নরমাল ডেলিভারি হওয়ার পর করণীয় কি?

আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আশা করি সবাই ভালো আছেন। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় আমিও ভালো আছি। আজকে আপনাদের সামনে নিয়ে এলাম নরমাল ডেলিভারি হওয়ার পর করণীয় সম্পর্কে একটি আর্টিকেল। আশা করি আপনাদের অনেক ভাল লাগবে।

একটি শিশুর জন্ম আমাদের সবার কাছেই অন্যন্ত খুশির বিষয়। প্রতদিন লাখ লাখ বাচ্চার জন্ম হয়। বাচ্চা জন্ম দেওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রসব বলা হয়ে থাকে। একে ডেলিভারিও বলা হয়। প্রসব করার অনেকগুলো উপায় রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত দুইটি হলো উপায় হলো নরমাল ডেলিভারি বা সাধারণ/প্রাকৃতিক প্রসব ও অপরটি হচ্ছে ইন্সট্রুমেন্টাল বা সিজারিয়ান ডেলিভারি। তো এই দুইটির মধ্যে পার্থক্য ও কি এবং কোনটি বেশি ভালো?

তো নরমাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে শিশু প্রাকৃতিক উপায়ে স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণ করে। এক্ষেত্রে সংকোচনের জন্য কোনো ওষুধ প্রয়োগ করা হয় না। কোনো বাইরে থেকে প্রেসার প্রয়োগ করা হয় না। অপরদিকে সিজারিয়ান ডেলিভারির ক্ষেত্রে বাচ্চার প্রসব মূলত ডাক্তারের উপর নির্ভর করে। পেটের মধ্যে একটি চিরা করা হয় যেটি সমস্ত পেশি ও টস্যুর মধ্যে দিয়ে কাটতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি ডাক্তার শিশুর কাছে না পৌঁছায়।

তো এ দুটির মধ্যে নরমাল ডেলিভারি সাধারণত বেশি ভালো ও নিরাপদ। কারণ অনেকক্ষেত্রে সিজারিয়ান ডেলিভারিতে মায়ের ক্ষতি হতে পারে এবং বৃদ্ধ বয়সে মায়েরা একদম শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।
নিচে আমরা নরমাল ডেলিভারি নিয়েই কথা বলতে যাচ্ছি। এর পূর্বে কি করবেন, পরে কি করবেন, কি নিয়ে সতর্ক থাকবেন ইত্যাদি।

নরমাল ডেলিভারির আগে করণীয়

ডেলিভারির আগে অবশ্যই নিজের যত্ন নিবেন। সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। এক্ষেত্রে সাধারণত যে সকল খাবারকে সুষম খাদ্য বলা হয় তা ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করুন। খাবারের তালিকায় ফলমূল ও শাকসবজি রাখবেন। খাদ্যে আয়রন, মাল্টিভিটামিন ও ক্যালসিয়াম রাখার চেষ্টা করবেন। সবচেয়ে ভালো হয় ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে খাদ্য তালিকা প্রস্তুত করুন। এর পাশাপাশি অবশ্যই যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান করুন। প্রতিনিয়ত ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করুন।

নরমাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে চাপ মুক্ত থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা অনেক চাপে ও ভয়ে থাকে যে কি হবে বিশেষ করে যাদের এটিই প্রথম ডেলিভারি। ভয় পাবেন না আর কোনো স্ট্রেস নিবেন না। নিজেকে হাসিখুশি রাখুন।
অনেকেই আছে যারা অন্তঃসত্ত্বা জানতে পারলেই আর কোনো কাজ করে না। সারাদিন বসে, শুয়ে কাটায়। এতে আপনার ওজন বেড়ে যেতে পারে। তাই বাসায় একটু হালকা কাজ করতে পারেন।

কিন্তু ভুলেও ভারি কিছু তোলা বা ভারি কিছু নিয়ে কাজ করবেন না। এতে যে শুধু আপনার শরীর ভালো থাকবে তা কিন্তু নিয় এতে আপনার সময়ও ভালো কাটবে। এর পাশাপাশি ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে কিছু ব্যায়াম করতে পারেন। আর সকালে হাঁটতে পারেন।

গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের সাথে সব কিছু শেয়ার করুন। আপনার কি খারাপ লাগছে, কেন লাগছে কোনো সমস্যা আছে কিনা। ডায়বেটিস ও প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডায়বেটিস বা প্রেসার থাকলে শুধু নরমাল ডেলিভারিই নয় সব ডেলিভারিই একটু কঠিন হয়ে যায়। এর পাশাপাশি আপনি অন্যান্য মায়েদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন। আর অবশ্যই নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যান।

নরমাল ডেলিভারি হওয়ার পর করণীয়

নরমাল ডেলিভারি হওয়ার পর করণীয়

ডেলিভারির পর মা এবং সন্তান উভয়ই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। তাই অবশ্যই মা ও শিশুর ভালো যত্ন করতে হবে। নরমাল ডেলিভারির ফলে মায়ের যো-নি-প-থে রক্তপাত হতে পারে এমনকি ক্ষতও হতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যান। যো-নি-প-থে-র ক্ষত সাধারণত প্রাকৃতিকভাবেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ডাক্তার চাইলে ও ঠিক মনে করলে হয়তো কিছু ওষুধ দিতে হতে পারে। মাকে ভালো ভালো খাবার দিন।

বিশেষ করে যেসব খাবারে অনেক পুষ্টি। সুষম খাবারের উপর জোর দিতে পারেন। চাইলে ডাক্তারের কাছ থেকেও পরামর্শ নিতে পারেন। আর শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ান। জন্মের যত দ্রুত পারেন খাওয়ান। মা ও সন্তান উভয়কেই সাবধানে রাখুন, বিশেষ করে বাচ্চাকে। বাচ্চার যাতে ঠান্ডা না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন। বাচ্চাদের খুব সহজেই ঠাণ্ডা লাগতে পারে এমনকি নিউমোনিয়া পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।

কি কি সমস্যা হতে পারে?

প্রসবের পরে নানা ধরণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সমস্যাগুলো সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় না। নরমাল ডেলিভারির পর আপনার পেটে খিঁচুনি উঠতে পারে। সাধারণত নারীদের ডেলিভারির কয়েকদিন পর ক্র‍্যাম দেখা দিতে পারে। মূলত পিরিয়ডের সময় মেয়েদের যেমন ব্যথা হয় সেই ব্যথাই হতে পারে। প্রসবের পর জরায়ু ফুলে যেতে পারে। এছাড়াও খাবারের অরুচিও হতে পারে।

সতর্কতাঃ প্রসবের পূর্বে, প্রসবের সময় ও পরে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আম আগেও বলেছি যে প্রসবের পর যো-নি-প-থে রক্তপথ হয় এমনকি ক্ষতও হয়। তো সেসময় ডাক্তার দেখাতে হবে ও তাকে সাবধানে রাখতে হবে। এছাড়াও রক্তশূন্যতাও হতে পারে। এর পাশাপাশি অনেক মায়েরা প্রসবের পর ডিপ্রেশনে পড়ে। তো তাকে মানসিক দিক দিয়েও সাপোর্ট করতে হবে ও তাকে চাপ দেওয়া যাবে না।

নরমাল ডেলিভারির পর জরায়ুর যত্ন

ডেলিভারির পর জরায়ুতে নানা ধরণের সমস্যা হতে হবে। সেসময়ে শরীরের সাথে সাথে জরায়ুরও যত্ন নিতে হবে। কিছু মাংসপেশি আছে যা জরায়ুকে এটির স্থানে ধরে রাখে। তো ডেলিভারির পর তার ক্ষতি হতে পারে৷ প্রসবব্যথা ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা হলেও জরায়ুতে ব্যথা করতে পারে। এক বছর বা তার চেয়ে কম সময়ের মধ্যে আরেকটি বাচ্চা নিলেও জরায়ুর কাঠামো দুর্বল হতে পারে। জরায়ুতে কোনো প্রকার সমস্যা হলে বা সমস্যা অনুভব হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। ডাক্তার কিছু ব্যয়াম দিতে পারে আবার অন্য কোনো চিকিৎসাও করতে পারে।

নরমাল ডেলিভারি হওয়ার পর করণীয় সম্পর্কে পোস্টটি কেমন লাগলো দয়া করে কমেন্টে জানাবেন, যদি ভাল লেগে থাকে তাহলে অবশ্যয় শেয়ার করবেন, পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এমন সব দারুন দারুন পোস্ট পেতে Grathor এর সাথেই থাকুন এবং গ্রাথোর ফেসবুক পেইজ ও ফেসবুক গ্রুপ এ যুক্ত থাকুন, আল্লাহ হাফেজ।

Related Posts