রে এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলেও এই কি বোর্ড ব্যবহারে গেমাররা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের অসুবিধা ফেইস করেন নি। এটা অনেক বড় একটা গুণ।

৮। অডিও এর ক্ষেত্রে পাবেন বিল্ট ইন মাইক্রোফোন এবং স্পিকার। লাইভ স্ট্রিমিং, গেমিং, অনলাইন মিটিং এর ক্ষেত্রে সাউন্ড পাবেন একদম নয়েজ ফ্রি। অন্যদিকে ডিস্প্লেতে প্রয়োজনীয় সব সুবিধা থাকার দরুন বাফার ফ্রি, ল্যাগ ফ্রি আর ক্লিন স্ক্রিনে মুভি দেখতে পারবেন।

৯। নিজের সুবিধা অনুসারে একদিকে যেমন র‍্যাম বা রম বাড়াতে পারবেন, অন্যদিকে মেমরি ও প্রয়োজন মত সংযোজন করতে পারবেন। অতিরিক্ত মেমরি সংযোজনের জন্য এই ল্যাপটপে একটি আলাদা স্লট রয়েছে। এতে করে ডিভাইসের উপর বাড়তি কোন ধরনের প্রেশার পড়ে না। যেটা অবশই প্রশংসনীয়।

১০। উইন্ডোজ ১০ প্রো এর সাথে এলেও উইন্ডোজ ১১ ব্যবহারে কোন সমস্যা হয় না, যেহেতু এই ডিভাইসের কনফিগারেশন বেশ উচ্চমানের।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আমরা আলোচনা করলাম, যদিও এর বাইরে আরো অনেক সুবিধা এবং অসুবিধা আছে। যেমন সবাই একমত যে এত উচ্চমানের ডিভাইসে কোন ধরনের বায়োমেট্রিক নিরাপত্তার সুবিধা নেই। এতে করে চুরি বা মিসইউজের ক্ষেত্রে বেশ রিস্ক থেকে যায়।

অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কালার প্যানেলের ক্ষেত্রে কেউ কেউ কিছু অসুবিধা ফেস করেন। কারণ এটি কালার সেনসিটিভ নয়।

এই ডিভাইসের কালার, সিপিউ, জিপিউ, র‍্যাম, স্টোরেজ সব মিলিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আর আধুনিক জীবনের সাথে মানানসই। কোন কিছু শতভাগ পারফেক্ট হয় না, কিছু না কিছু কম বেশি থাকতে পারে। সব মিলিয়ে দাম এবং মানে এই ডিভাইস যে কোন কাজের জন্য যথেষ্ট এবং এই বাজেট এই স্পেক এর নিকটবর্তী অনেক মডেলের মাঝে দেখা যায় নি যার কারনে এটি বাজেট ফ্রেন্ডলি বা বাজেট কিং টাইটেল অজর্ন করার পিছনে প্রধান কারন। সব দিক থেকে বিবেচনা ল্যাপটপ সিরিজটিকে অর্থযোগ্য বলা যায়। আপনাদের মতামতগুলো আমাকে নিচের কমেন্ট বক্সে এ জানান। ধন্যবাদ

Related Posts

3 Comments

মন্তব্য করুন