★ Grathor.com এ আপনিও ✍ লেখালেখি করে ভূমিকা রাখতে পারেন এবং পাশাপাশি অর্থ আয় করতে পারেন★এখানে ক্লিক করে বিস্তারিত জানুন★

কম্পিউটারে সেরা অন্যতম ফ্রি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার কোনগুলো তা জেনে নিন এখান থেকে।

বর্তমান সময় আমাদের কম্পিউটারে ব্যবহারে জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে। কম্পিউটার আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। সময়ের পরিবর্তনে প্রযুক্তির এক বিশাল অগ্রগতি সাধন হয়েছে, আর এই প্রযুক্তির এক বিশেষ অবদান হচ্ছে কম্পিউটার। কম্পিউটার আমাদের বর্তমান জীবন ব্যবস্থায় এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যা বলে শেষ করা যাবে না এখন কম্পিউটারের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ কর্ম হাসিল করা হয়ে থাকে। স্কুল , কলেজ, বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এখন কম্পিউটারের মাধ্যমে তাদের কাজ কর্ম পরিচালনা করে থাকে। আমাদের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি চাকরি লাভ করতে গেলে কম্পিউটার সম্পর্কে ধারণা থাকা বিশেষ গুরুত্বপূ্র্ণ হয়ে উঠেছে। এটির যথাযথ ব্যবহার পদ্ধতি না জানলে আমাদের চাকরি থেকে বঞ্চিত হতে হয়। আর এই আধুনিকের যুগের সাথে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে গেলে এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা থাকতে হয়। তবে দিন যত যাচ্ছে এর ব্যবহার বৃদ্ধি অনেক বেড়েই চলছে, মানুষ বেশিভাগ কাজ কর্মে যেমন এটি ব্যবহার করে চলছে তেমনি এখন মানুষের বাসায় বাসায় এটি লক্ষ্য করা যায়। আর এজন্য কম্পিউটার আমাদের জীবনের চলার পথের সাথে যুক্ত হয়ে গেছে। আমরা এই কম্পিউটার দিয়ে অনেকই অনেকভাবে কাজ করে থাকি, এখানে তো কাজের শেষ নেই, সমস্ত কাজের জন্য এখানের বিভিন্ন নামি দামী সফটওয়্যার সমূহকে গুরুত্ব দিতে হয়। নির্দিষ্ট কাজের জন্য নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের দরকার হয় এবং সেই সব সফটওয়্যরের দ্বারা আমারা সেই সমস্ত কাজ হাসিল করে থাকি।  তাই এতো কিছু কাজের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ যা ভালো সফটওয়্যারের মাধ্যমে করতে হয়। এটি দিয়ে আমরা আমাদের মোবাইল বা ক্যামেরার সাহায্যে করা যেকোন ভিডিও কম্পিউটার মাধ্যমে সেটিকে আরও উন্নত এবং আমরা আমাদের ইচ্ছা মতন সুন্দর করে সাজিয়ে নিতে পারি, আমারা যেভাবে খুশি ভিডিওটি এডিটিং করে বানাতে পারি। আর এই কাজ গুলো এখন  অনেকেই করতে লক্ষ্য করা যায় কেননা এখন ছবি তোলা ও ভিডিও করা কাজের জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে। কিন্তু কম্পিউটারের বেশ কিছু প্রফেশনাল ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার রয়েছে যেগুলোতে কাজ করতে গেলে আমাদেরকে টাকা খরচ করে কিনে নিতে হয়, আর না নিলে সেগুলো সফটওয়্যার কাজ করে না। তবে বেশ কিছু সফটওয়্যার আছে যা আপনি একদম ফ্রি ভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। সেগুলোতেও আপনি আপনার ইচ্ছে মতন ভিডিও গুলো সাজিয়ে নিতে পারবেন। যদিও অনেক হাই কোয়ালিটির কাজ করতে গেলে আপনাকে সেই সফটওয়্যার গুলো টাকা দিয়ে কিনতে হবে কিন্তু এখন আপডেট করাতে আপনি এগুতেও কিছু হাইকোয়ালিটির কাজও করতে পারবেন। আর আমরা হয়তো অনেকেই জানি না সে সফটওয়্যার গুলোর নাম কি? তাই আজকের আমার আর্টিকেলটি লেখা তাদের জন্য যারা কম্পিউটারের ফ্রি ভিডিও এ্ডিটিং সফটওয়্যার খুঁজছেন। নিচে সেই সব সফটওয়্যার সম্পর্কে আলোচনা করা হল:

আপনি যদি আপনার একটি ভিডিওকে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী রুপ দিতে চান তাহলে আপনাকে একটি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার তো অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। একটি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যারের সাহায্যে আপনি আপনার ভিডিওর প্রয়োজনীয় ফুটেজ বা ক্লিপস টি রেখে যেরকম খুঁশি বাকি ফুটেজগুলি সরিয়ে দিতে পারবেন। আপনার ইচ্ছে মতন আপনি 2D 3D এফেক্ট, ফিল্টার, ট্রানসেকশন, কালার গ্রেডিং, সাউন্ড ডিজাইনিং, এবং আরও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করতে পারবেন একটি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে। তবে আমরা যেসকল সফটওয়্যার সম্পর্কে আপনাদের সাথে আলোচনা করব সেগুলো সর্বপ্রথম আপনাকে ইন্টারকানেকশন অন করে সেটিকে ডাউনলোড দিয়ে নিতে তারপর আপনি আপনার খুশি মতন এই  ফ্রি  সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

১. Openshot:

আমাদের প্রথম ভালো মানের ফ্রি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার হল এটি। ওপেন শট সাধারনত ফ্রি এবং ওপেন সোর্স ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার। এটি উইন্ডোজ  Macos এবং Linux এইসব প্ল্যাটফর্ম গুলিতে ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি বেসিক লিভলের এডিটিং থেকে সাধারন লিভেলের এডিটিং পর্যন্ত এডিটিং করতে পারবেন। এটিতে আপনি আপনার ভিডিও গুলো ভালো মতন সাজিয়ে যেমন ভাবে আপনি চান ঠিক তেমন ভাবে এডিটিং করে নিতে পারবেন। এখানে বিভিন্ন ভালো মানের টুলস আছে যা আপনাকে কাজে সহযোগিতা করবে। ওপেনশটের বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো হল:


• বিভিন্ন প্লাটফর্ম সাপোর্টেড।

• ফ্রি- ফ্রেম এমিনেশন।

• আনলিমিটেড ট্রেক ও লেয়ার।


• সাধারন সমস্ত ক্লিপ সাইজ, স্কেলিং, ট্রিমিং, স্নেপিং, রোটেশন এবং কাটিং।

• বিভিন্ন ট্রানসেকশন, রিয়াল টাইম প্রিভিউ করতে পারবেন।

• টাইটেল টেম্পলেট, টাইটেল ক্রিয়েকশন, এবং সাব টাইটেল।

• 3D অ্যানিমেশন টাইটেল।

• টাইম ম্যাপিং।

• সাউন্ড মিক্সিং এন্ড এডিটিং।

• বিভিন্ন ভিডিও এফেক্ট যেমন গ্রিন ব্লু ইত্যাদি করতে পারবেন।

এইসব কিছু আপনি এই সফটওয়্যারটির দ্বারা করতে পারবেন। এটি আপনি অনেক সহজ ভাবে করতেই পারবেন, কোন অসুবিধা ছাড়াই।

২. Shotcut:

ওপেনশটের মতনি একটি ফ্রি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার এটি। এটিও অনেক ভালো মানের ভিডিও আপনি চাইলে আপনার ইচ্ছে মতন এডিটিং করতে পারবেন। কিন্তু শটকাটের ইন্টারফেস লে আউট অনেক অ্যাডভান্স স্টাইলিস। আপনি এখানে HD কোয়ালিটির আপনার নিজের ভিডিও এডিট ও এক্সপোর্ট করতে পারবেন। এখানে আপনা ভিডিও এডিটিং করতে এর সমস্ত টুলস নিয়ে কোনো অসুবিধায় পড়তে হবে না। এই সফটওয়্যারটিও ফ্রি সফটওয়্যারের তালিকায় সেরা হয়ে আছে। এটিরও কিছু বৈশিষ্ট্য আছে তা নিচে তুলে ধরা হল:

• বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম সাপোর্টেড।

• বিভিন্ন ফাইল ফরমেট সাপোর্টেড।

• এইচডি ও ফরকে রেজুলেশন এক্সপোর্ট।

• নেটওয়ার্ক স্ট্রিম প্লেব্যাক।

• এডভ্যান্স অডিও মিক্সিং এবং এডিটিং।

• অডিও ভিডিও মিক্সিং এবং এডিটিং ।

• অডিও বা ভিডিও স্পিড এফেক্ট।

• বিভিন্ন ভিডিও ট্রান্সসেকেশন।

• সহজ টাইম লাইন ট্রিমিং, ক্লিপ কপি কাট এবং পেস্ট।

• মাল্টিপেল ট্রেক এবং আনলিমিটেড আনডু ও বিডউ।

• ফ্রি- ফ্রেম সাপোর্টেড।

• ডিসপ্লে সাপোর্টেড।

• বিভিন্ন হার্ডওয়্যার সাপোর্টেড।

৩. Lightwork:

লাইকওয়ার্ক হল ফ্রি প্রফেশনাল ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার। এটি সেরা তালিকায় থেকে অন্যতম হয়ে উঠেছে। বর্তমান এই সফটওয়্যারটির অনেক জনপ্রিয়তা আছে। এটি দিয়ে মানুষ ভিডিও এডিটিং করে অনেক খুশি হয়ে থাকে, তারা তাদের মনের মতন ভিডিও এটির মাধ্যমে বানিয়ে নিতে পারে। এটির কিন্তু দুটি ভার্সন আছে একটি ফ্রি এবং অন্যটি পেইড। আমি এখানে এর ফ্রি ভার্সনটি নিয়েই কথা বলছি। লাইটওয়ার্ক সাধারনত বিভিন্ন মুভি বা হলিউড মুভি এডিট করার জন্য এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি এককথায় অনেক অসাধারন একটি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার। আপনি চাইলে সাধারন ভিডিও এডিটিং থেকে শুরু করে প্রফেশনাল ভিডিও এডিটিং সবই করতে পারবেন এখানে। এটির অসংখ্যা টুলস আছে আপনি গুগলে যেয়ে কিছু এমবি খরচ করে এটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। লাইটওয়ার্কের বৈশিষ্ট্য সমূহ নিচে আলোচনা করা হল:

• সমস্ত অপারেটিং সিস্টেম সাপোর্টেড।

• বিভিন্ন ফাইল ফরম্যাট সাপোর্টেড।

• ক্লিপ, রিসাইজ, স্কেলিং, ট্রেমিং, স্নেপিং, রোটেশন এবং কাটিং করতে পারবেন।

• এইচডি এমপি৪ ভিডিও এডিটিং করতে পারবেন।

• সিম্পল এবং স্টাইলস ইন্টারফেস।

• রেডি টু ইউস অডিও এবং ভিডিও এফএক্স।

• এইচডি কোয়ালিটি এক্সপোর্ট।

• কালার গ্রেডিং।

• ফ্রি – ফ্রেম ।

• বরিস ভিডিও এবং টেক্সট সাপোর্টেড।

• গ্রাফিক্স হার্ডওয়্যার সাপোর্টেড।

৪. VSDC:

এটি হলো একটি মল্টি ইউসিং ফ্রি প্রফেশনাল ভিডিও এডিটর সফটওয়্যার। এটি একটি নোন আইনার ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার যার অর্থ মুভি পসিবিলিটি এই সফটওয়্যার থেকে পাবেন। এটি অনেক জনপ্রিয় একটি সফটওয়্যার এটি দিয়ে এডভ্যান্স ভিডিও করার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন। এটি তে আপনি বিভিন্ন কোয়ালিটির ভিডিও যেমন: কোন অনুষ্ঠানের বা বিয়ের ভিডিও এডিটিং করতে অনেকে এটি ব্যবহার করে থাকে। বা যেকোনো ভিডিও আপনি এডিট করতে পারবেন। আর বিয়ের ভিডিও গুলো ভালো  অডিও সং ব্যবাহার করে সুন্দর করে সাজাতে এই সফটওয়্যারটি অনেক জনপ্রিয় হয়ে থাকে তবে আপনি এখানে বিভিন্ন ছবি দিয়ে সুন্দর ডিজাইন করতে পারবেন যা আপনার ভিডিও কে করে তুলবে অনেক অনেক আকর্ষনীয়। আপনি সম্পূর্ণ ফ্রিতে এটি ব্যবহার করতে পারবেন। হয়তও কিছু এমবি খরচ করে আপনাকে সফটওয়্যাটি কম্পিউটারে নামিয়ে নিয়ে ইনেস্টল দিয়ে নিতে হবে। এখানে আপনার প্রয়োজন মতন যথেষ্ট ফিচার ব্যবহার করে কাজ করতে পারবেন্। এটি বর্তমান অন্যতম সেরা একটি ফ্রি ভার্সন মূলক কম্পি্উটারের ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার। এর কিছু বৈশিষ্ট্য নিছে তুলে ধরা হল:

• এইচডি হাই কোয়ালিটির ভিডিও্ এক্সপোর্ট।

• গ্রীন স্কিন এফেক্ট বা ক্রোমা কি।

• মাস্কিং।

• মোশান ট্রাকিং ।

• ভিডিও স্টেবিলাইজেশন টুল।

• ইন বিল্ড স্ক্রিন ক্যাপচিং।

• কালার গ্রেডিং।

• ভিজ্যুয়াল এবং অডিও ইফেক্ট।

• বিভিন্ন ট্রান্সসিকেশন অডিও ইফেক্ট।

৫. Video Pad :

Video Pad সাধারনত একটি ফ্রি প্রফেশনাল মুভি মেকিং এবং খুব ভালো ভিডিও এডিটিং করতে পারে এই সফটওয়্যারটি্। এটি একটি সিম্পল, স্ট্যাবল, এবং হালকা ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার যার ফাইল সাইজ অনেক কম অর্থৎ আপনার কম্পিউটারের উপর বেশি চাপ পড়বে না আপনি খুব দ্রুত এটির সাহায্যে কাজ করতে পারবেন। এটি বেশ কিছু টুলস আছে যা আপনাকে কাজে সহোযোগিতা করবে। এটির কিছু বৈশিষ্ট্য নিছে আলোচনা করা হল:

• হালকা এবং দ্রুত।

• ব্যবহারে সহজ ।

• অ্যাডভান্স ক্লিপ, রিসাইজ করন, টেক্সট এডিটিং, স্কেলিং, ট্রিমিং, স্নেপিং, রোটেশন,ও কাটিং।

• এইচডি সাপোর্টেড এবং এক্সপোর্র্ট কোয়ালিটির ।

• 3D ভিডিও এডিটিং ।

• স্পিড অ্যাডজাস্টমেন্ট।

• ভিডিও স্টেবিলাইজেশন।

• ৫০ টির বেশি ভিডিও ট্রান্সকেশন এবং ভিডিও ইফেক্ট।

এইসব সফটওয়্যার গুলো আপনি একদম ফ্রি ও খুব সহজেই ব্যবহার করতে পাবেন। আপনার ব্যবহার করতে কোনধরনের সমস্যা হবে না। আপনি আপনার ইচ্ছে মতন ভিডিও এগুলো সাহায্যে এডিটিং করতে পারবেন। আপনাকে শুধুমাত্র এগুলো ইন্টারনেটকানেকশনের মাধ্যমে ডাউনলোড করে নিতে হবে তারপর আপনি যেভাবে চান সেভাবে কাজ করতে পারবেন। আশা করি আমাদের আর্টিকেলটি আপনার ভালো লেগেছে আর যদি লেগেই থাকে তাহলে দয়া করে একটি শেয়ার করুন।

2 Comments

মন্তব্য করুন