★ Grathor.com এ আপনিও ✍ লেখালেখি করে আয় করুন★Click Here★

হুমায়ূন আহমেদ এর ময়ূরাক্ষী বইয়ের রিভিউ।

বইয়ের নাম ঃ ময়ুরাক্ষি
লেখক ঃ হুমায়ুন আহমেদ
ধারাবাহিক ঃ হিমু
বিষয় ঃ হিমু, মহাপুরুষ
ধরন ঃ উপন্যাস
পৃষ্ঠা ঃ ৭৭
প্রকাশিত ঃ ১৯৯০
প্রকাশক ঃ অন্যান্য পাবলিকেশন
ময়ুরাক্ষি হলো হিমু সিরিজের প্রথম উপন্যাস । এই ময়ুরাক্ষি উপন্যাস এর মাধ্যমেই হিমু উপন্যাসটি আমাদের মাঝে আসে । ময়ুরাক্ষি হলো নদীর নাম । তবে বাস্তবে এই নামে কোনো নদী নেই। এই নদীটি আছে শুধুমাত্র হিমুর কল্পনায় ৷ ময়ুরাক্ষি উপন্যাস এর মুল চরিত্রে রয়েছে হিমু । হিমু চরিত্র টি বড়ই অদ্ভুত, অন্য সকলের থেকে আলাদা । হিমু অন্যদের মতো না আর সে অন্যদের মতো হতেও চাই না । সে সবাইকে বিভ্রান্তিতে ফেলতে পছন্দ করে । সে যা বলে তা করে না আর যা বলেনা তাই করে । ভবিষ্যত সম্পর্কে অনুমান করার বিশেষ শক্তি তার রয়েছে । সে ভবিষ্যৎ নিয়ে যা বলে তাই হয়ে যায়। তার বাবার প্রবল ইচ্ছা তাকে মহাপুরুষ বানাবে । হিমু যেমন ভবিষ্যৎ নিয়ে অনুমান করতে পারে ঠিক তেমনই তার ভাবনাতে ময়ুরাক্ষি নদীকেও আনতে পারে । একবার যদি এই নদী তার ভাবনাতে চলে আসে তবে সময় কাটানো তার কাছে কোনো ব্যাপার-ই না । এই নদী একেক সময় একেক রুপ ধারণ করে ঠিক তেমনি হিমুও একেক সময় একেক রুপ ধারণ করে । ময়ুরাক্ষি উপন্যাসটিতে হিমুর ছোটবেলার কিছু ঘটনা তার মায়ের মৃত্যু, বাবার মৃত্যু , তার বেরে উঠা এই বিষয় গুলো নিয়ে বলা হয়েছে । আরো বলা হয়েছে কিভাবে হিমুর সাথে রুপার প্রথম দেখা হলো । হিমু কারো কাছে খুবই প্রিয় আবার কারো কাছে খুবই অসহ্যকর । এই সব বিষয় গুলোর উপর-ই ময়ুরাক্ষি উপন্যাসটি রচিত আর সাথে হিমুর অন্যকে বিভ্রান্তিতে ফেলার আরো মজার মজার ঘটনা তো রয়েছেই ।
চরিত্র সমূহ ঃ
★চৌধুরী খালেক্কুজামান টুটুল / চৌধুরী ইমতিয়াজ টুটুল – হিমু
★মীরা – জাস্টিস এম. সোবাহানের মেয়ে
★বাদল – হিমুর ফুফাতো ভাই
★রিনকি -বাদলের বোন
★ এজাজঃ রিনকির স্বামী
★রুপা – হিমুর বান্ধবী
★মজিদ – হিমুর বন্ধু
সংক্ষিপ্ত কাহিনী ঃ হিমু বাবার ইচ্ছা ছিলো হিমুকে মহাপুরুষ এর মতো করে তৈরি করবেন কিন্তু তার ইচ্ছা পুরুণের আগেই তিনি মারা জান । তবে ছেলের জন্য রেখে যান অনেক গুলো উপদেশ । তিনি হিমুর নাম রেখেছিলেন হিমালয় । হিমালয় থেকে হিমু! হিমু তার বাবার জন্য প্রথম থেকেই অন্যর থেকে আলাদা ছিলো আর তার উপর তার ছিলো ভবিষ্যত নিয়ে অনুমান করার বিশেষ শক্তি । হিমুর বাবা মারা যাবার পরে তাকে তার দাদার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো । তখনই হিমুর তার বাবার পরিবারের সদস্যদের সাথে প্রথম দেখা কারণ হিমুর বাবা এই পরিবার ছেড়েছিল অনেক আগে । তার জীবনটা ছিলো যাযাবরদের মতো । হিমুর বাবা তার মৃত্যু আগে বলে গেছেন হিমুকে যাতে তার মামার বাড়িতে রেখে আসা হয় সে যেন তার দাদার বাড়িতে না থাকে । কিন্তু হিমুর দাদা হিমুকে প্রথমে দিতে রাজি হয় নি তবে পরে দিতে বাধ্য হয়েছেন । এরপরে হিমু বড় হতে থাকল তার মামার বাড়িতে । হিমুর মামার বাড়িতে ছিল প্রচুর স্বাধীনতা । কে কি করছে তা দেখার মানুষ নেই । সেই পরিবেশেই হিমু আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে । একটা সময় পরে হিমুর মামা মারা গেলে হিমু তার বড় ফুফুর বাসায় চলে যায় । পরের সময় গুলো সেখানেই কাটতে থাকে । সে একেক সময় একেক কান্ড ঘটাই । কেউ তার অন্ধ ভক্ত হয়ে যায় আর কেউ তাকে দুচোখে সহ্য করতে পারেনা ৷ সে একেক সময় একেক জনকে বিভ্রান্তিতে ফেলতো আর হাজারো রহ্যস্যের জাল বুনতো!
পাঠ প্রতিক্রিয়া ঃ
প্রথম থেকেই হিমুকে আমার খুব ভালো লাগে তবে কখনো কখনো আমি নিজেই বুঝতে পারি না যে সে আসলে কি চাই । কেউ তাকে অপমান করলেও তার গায়ে লাগে না । সে সত্যিই বড় অদ্ভুত , যখন সে প্রথম বারের মতো রুপাকে চিঠি লিখেছিল তখন সে লিখেছিল যে, “রুপা তুমি কেমন আছ? ” পুরো চিঠি জুড়ে শুধু এই একটা বাক্য দেখে রুপা যেমন অবাক হয়েছে তেমন অবাক হয়েছি আমিও । সে সবাইকে যেভাবে বিভ্রান্তিতে ফেলে তা দেখে মাঝে মাঝে আমিও বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় । তবে আমার একটা বিষয় খুব খারাপ লাগে সে রুপাকে অনেক অপেক্ষা করাই । অনেক কিছু করবে বলেও করে না আবার হুট করেই করে বসে । হিমুর বাবাকে আমার কেন জানি ভালো লাগে না । সে হিমুকে মহামনীষিদের মতো বানাতে চাই কিন্তু সে যেভাবে হিমুকে তৈরি করতে চাচ্ছে তার ধরন আমার মোটেও পছন্দ ছিলো না । আমার মতে তিনি একটু বেশিই নিষ্ঠুর আর উম্মাদ ছিলেন । তবে সব মিলিয়ে উপন্যাস টা খুব সুন্দর ছিলো । কখনো কখনো হিমুর কাজ কর্ম দেখে অবাক হয়েছি তো কখনো কখনো প্রচুর হেসেছি । তার ময়ুরাক্ষি নদীটা নিশ্চয় খুব সুন্দর ছিলো!
চরিত্র বিশ্লেষণ ঃ
★ হিমু ঃ হিমু চরিত্রের প্রধান চরিত্র হিমু ছিলো খুবই রহস্যময় ৷ অন্যকে বিভ্রান্তিতে ফেলা তার স্বভাব ছিলো । সে হয়তোবা তার বাবার মতো ছিলো তবে তার বাবার মতো নিষ্ঠুর না ৷ লম্বা চুল লম্বা দাড়ি, আলাদা একটা ভাব নিয়ে চলতো সে আবার হুট করেই নিজের এই রুপ বদলেও ফেলতো ৷ অনেকেই হিমুকে বুঝে উঠতে পারে না । হয়তোবা কখনো পারবেও না ।
★রুপা ঃ রুপা নামের এই মেয়েটা ছিলো হিমুর কাছে পরীর মতো । রুপা হিমুর বান্ধবী । অভিমানী অপেক্ষারত এক নারী যার পুরোটাই ছিলো ভালোবাসাতে পরিপূর্ণ!
★মজিদ ঃ হিমুর সবচেয়ে পছন্দের মানুষ গুলোর মধ্যে একজন ছিলো মজিদ । মজিদ হিমুর পছন্দের হওয়ার কারণ হলো মজিদ অনুভূতিহীন ৷ কোনো কিছুতেই তার কোনো যায় আসে না । কোনো চাওয়া নেই কোনো পাওয়া নেই! খুবই সাধারণ একটা জীবন তার । সে কখনো অবাক হয় না , কান্না করে না, কোনো বিষয় নিয়ে মাতামাতিও করে না । আর হিমুও তার মতোই হতে চাই,, অনুভূতিহীন
★বাদল ঃ বাদল হলো হিমুর অন্ধ ভক্ত । হিমু যা বলবে তার কাছে সেটাই ঠিক। হিমু যা করবে সেও তাই করবে ৷ তার সবথেকে পছন্দের মানুষটি ছিলো হিমু আর সে হিমুর মতোই হতে চাই ।
হিমুর কিছু কথা ঃ
১. আমি মহাপুরুষ নয়। আমি ক্রমাগত মিথ্যা কথা বলি । অসহায় মানুষের কষ্ট আমাকে অভিভূত করে না ।
২. আমার সবাই তো আমাদের পাপের কথা স্বীকার করি ৷ আমার মতে মহাপুরুষ হলো এমন কেউ যাকে পৃথিবীর কোনো মালিন্য স্পর্শ করে নি ।
৩.আমাকে তো আর দশটা ছেলের মতো সাধারণ হলে চলবে না । আমাকে হতে হবে অসাধারণ । আমি সারাদিন হাটি । আমার পথ শেষ হয় না । গগন্তব্যহীন যে যাএা তার কোনো শেষ থাকার তো কথাও না ।