★ Grathor.com এ আপনিও ✍ লেখালেখি করে আয় করুন★Click Here★

৬ষ্ঠ শ্রেণির এ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন ও উত্তর কৃষি শিক্ষা (৬ষ্ঠ সপ্তাহ)

আসসালামু আলাইকুম, আপনি কি কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের আলোকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির কৃষি শিক্ষা এ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন খুজতেছেন? এই পোস্ট এ ৬ষ্ঠ শ্রেণির কৃষি শিক্ষা এ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন আপনাদের সুবিধার্থে একটি উত্তর লিখে দিব।

উত্তর হুবুহু কপি না করে ধারণা নিয়ে লেখার অনুরোধ রইল।

প্রশ্ন-



প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রিনা বেগম ২০২০ সালে নিকলী উপজপলায় অনুষ্ঠিত ‘কৃষি মেলা’ দেখতে যান। তিনি মেলায় প্রদর্শিত
কৃষি জাত পণ্য, বিভিন্ন ফসলের নানা জাতের চারা ও গাছের উন্নত ফলন দেখে
কৃষি কাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে
নিজের পৈত্রিক জমিতে কৃষি কার্যক্রম
পরিচালনা করতে আগ্রহী হন। কুষি
কার্যক্রম পরিচালনা করতে রিনা বেগম অভিজ্ঞ
কৃষক, কৃষি শিক্ষা,কৃষি গবেষণা, কৃষি তথ্য ও
সেবা প্রাপ্তির উৎসগুলো কিভাবে
কাজে লাগাবেন? নিচের প্রশ্নগুলাের
উত্তরের মাধ্যমে তোমার মতামত উপস্থাপন কর-

১। রিনা বেগম কৃষি মেলায় কী কী
কৃষিজাত পণ্য দেখতে পেয়েছিলেন?

২। তার কৃষিকার্যক্রম বাস্তবায়নের
জন্য কাদের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পেতে পারেন।

৩। কৃষি বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ ও গবেষণা করতে কোন কোন প্রতিষ্ঠান
ভূমিকা রাখতে পারে?

৪/একজন অভিজ্ঞ কৃষক কিভাবে রিনা বেগমকে সহায়তা করতে পারে?

৫/একজন কৃষক ও কৃষি বিজ্ঞানীকে তুমি কি আলাদা মনে করো?

১/

রিনা বেগম কৃষি মেলায় বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্য দেখতে
পেয়েছিলেন।

১/কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি, কৃষি উপকরণ ও উৎপাদিত
কৃষিপণ্য একসাথে একমাত্র কৃষি মেলার মাধ্যমে দেখা
সম্ভব।

২/এ মেলায় এক নজরে নানা ধরনের ফসল দেখা সম্ভব মেলায় নানা লিফলেট,বুলেটিন,পত্রিকা প্রচলিত হয়।এই মেলায় চারা, বীজ, সার, কৃষি প্রযুক্তি ইত্যাদি
দেখানাে ও বিক্রি করা হয়।

৩/কৃষি বিষয়ক লিফলেট,
পুস্তিকা, বুলেটিন, পত্রিকা প্রদর্শিত হয় এবং
বিনামূল্যে দর্শকদের দেয়া হয়।
এতে কৃষি কার্যক্রমে
জড়িত ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও উপস্থিত দর্শকগণ ও কৃষি
কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হন।

২/

রিনা বেগম তার কৃষি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য অনেকের
নিকট থেকে প্রয়ােজনীয় তথ্য ও সেবা পেতে পারে।

অভিজ্ঞ কৃষক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ
অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও
কর্মচারীরা কৃষি বিষয়ক তথ্য ও সেবা দিয়ে থাকেন।

৩/

কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান :

বাংলাদেশে অনেকগুলাে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বেশিরভাগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানই নির্দিষ্ট ফসলের উপরে গবেষণা করে থাকে। যেমনঃ বাংলাদেশে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট
ধানের উন্নত জাত ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা করে। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট
পাট উন্নয়নের জন্য যাবতীয় গবেষণা করে। বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট ইক্ষু উন্নয়নের জন্য
যাবতীয় গবেষণা করে থাকে। বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউট
বিভিন্ন ফসলের উপর গবেষণা করে।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রাপ্ত মেধাবী কৃষিবিদগণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহে যােগদান করেন। তারা গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে নিজেকে নিয়ােজিত রাখেন। এর ফলে কৃষকেরা উন্নতমানের
ফসলের বীজ, নতুন জাত, রােগ ও কীটপতঙ্গের প্রতিকারসহ নানা প্রযুক্তি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছেন।
ফসল সম্পর্কিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও প্রাণী ও মাছের উপর গবেষণার জন্য রয়েছে বাংলাদেশ
প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। এই গবেষণার ফলে প্রাণী পালন ও মাছ
চাষের অনেক প্রযুক্তি উদ্ভাবন হয়েছে। এর ফলে প্রােটিন ব্যবসার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। সকল কৃষি গবেষণা
প্রতিষ্ঠান থেকে গবেষণার ফলাফল সম্পর্কিত লিফলেট, পুস্তিকা প্রকাশ করে জনগণকে অবহিত করা হচ্ছে।

৪/একজন অভিজ্ঞ কৃষক রিনা বেগমকে নানা ভাবে সহায়তা করতে
পারেন।

অভিজ্ঞ কৃষক একজন স্থানীয় নেতা এবং একজন
পরামর্শদাতা।
তিনি স্বতঃস্ফুর্ত হয়ে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের
সাথে যােগাযােগ রাখেন ও নতুন নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে
খোঁজখবর নেন।
এছাড়া তিনি গণমাধ্যম থেকে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন।
তিনি স্থানীয় তথ্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত লাভ করেন।
অভিজ্ঞ কৃষকেরা কৃষি জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করেন।
অতঃপর তিনি নিজ এলাকার কৃষকদের কৃষি বিষয়ে পরামর্শ
দান করেন।
কৃষকেরা ফসল নিয়ে নানা সমস্যায় ভােগেন। যেমন-ফসলের রােগ হওয়া, কীটপতঙ্গ আক্রমণ করা, বন্যা ও
খরা দেখা দেওয়া ইত্যাদি।
এইসব প্রতিকূল অবস্থার মোকাবিলা করার জন্য প্রাথমিকভাবে কৃষকরা অভিজ্ঞ কৃষকের দ্বারস্থ হয়ে থাকেন।
আর তিনিও আন্তরিকভাবে যতটুকু জানি সে মোতাবেক কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

৫/ একজন কৃষক ও একজন কৃষি বিজ্ঞানী এক নয়।

একজন কৃষক কেবল কৃষিকাজ করেন। কিন্ত তার ফসলের জন্য কোন উপাদানটি কি পরিমাণে লাগবে কিংবা সঠিক সময়ে কখন ব্যবহার করবেন সে সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে পারেন না।
ফসলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য কারো নিকট তাকে দ্বারস্থ হতে হয়। পক্ষান্তরে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে যিনি গবেষণা করে নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন তিনিই কৃষি বিজ্ঞানী। তিনি একটি ফসল ও এর জীবনচক্র সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন এবং এর নিকট কৃষিবিষয়ক ব্যাখ্যা থাকে। আর নতুন ফসল ও শ্রেণীর উৎপাদন ও সংরক্ষণ পদ্ধতি উদ্ভাবন করে দেশের জনগণ কে সহায়তা করে।

সবাই ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন।

ধন্যবাদ।

আর সকল শ্রেণির এ্যাসাইনমেন্ট সমাধান পেতে grathor.com এর
সাথেই থাকুন।